বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

কুশান গুপ্ত

শীতের কবিতাগুচ্ছ


ফাটাও বিষ্টু

এবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,
পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।
আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,
নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,
বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব
সেই মেয়েটার,
সেই যার
জয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।
বাঁয়ে রাখো, বিষ্টুপদ, মেজাজ হারিও না,
যতক্ষন হারু আছে জমিয়ে চালাও,
সঙ্কেত শুনে নিও, কখন বলছি, 'আস্তে, লেডিজ'

এখন দুধারে ধানক্ষেত, পাগলা হাওয়া...
তোমার জন্য চালিয়ে দিচ্ছি, ' কি আশায় ...
118 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন কুশান গুপ্তএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Bishan Basu

তঞ্চক প্রবঞ্চক - একটি নাটক দেখার অভিজ্ঞতা

ন্যায় কী? মর‍্যালিটিই বা কী?

বিশুদ্ধবাদীদের মতে, কিছু শাশ্বত সত্যি তো থাকবেই, এবং কিছু শাশ্বত মানবিক নীতিবোধ। যেমন, চুরি কোরো না, লোক ঠকিয়ো না বা মানুষ মেরো না।

কিন্তু, একজন মানুষ যদি লোক ঠকায়, মানুষকে শোষণ করে, অত্যাচার করে - তাকে পাল্টা ঠকানো, বা তাকে হত্যা করাও কি অন্যায়?

মর‍্যালিটি কী বলে?

ইউটিলিটেরিয়ানরা বলবেন, যাতে বেশীরভাগ মানুষ খুশী হন, তা-ই মর‍্যাল। কিন্তু, তা-ই কি শেষ সত্য?

এইসব জটিল কথা মাথায় এলো একটি আপাতনিরীহ নাটক দেখতে গিয়ে। রাসবিহারী শৈ ...
138 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Bishan Basuএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

সুকান্ত ঘোষ

কুহু কেকা ডাকে

নিমো গ্রামের বাকি ছেলেদের মতন আমারও হৃদয়ে আপন করে নেবার ক্ষমতা ভালোই ছিল। কিন্তু একটা জিনিস বাদ দিয়ে, আর সেটা আমি অনেক পরে বুঝতে পেরেছিলাম – সেগুলি ছিল সো কলড্‌ প্রফেশ্যানাল লাইফে ‘সফট স্কিল’ জাতীয় ট্রেনিং। আগে এমন ট্রেনিং-এর শুরুতে বেশ ফালতু টাইপের জিনিস পত্র করতে হত – এখন তা আবার ‘সফট’ থেকে ডিফিউজ করে হার্ডকোর টেকনিক্যাল ট্রেনিংতেও ঢুকে গেছে। মাঝে মাঝে তাকে বলা হয় – ‘আইস ব্রেকিং’। আরে ভাই যদি বুঝতে, এই আইস ব্রেক হবার নয় – পুরো হিমবাহ স্বরূপ শীতলতা জমা আছে আমার বুকে।

বিশাল কিছু অ্যাম্ ...
160 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন সুকান্ত ঘোষ এর সমস্ত লেখা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পাত্থর

শক্তি দত্তরায়

মাছ কটা সোমারীর হাতে, কাপড়ের বালতি নিয়ে বুড়ি লালমাটি আর পাথরের পথে কষ্টে হাঁটে। জলছেঁড়া সূর্য্যিটা বড় তাপ ছাড়ছে, কপালটা ঘামছে, অথচ এখনই ডুবচান দিয়ে উঠল। বড়রাস্তায় উঠতেই ট্র্যাক্টর চালিয়ে থামল চাবাগানের নার্সারির রোজারিও। একপ্যাকেট ডঙ্কা আগরবাতি হাতে দিয়ে বলল - একটা মোমও দিল - মৌসী, মেরীজুনের নামে পাত্থরঠাকুরের কাছে একটু প্রে কোর। রোজারিও তেজপুরের চার্চে যায় ফি-রোববার। ওর ঘরে যীশুবাবার ক্রুশবেঁধা ছবি। আহা, ভগবানের এত দুখ, তো মানুষের হবে না কেনে! রোজারিওর দুঃখও সুরিয়া জানে। ওর মেয়েদুটি খুব ধলা। একটা বারো একটা চৌদ্দ। মিসামারির ম্যাথুসাহাব ফৌজিসাহাব - সেও খিরিস্তান। লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়া দিব বলে কোচিন না কই নিয়া গেল। গরিব রোজারিও বলে এংলোইন্ডিয়ান সাহেবের জাত। মেয়ে দুটি ভালো খাবে পরবে বলে দিয়ে দিল। এখন শুনছে জুন নাকি লুকিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে তারা দুই বহিন বহুত খারাপ আছে। গরিব সাহেব রোজারিও এখন চার্চে মোম দেয়, উদালগুড়ি পীরের মাজারেও মোম দেয়। এই চারহাত ভগবানকে মোম ধূপকাঠি দিতে চায় বুড়ির হাতে। হ্যাঁ, সুরিয়া কালকে গোলাপফুলের মত মেয়েদুটির নাম করে দিয়ে দেবে বৈকি ঠাকুরের কাছে। এটা চা বাগান - কার নানা পরনানা কোন জাত কোন গেরাম কোন জেলা থেকে কোন আড়কাঠির সঙ্গে এখানে ওখানে এসে পড়েছিল তারা জানেনা। তাদের সন্তান সন্ততিরা সবাই কুলি। এখন অবশ্য কুলি বলেনা, লেবার বলে। তারা এত জাতজন্মের খোঁজ রাখেনা। ঘামে শ্রমে হাঁড়িয়ার ঠেকে ওঠাবসা একসঙ্গে। তাদের দেবদেবীরাও একাকার। পাতি তোলে বাগানে নিড়ানি দেয়, চাঘরে ডায়নামো চলে, ড্রায়ারের আগুন গরম তাতে খাটে। দুপুরে একই পাত্র থেকে লাল চাহাপানি খায়। ওদের বামুন শুদ্দুর নাই, ওসব আছে বাবু কোয়ার্টারে। ডাক্তারবাবু বামুন, চাঘরবাবু শুদ্দুর, বাগানবাবু বড়গোঁহাই। তাদের খাওয়া ছোঁয়া ঠাকুরদেবতায় একটু আধটু নিয়ম নিষেধ আছে। বেচারী রোজারিও একুল ওকুল কোন কুলেরই নয়। ...
333 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অরিত্রীর মৃত্যু শি্ক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচাক

