বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

Jyotishka Datta

এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?


কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, হিংস্র আস্ফালন ! যাঁরা টুইটার দেখেন নিয়মিত, তাদের কাছে এগুলো নতুন কিছু নয়, বরং এখন এতোটাই গা-সওয়া হয়ে গেছে যে খুব সহজে উপেক্ষা করে চলে যাওয়া যায় ব্যাস্ত ট্রাফিকের মাঝে পড়ে থাকা পথচারীর মতো ... তবুও এক একদিন একটু বেশী ভয় করে, একটু বেশী আতঙ্ক হয় ! ...
     ... পড়ুন Jyotishka Dattaএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভাঙড় চুক্তি এবং ভাঙড় আন্দোলনঃ একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রচেষ্টা (প্রথম পর্ব)

পিনাকী মিত্র

সবকটা বিষয়কে মাথায় রাখলে আন্দোলনের অতি বড় সমালোচকও মানতে বাধ্য হবেন এই চুক্তিকে গ্রামবাসীরা যদি 'জয়' বলে মনে করেন তাহলে তাঁরা খুব ভুল কিছু করবেন না। অলীক চক্রবর্তী যদি তর্কের খাতিরে সরকারের কাছে সম্পূর্ণ বিকিয়ে গিয়েও থাকেন এবং বিকিয়ে গিয়েও গ্রামবাসীকে এইরকম একটি লিখিত চুক্তি আদায় করে দিতে পারেন, যা কিনা এযাবৎকালের কোনও গণ আন্দোলনে ঘটে নি, তাহলেও তাঁকে গ্রামবাসীরা মাথায় তুলে কেন রাখবেন না তা পরিষ্কার নয়। উল্টোদিকে সরকার বা পিজিসিআইএলের দিক থেকে দেখলেও এই চুক্তি যথেষ্ট ইতিবাচকই। একটা সাবস্টেশন এবং সংলগ্ন লাইনগুলো অতখানি তৈরী হয়ে যাওয়ার পর যদি পরিকল্পনা বাতিল করতে হত, তাতে শুধু যে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হত তাই নয়