রুমা মোদক

পরীক্ষা নামক ফাঁসির রজ্জুর সম্মুখে নার্ভাস শিক্ষার্থীটিকে পুনঃপুন চেক করার নামে ভয়াবহ মানসিক চাপ,পরীক্ষার হলে খাতা আটকে রাখা ইত্যাদি কতোরকম ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে একজন শিক্ষার্থীকে এই পরীক্ষা নামক ফাঁসির রজ্জু থেকে বেঁচে ফিরতে হয় তা বলা বাহুল্য মাত্র! যেনো দেশের এই বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থার সব দায় শোধ করতে হবে নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের।
যতোক্ষন একটি ব্যবস্থা পরীক্ষাকেই ধরবে মেধা যাচাইয়ের মাপকাঠি,যতোক্ষন একটি ব্যবস্থা পরীক্ষাকেই নির্ধারিত করবে তার যোগ্যতা যাচাইয়ের দাঁড়িপাল্লা ততোক্ষন গাইড ব্যবসা, প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবসা, কোচিং ব্যবসা কিছুই বন্ধ করা সম্ভব নয়।সম্ভব নয় "শিক্ষক" নামধারী কিছু চাকরিজীবীদের ষণ্ডামি। সম্ভব নয় বন্ধ করা ছাত্রের পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাবার প্রতিযোগিতায় যে কোন উপায় অবলম্বনের প্রবণতাও।এবং ততোক্ষন পর্যন্ত এঈ প্রবণতা অপরাধও নয়। ...
92 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অরিত্রীদের বাঁচাতে গেলে...

মোহম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই কুৎসিত যে এখানে নকলের মত অপরাধ করে হলেও ক্লাস নাইনের মেয়ে কে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে হয়। আর আমাদের শিক্ষকগণ এতই মহান যে এতে নিজেদের অপরাধ, নিজেদের নৈতিকতা কে একবারের জন্যও প্রশ্ন না করে সেই ছাত্রী কে, তার বাবা মা কে অপদস্থ, অপমান করে। এমন ঘটনা যদি দেশের মফস্বল শহরের অখ্যাত কোন স্কুলে ঘটত তাহলে এটা হয়ত মানুষজনের নজরেও আসত না। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটে বসে আছে দেশের সেরা স্কুলে।সেরা স্কুলের চেহারা যদি এমন হয় আশা করি বাকিদের অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়। তাই বাকিদের নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য আজ পর্যন্ত হয়নি, সম্ভবত আর হবেও না। ...
86 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অরিত্রীদের কেন মরতে হচ্ছে

রুখসানা কাজল

এসব ইশকুলের অধ্যক্ষা মাননীয়রা ছাত্রীদের বয়স, স্বাভাবিক অনায়বোধ, সহজাত অভিমান না বুঝে অমানবিক এবং বিকৃত মানসিকতার শিক্ষকদের চরমতাকে বিবেচনা করে অভিভাবকসহ ছাত্রীদের হরহামেশ অপমান করে থাকে। এদের না আছে আত্মমর্যাদাবোধ, না আছে অন্যদের মানব মর্যাদাবধের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা। ছোটবড়, ছেলেমেয়ে, ধনী নির্ধনের মানবমর্যাদা বোধে আঘাত করা যে অপরাধ— এই শিক্ষা, শিষ্ঠাচার, প্রয়োজন এবং ভব্যতা সভ্যতা তাদের নেই। এসবের ধারও তারা ধরে না। কেননা একজন অরিত্রী মরে গেলে আরো দশজন অরত্রী অই সিটে ভর্তি হওয়ার জন্যে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে আছে তাদের বাবামায়েরা।

অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এই প্রথম এ ইশকুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু অরিত্রী কি ফিরবে ? ওর বাবামা কি ফিরে পাবে কাঠগোলাপ কানে গোঁজা হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল মেয়েটিকে ? ...
66 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Durba Mukherjee

মায়ের কাজ

আমি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত স্বনির্ভর মহিলা। অন্য পরিচয় আমি একজন স্কুল পড়ুয়া শিশুর মা। রাজনীতিতে আগ্রহ থাকলেও সক্রিয়ভাবে কখনো কিছু করে ওঠা হয়নি। তবে বামপন্থী বাড়িতে বড় হবার সুবাদে শ্রেণী সংগ্রাম শব্দবন্ধটির সঙ্গে বেশ পরিচিত। যত বয়স বাড়ছে তত বেশি করে রাজনীতির গুরুত্ব বুঝতে পারছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার শ্রেণীর মানুষজনের মধ্যে কাজকর্ম, সুযোগ সুবিধা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই দুচার কথা লিখতে বসা।

আমাদের দেশে মেয়েদের বড় করা হয় শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর জন্য। না, শহুরে শিক্ষ ...
1057 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Durba Mukherjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

ন্যাড়া

ক্রিকেট ক্রিকেট

আমি না ক্রিকেটে ওপেন করতাম আর উইকেট-কিপিং করতাম। এবং স্কুল-পাড়া লেভেলে খুব খারাপ করতাম না। সিএবির ইন্টার-স্কুল ক্রিকেট - যাকে সামার ক্রিকেট বলা হত - সেই টুর্নামেন্টে একবছর শুধু খেলিইনি, একটি গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে ক্রিটিকাল টাইমে মিড-অনে দাঁড়িয়ে একটি হাই-ক্যাচ ফেলে টিমকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবার কৃতিত্বও অর্জন করেছিলাম। যদিও তার বদলে সিএবি আমাদের বিনি-পয়সায় কি অতি-অল্পমূল্যে টেস্ট ক্রিকেটের টিকিট দিয়েছিল। সেই একবারই রঞ্জি স্টেডিয়ামে বলে খেলা দেখেছি। কিন্তু বাবারও বাবা থাকে। পাড়ার ক্রিকেটে পিকলু ...
478 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন ন্যাড়াএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

I

ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৪)

'একটা কোনো দেশকে ছাড় দিলেই হয়ে গেল- আর দেখতে হবে না; সবাই মিলে একেবারে 'দাও' দাও' বলে চীৎকার জুড়ে দেবে'- ৪৩'এর ১০ই মার্চ ওয়ার ক্যাবিনেটের এক মেমোতে মন্তব্য করবেন চার্চিল, কলোনিগুলিতে যুদ্ধকালীন খাদ্যসরবরাহ নিয়ে কথা বলছিলেন তখন তিনি-'আমাদের ('ব্রিটেন'-মন্তব্য আমার) দেখে শিখুক সবাই; নিজেদের বন্দোবস্ত নিজেরাই করে নিক গে!' (1)

মাস তিনেক ধরেই লিনলিথগো ভারতের খাদ্য-সংকটের কথা বলে আসছিলেন। ভারতকে খাওয়ানোর মত খাদ্যশস্য যে নেই তা নয়,অস্ট্রেলিয়াতেই যথেষ্ট গম মজুদ আছে। কিন্তু সেখান থেকে ভার ...
230 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Iএর সমস্ত লেখা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভাষা-ভীমরতি, সমালোচক ও হ-য-ব-র-ল (দ্বিতীয় পর্ব)

সৌরভ মিত্র

পরিবর্তনশীলতা মানেই খামখেয়ালিপনা (arbitrariness) নয়। - একদল মানুষ একটি বস্তুকে জল নামে চেনে। কিন্তু, যেহেতু শব্দ-জল আর বস্তু-জলের মধ্যে পরিবর্তনশীল ‘কিছু একটি’ আছে বলেই তারা হঠাৎ বস্তু-জলকে ‘স্থল’ বলে ডাকতে শুরু করে না। নামকরণের সময় সচেতনে বা অবচেতনে তারা নামের মাধ্যমে বস্তু/ বিষয়টির কোনও একটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য যেন প্রকাশ পায় (বা নাম থেকে বস্তু/ বিষয়টিকে কিছুটা হলেও চেনা যায়) –সে’টুকু খেয়াল অবশ্যই রাখে। এমনকি একজন ‘মাতাল’কে দেখে ‘পেটে জল পড়েছে’র মতো (ব্যঞ্জনামূলক) মন্তব্য করার সময়ও সে সচেতনে/ অবচেতনে বা অভ্যেসে (ঐতিহাসিক সংগঠন বজায় রেখে) মদ ও জলের পানযোগ্যতা, তাদের তরল অবস্থা, ইত্যাদি ধর্মের (ক্রিয়াবৈশিষ্টের) একটি তুলনামূলক সংশ্লেষ সেরে ফেলে। ...
580 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ছবি দেখা - দর্শকের কল্পনা – বারবার দেখার অনুভূতি – যোগেন চৌধুরীর (অ)সাধারণ ফুলদানি

বিষাণ বসু

গল্প খোঁজার জন্যে “ছবির সাথে সহবাস”-এর প্রয়োজন। দিনের অনেক সময়, বারবার যাতে চোখ যায়, এমন জায়গায় ছবিটি থাকা প্রয়োজন। যাঁদের বাড়ির দেওয়ালে ছবি রয়েছে (আবারও বলি, এইখানে ছবি বলতে প্রিন্ট বা ওরিজিন্যাল সবকিছুকেই বোঝাতে চেয়েছি), তাঁদেরকে এই বিষয়টি আলাদা করে বোঝানোর কিছু নেই। এইটা অনেকাংশেই, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতানির্ভর। কিন্তু, যাঁদের বাড়িতে ছবি নেই, তাঁরা একবার চেষ্টা করে দেখুন। আগেই বলেছি, অনলাইন স্টোরে বেশ উঁচু মানের প্রিন্টের দাম তো তেমন কিছু নয়। শুধুই পশ্চিমের নয়, ভারতীয় মাস্টারদের ছবির প্রিন্টও পাওয়া যায় সেইখানে। আর, ওরিজিন্যাল ছবি ঝোলাতে পারলে তো কথা-ই নেই। ...
544 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

প্রতিভা সরকার

মেঘালয়ের পাহাড়ে প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ আছে। এদের মধ্যে বেশীরভাগই ভূসম্পত্তির অধিকারীদের দ্বারা যথেচ্ছ উত্তোলিত হয়। অবশ্যই এদের আঁতাত থাকে বড় কোল মাফিয়া, নামী সিমেন্ট কম্পানীগুলো এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। গ্রামের পর গ্রাম জনগণ, কোনও ধনী ভূস্বামী যার জমির অন্তর্গত পর্বতশিরায় কয়লা লুকিয়ে আছে, তার অধীনে অল্প পয়সার বিনিময়ে এই খননকার্য চালিয়ে যায়। দিন দিন ভূস্বামীর কোষাগার স্ফীত হয়, হয়তো চেরাপুঞ্জি মৌসিনরামে বিলাসবহুল পান্থশালার সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু অদক্ষ খনি শ্রমিকের সন্তানরা হামাগুড়ি দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মত পাহাড়ের ভেতর কেটে রাখা অসংখ্য সুড়ঙ্গে ঢুকে খালি হাতেপায়ে কালো হীরের খোঁজ চালায়। এদের জন্য বা অন্য শ্রমিকদের জন্য কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা হয় না। ...
1338 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আজকের কবিতার পক্ষে বারোটি পাল্টা প্রশ্ন/ কবির স্থানাঙ্ক বিষয়ক দুই চারিটি কথা - প্রথম পর্ব

কুশান গুপ্ত

অভিযোগ এই: আধুনিক কবিতা এতদূর দুর্বোধ্য হয়েছে যে তা প্রায় সিন্ধুর খরোষ্ঠী লিপির নিহিত অৰ্থ বা ব্যাঞ্জনা বের করার মত দুঃসাধ্য ও অসম্ভব ব্যাপার। এই অভিযোগ কতদিনের বলা মুশকিল, তবে জীবনানন্দ থেকেই সম্ভবত এই নিয়ে বেশি শোরগোল শুরু হয়। পরে এই একই অভিযোগে আক্রান্ত হন বারবার যে কবি তাঁর নাম শক্তি চট্টোপাধ্যায়। এমনকি বুদ্ধদেব বসুর মত আধুনিক কবি, যাঁকে কবিতাবিষয়ক অন্যতম উদারমনা শ্রেষ্ঠ বোদ্ধা ধরা হয়, পঞ্চাশ-ষাটের দশকের দিকে এসে এই জাতীয় কথা বলতে শুরু করেন, 'এদের কবিতা এত দুর্বোধ্য যে কিছুই বোঝা যায় না'। শুনেছি উপর্যুপরি দুর্বোধ্যতার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাচারী শক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে কোথাও বলেছিলেন যে প্রকৃত ও শিক্ষিত পাঠক সবাই না।কবিতার গূঢ় অর্থ ও কূটাভাস নির্ণয়ে এক্ষেত্রে পাঠককে প্রস্তুত হতে হয়, এগিয়ে আসতে হয়। যদি ভাবেন পাঠকের প্রতি এটি এক নিছক কাব্যিক ও শাক্ত প্রত্যাঘাত তাহলে অধিক তর্কে না গিয়ে হালকা একটি কথা বলি, রাগসঙ্গীতের প্রকৃত ও সমঝদার শ্রোতা কারা? ডোভার লেনে বসলে আমজাদ আলির সরোদ ধরার ভঙ্গি নাহয় ধরে ফেললেন, কিন্তু রাগ উপভোগ করতে পারবেন তো? নাকি অপরাধবোধে ঘুম পাবে? যদি একজন ফুটবল খেলার দর্শক খেলার সাধারণ নিয়মকানুন না জানেন তাহলে কি তার কাছে খেলাটি সমান উপভোগ্য হবে? ...
479 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Samrat Amin

ফেসবুক সাহিত্য


মুখস্থ বিদ্যাটা বরাবরের কম। তবুও ক্লাস সেভেনে হেগেমেতে কোনরকমে শক্তির সংজ্ঞাটা মুখস্থ করেছিলাম -- শক্তি অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি এক শক্তি থেকে অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় মাত্র । সংজ্ঞাটিকে এবার ফেসবুকে পোষ্ট করা কোনো আপাত "মৌলিক" লেখার ক্ষেত্রে খাপে খাপে বসিয়ে দেন । ফেসবুকের পোষ্ট করা লেখা অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই , এক টাইমলাইন থেকে অন্য টাইমলাইনে স্থানান্তরিত হয় মাত্র । ধরুন, আপনি অনেক ভেবে ভেবে আপনার সৃষ্টিশীল স্বত্বা দিয়ে একটি চমৎকার মনোগ্রাহী কিছু লিখলেন । প ...
550 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Samrat Aminএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

বি ই কলেজ ও রাষ্ট্রভাষা

একদা যে কলেজটিতে পড়তাম, তার নাম বিই কলেজ। নাম বদলে যদিও এখন আই আই ইএসটি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়না। আমাদের কাছে এখনও বিই কলেজই। সেখানে যে সরকারি উদ্যোগে একটি হিন্দি সেল তৈরি হয়েছে জানতামই না, যদিনা আমার বন্ধু গৌরব ফেসবুকে একটি পোস্ট করত। তার পোস্টের সূত্র ধরে কলেজ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি, সেখানে ইংরিজির পাশে একটি হিন্দি সংস্করণও আছে। এবং হিন্দি সেলকে সরকারি ভাবে একটি আলাদা ওয়েবসাইট (সাবডোমেন) ও দান করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে নানা মণিমুক্ত দেখা গেল। পুরোটাই ...
1069 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Nahar Trina

“কিছুটা থাক আলগোছেতে কিছুটা থাক কাছে কিছু কথা ছড়িয়ে পড়ুক চেনা আলোর মাঝে”

চেনা আলোয় ছড়িয়ে পড়া কথাগুলো জড়ো করার গভীর মনোযোগ আর গল্পের মুখগুলো চিনে নেবার একবুক তাগিদ নিয়ে পাঠক শুরু করেন গোরা নকশাল।
পূর্ব বাংলা থেকে আগত এক পরিবার, বলা ভালো উদ্বাস্তু তকমা এঁটে যাওয়া এক পরিবার, যাদের ঠাঁই পশ্চিম বাংলার উত্তর পাড়ার বালি এলাকায়। সেই তাদের নিয়েই শীতের একটা সকালের বর্ণনার মাধ্যমে গল্পের উড়ান।

উত্তম পুরুষে লেখা এই আখ্যানের কথক ছোট্ট টুকুনের দেখা পাবেন পাঠক প্রথম অধ্যায়েই। সে পরিবারের কনিষ্ঠ জন। ভীষণ ঘুম কাতুরে, নানান ফন্দিতে পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়া, ঠাম্মার খাবারে ভা ...
269 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Nahar Trinaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Subhendu Chattopadhyay

কবিতা শ্রীরামপুর


অদ্রিশদা যখন মারা গেলেন , কাগজে বেরোয় জনৈক পৌড় , সেই কাগজে যেখানে অদ্রিশদা অনেকদিন কাজ করেছেন, কবে যে পৌড় হয়ে গেলে আমার তো জানা হয় নি । অদ্রিশদা বললে আমার এখন মনে পড়ে মউ দি কে সামনে বসিয়ে সাইকেল করে আসছেন শ্রীরামপুর স্টেশনে । নিয়ম করে দেখা হত , আমি তখন কিছুই লিখতে পারি না , শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি এই অপরূপ দম্পতির দিকে । আর একবার লক্ষ্মীঘাটে কবিতা পাঠের আয়োজন হল , রমাদির একক কবিতা পাঠ , পাঠ শেষে , মউদি গান গাইল , প্রদীপের আলোই তার মুখে অন্ধকার খেলে বেড়াচ্ছে , কি করে জানব , কত ঝড় বৃষ্টি ...
468 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন Subhendu Chattopadhyayএর সমস্ত লেখা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮

সূচিপত্র

উৎসব ইস্পেশাল, সম্পূর্ন সূচিপত্র। ...
2555 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

একটি পরীর মৃত্যু

দীপ্তেন

ছােট্ট পরী বড় বড় চোখ করে তাকায় 'তােমার মন খারাপ?'

'আমার আর চাকরি নেই। আজ থেকে... ছুটি।'

'বাঃ । কী ভালাে হলাে। আমরা আরাে গল্প করবাে। না?'

'কোথায় থাকবে পরী। আমাকে তাে এই অফিস ছেড়ে চলে যেতে হবে।'

'ওহ' একটু চিন্তায় পড়ে পরী। যখন চিন্তা করে পরী তখন তার রং হয় বেগেনেটে আর কেমন একটা সামুদ্রিক সৌগন্ধে ভরে যায় অশােকের কামরা। থির থির করে কাঁপতে থাকে পরী -অশােকের মুঠি ভরে ওঠে মখমলী ভায়ােলেট রঙে। চোখে মুখে ছিটে লাগে আর কানের কাছে শােনে গভীর সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস। কোন অলৌকিক বেলাভুমিতে আছড়ে আছড়ে পড়ছে ঢেউ'র ব্যার্থ ছোবল। শ্যাওলার আঁশটে গন্ধ।

'তােমার ব্যাগে থাকবাে আর রাত্রিবেলা, যেমন নিয়ে যাও আর নিশুত রাতে আমাকে বারান্দায় নিয়ে যাবে - আমরা কালাে আকাশের নীচে দাঁড়াবো আর মিটমিটে তারাদের ঝিকমিকি আলাে পান করবাে। কেমন?' ...
468 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গোবরের টেরাকোটা

নলিনী বেরা

নদীতে মৎস্য শিকার, অন্ধকারে নদীজলে টর্চের আলো ফেলে মাছ ধরার সে এক অদ্ভুত কৌশল। টর্চের নীলাভ আলো মাছের চোখে পড়লে জলেও খালবিলে মাছ স্থির হয়ে যায়। নড়তে চড়তেও পারে না আর। তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারলেই হলো। কেউ কেউ তো তলোয়ারের কোপ মেরেই মাছটাকে করে ফেলে দু'টুকরা, নদীজলে রক্তারক্তি কাণ্ড। শশাঙ্ক বেহেরা অতোটা আবার নিষ্ঠুর নয়। টর্চের ফোকাস মাছের উপর ফেলে রেখে অন্য হাতে মাছটাকে খপ করে তুলে নেয় সে। তার যে জীবন্ত ধরাতেই আনন্দ। এই কিছুদিন পূর্বেও সুবর্ণারেখা নদীতে ইলিশ উঠত। খান্দারপাড়া গ্রামের ঝড়েশ্বর পানী আর মাধব পানী দুই ভাই, নদীবুকে পাটায় দাঁড়িয়ে দিবারাত্রি অষ্টপ্রহর জাল ফেলত। দিনে তাদের গড়ে বত্রিশটা ইলিশেরও রেকর্ড আছে। এখন সে দিনকাল আর নাই। জিজ্ঞাসা করলে তারাও তেরচা করে বলে "আঘু তভু অনেক ইলশা উঠতায় সুবনরেখায়। অখন সে ইলশা কুবে আছে জানু?কলকাতায়!" ...
518 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মরণখোর

মাহবুব লীলেন

কেউ কেউ প্রায় ভিডিও করে বসে প্রত্যেকটা ফ্রেম। একেক ক্লিকে দশ বারোটা ছবি। অন্তত একটা হলেও শার্প ফোকাস তো পাওয়া যাবে। কেউ সাবজেক্টের ডানে বামে উপরে নিচে নড়েচড়ে ফ্রেম ঠিক করতে না পেরে যেন গাছকেই বলে বসে- বাবা একটু ডান দিকে সরলে আলোটা ভালো করে পাবি। কেউ পাখির ছবি তোলার জন্য পাখির কাছে যেতে যেতে পাখিটাই উড়িয়ে দেয়। কেউ সতর্কভাবে খেয়াল রাখে অন্যদের আবিষ্কার করা পজিশন আর ফ্রেমে; তারপর সেখানে গিয়ে মারে কয়েকটা ক্লিক। কেউ কনফিউজড। কারো দৃষ্টি সুন্দরবনের ক্ষুদ্রপ্রাণ; ক্ষুদ্র কীট- এক আংটাওয়ালা ক্ষুদ্র লাল কাঁকড়া- লাফানো মাছ- শামুক। কেউ বারবার এর তার মনিটরে চোখ দিয়ে মিলিয়ে নেয় অন্যের ছবির সাথে নিজের ছবির ভালোমন্দত্ব। কারো ক্যামেরা বিশাল বনকে ঝাপসা রেখে শুধু তুলে আনে কয়েক ইঞ্চি দৈর্ঘ্য প্রস্থের একেকটা টুকরা...

শুধু নয়নের কোনো তাড়াহুড়া নেই। ফ্রেম খোঁজে না। সাবজেক্ট খোঁজে না। ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে সে আশপাশে তাকায়। দেখে। হাঁটে। তার চোখে ধরা পড়ে গাছের পাতার ফাঁকে বসে থাকা ছোট পাখি। তার চোখে ধরা পড়ে দূরে কেওড়া গাছের নিচে হরিণের নড়াচড়া। তার চোখে ধরা পড়ে কাদার মধ্যে মিশে থাকা থাবা খাওয়া হরিণের রক্ত। ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে নয়ন শুধু দেখে আর হাঁটে আর কী যেন খোঁজে... ...
237 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

যে গল্পগুলো ঘরে ফেরে না

মোজাফফর হোসেন

ধ্যান করার প্রথম ও প্রধান কারণ হল নিজের চারপাশে ভ্যাকুয়াম বলয় সৃষ্টি করা। নিজের সত্তাকে ট্রানসেন্ড করানো মানেই হচ্ছে তাকে শব্দের জগত থেকে বের করে আনা। এবং আত্মা যখন ট্রানসেন্ড করে তখনই তো আমরা শরীর ধরে কান্নাকাটি করি! আমরা যাকে মৃত্যু বলি সে শুধু দেহেরই ঘটে। আমাদের ভালোবাসা কেবলই বস্তুকে ঘিরে। মানুষের যদি বাদুড়ের মতো দৃষ্টি না থাকতো তাহলে দৃশ্য বা বস্তুর আবেদন অনেকখানি কমে যেত; এক্ষেত্রে সৃষ্টির সেরা জীব হত বানর গোছের কিছু একটা। ...
258 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মামা ফকিরের কেরামতি

রুমা মোদক

কবে থেকে মামা ফকিরের এই কেরামতি , গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক বৃদ্ধ মানুষটি জানান, যেদিন নোয়াখালিতে বাবুজি মহাত্মা গান্ধী আসেন আর মালগাড়ী কামরাভর্তি করে মরা মানুষ এনে ভৈরবের মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার খবর বাতাসে উড়তে উড়তে এই গ্রাম পর্যন্ত এসে পোঁছেছিল সেদিন কাকডাকা ভোরে মামা ফকির প্রথম আগুন আগুন! বলে চিৎকার করে। তার দৃষ্টি ছিল রায়বাড়ি বরাবর। গ্রামবাসী পরদিন ভোরে অবাক বিস্ময়ে দেখে রায়বাড়ির উত্তরাধিকার বাবু মহেন্দ্র নারায়ণ রায়, (এমএ ডিস্টিংশন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)-এর রক্তাক্ত দেহ তুলসিতলায় পড়ে আছে আর নাটমণ্ডপ সিন্দুক ভর্তি কাঁসার বাসন-কোসন, লক্ষনৌ থেকে আনা সেতার সব সুসজ্জিত রেখে তার পরিবারটি রাতের অন্ধকারে ভারত পালিয়েছে। ...
216 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

তুমিও

সৃজিতা সান্যাল শূর

প্লেটে রুটি দিয়ে চেয়ার টেনে বসতে বসতে অদিতি বলল, "সত্যি কথা! এরকম হবে আমি ভাবিনি, কি করে করছে বলো তো মেয়েগুলো ? এরকম তো আকছারই হয়ে এসেছে। এত বাড়াবাড়ির সাহস পাচ্ছে কি করে এরা?" "এটাই তো ! দ্যাখো, কাউকে ভাল লাগলে তো আমরাও অ্যাপ্রিশিয়েট করি টরি। তোমাকে বলে না কেউ? বৌদি কি দারুণ লাগছেন। ছেলেপুলে একটু আধটু কবে ফ্লার্ট করেছে, তাতেও তুমিও তুমিও করে লাফাচ্ছে।" প্রবাল একটা চামচ তুলে নেয়।

"হ্যাঁ। আমিও এটাই ভাবছিলাম জানো। " অদিতি মুখ খোলে। " তোমার শিপ্রাকে মনে আছে? সেই যে আমার মণিপিসির মেয়ে। ঝুনুর বিয়েতে তোমরা দেখেছিলে। অনেক বছর আগে। ভোলোনি হয়ত। অমন চটকদার চেহারা আমাদের কারো ছিল না। বিয়ের দিন , তুমি আর জামাইবাবু খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করেছিলে ওকে। চওড়া পিঠের ব্লাউজ পরেছিল আর টপনট। ঘন্টাখানেক পরে দেখলাম চুল খুলে পিঠে ছড়ানো। তোমাদের টানা অ্যাপ্রিশিয়েশানে বেচারির একটু সমস্যাই হয়েছিল। কেঁদে অস্থির হয়ে গেছিল। ছেলেমানুষ তো, মানে লেগে্ছিল ওর। কিন্তু দ্যাখো , কেউ কিছু জানতে পেরেছে? ...
243 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পুজোর কবিতা

তৃতীয় পর্ব

মঞ্চে প্রবিষ্ট অভিনেতার ওপর কবি তো আলো ফেললেন, সে আলো পাঠককে চিনে নিতে সাহায্যও করলো কী সেই অদম্য প্রকাশবাসনার উৎস, কী সে বক্তব্য যা না বলে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে কবির পক্ষে। কিন্তু সেখানেই কি কাজ শেষ হলো? এই জায়গায় এসেই সম্ভবত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় আত্মজিজ্ঞাসা। সাধারণভাবে কবিতা কেন লেখা হচ্ছে এই বিষয়ে আমরা কথা বললেও এখনও পর্যন্ত একটি বিশেষ কবিতা কেন লেখা হচ্ছে সেকথায় আসিনি। "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ" সৃষ্টি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন চোখের ওপর থেকে পর্দা সরে যাওয়া, লিখেছিলেন "বিষাদের আচ্ছাদন" ভেদ করে আলোর প্রবেশের কথা (জীবনস্মৃতি)। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই ঘটনার উল্লেখ করে লিখেছিলেন ঐ বিষাদের আবরণ বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া - কবির এই উপলব্ধির কথা মনে রাখলে “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের” বিস্ফোরণ বহুগুণে স্পষ্ট হয়। এই চমৎকার উদাহরণে আমাদের কাছে দুটো ব্যাপার স্পষ্ট হয়। কবিতা লেখার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা আমাদের চোখ খুলে দেয় অন্যতর অর্থের দিকে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আত্মজিজ্ঞাসা ও সততা। যে বিষাদ বা আনন্দের প্রকাশে কবিতা লেখা হচ্ছে, সেই প্রকাশ কতখানি কবির নিজস্ব, কতখানি আরোপিত সেই অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি না হয়ে তাঁর উপায় নেই। উপায় নেই কবিতা যে ব্যাপ্তি দাবি করে তা এড়ানোর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে কবিতা নিয়ে উদ্বেল হবে সেই কবিতা লিখতে গেলে নিজের মধ্যে যেমন ডুব দেওয়া চাই, তেমনি নিজের বাইরে বেরোনোরও দরকার আছে। দরকার আছে আবেগের সাথে দূরত্ব তৈরী করে, ধীরভাবে সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশের। আমাদের আশা প্রথম দুই পর্বের মত তৃতীয় পর্বের কবিতা সংকলনেও সেই বহিঃপ্রকাশ পাঠক আবিষ্কার করবেন।

লিখেছেন - শৌভ চট্টোপাধ্যায়, মজনু শাহ, বোধিসত্ত্ব সেন, রামিজ আহমেদ, শাকিলা তুবা, তনুজ সরকার, ঈশিতা ভাদুড়ী, অনিকেত মৃণালকান্তি, অর্পিতা আচার্য্য, বুবুন চট্টোপাধ্যায়, দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম, রুদ্রদীপ চন্দ, মাজুল হাসান, শ্ব, মিঠুন ভৌমিক। ...
311 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

গুরুচণ্ডা৯র বিতর্কসভা

উৎসব টুৎসব মিটল, এবার কথাটা বলা যাক। প্রতি বছর পুজো এলেই দুমদাম করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় মহালয়া থেকে। হরেক রকম বিষয়ে। যেমন ধরুন, পিতৃপুরুষের তর্পণের দিনকে শুভ মহালয়া বলা উচিত কি উচিত না। ঐতিহ্যগতভাবে কেউ শুভ মহালয়া বলেননি কখনও, কিন্তু হতেও পারে, ধর্মীয় চিহ্নগুলিকে বাদ দিয়ে উৎসব স্রেফ ফুর্তিতে পরিণত হচ্ছে। তার পরই আসে কুমারী পুজো। বাচ্চা একটি মেয়েকে সাজিয়ে গুছিয়ে পুজো করার মধ্যে অনেকে পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাননা। উল্টোদিকে এর তীব্র বিরোধীরা ধর্মীয় কুপ্রথার পুনর্নবীকরণ দেখতে পান। পুজো গড়ায়, বিতর্কও গড়ায়, এবং দশমীতে এসে চরমে পৌঁছয়। দশমীর পেট টপিক সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা কি স্রেফ নান্দনিক ফূর্তি, নাকি নারীর বশ্যতার প্রতীক? এইসব নানা ব্যাপার।

মজা হচ্ছে, রেডরোডের কার্নিভ্যালের সঙ্গে এইসব বিতর্কও গঙ্গা পদ্মার জলে ভেসে যায়। দশমীর পর আবার সব ভাব-ভাব-ডাব-ডাব। দেখলে মনে হয়, এই খুচরো বিতর্কও যেন পুজোরই অংশ। হতেই হবে, নইলে মজা মাটি। তা, বেশ ক বছর ধরে দেখে দেখে আমরা আর এই হুজুগকে ফসকে যেতে দিতে রাজি নই। যথেষ্ট হয়েছে, আমাদের চাই পিঠের ভাগ। বিশেষ করে পুজো সংখ্যায় নানা লেখা আমাদের যখন বেরিয়েই চলেছে।

এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যেই গুরুচণ্ডা৯ আয়োজন করেছে এই বিতর্কসভার। পাঠকেরা জানিয়েছেন তাঁদের মতামত, যারা পক্ষে, যারা বিপক্ষে, এবং যারা মেরুকরণের বিপ্রতীপে কোন নির্দিষ্ট পক্ষ নিতে অনাগ্রহী।

প্রকাশিত হলো নির্বাচিত লেখাগুলি।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক ...
121 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

পক্ষে

মতামত দিয়েছেন - পূবালী দত্ত, সায়ক দত্ত, দ্বৈপায়ন মজুমদার, মৃণালকান্তি দাস এবং জারিফা জাহান।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক
...
345 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

বিপক্ষে

মতামত দিয়েছেন - যশোধরা রায়চৌধুরী, জয়া চৌধুরী, রৌহিন ব্যানার্জ্জি, অচল সিকি, সৌভিক ঘোষাল।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক
...
541 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাছাই করা গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় কুপ্রথার উদযাপন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা

অপাক্ষিক

উৎসব টুৎসব মিটল, এবার কথাটা বলা যাক। প্রতি বছর পুজো এলেই দুমদাম করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় মহালয়া থেকে। হরেক রকম বিষয়ে। যেমন ধরুন, পিতৃপুরুষের তর্পণের দিনকে শুভ মহালয়া বলা উচিত কি উচিত না। ঐতিহ্যগতভাবে কেউ শুভ মহালয়া বলেননি কখনও, কিন্তু হতেও পারে, ধর্মীয় চিহ্নগুলিকে বাদ দিয়ে উৎসব স্রেফ ফুর্তিতে পরিণত হচ্ছে। তার পরই আসে কুমারী পুজো। বাচ্চা একটি মেয়েকে সাজিয়ে গুছিয়ে পুজো করার মধ্যে অনেকে পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাননা। উল্টোদিকে এর তীব্র বিরোধীরা ধর্মীয় কুপ্রথার পুনর্নবীকরণ দেখতে পান। পুজো গড়ায়, বিতর্কও গড়ায়, এবং দশমীতে এসে চরমে পৌঁছয়। দশমীর পেট টপিক সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা কি স্রেফ নান্দনিক ফূর্তি, নাকি নারীর বশ্যতার প্রতীক? এইসব নানা ব্যাপার... মতামত দিয়েছেন - শুচিস্মিতা, সুমন মান্না, সৃজিতা সান্যাল শূর এবং সম্রাট আমীন।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক
...
274 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা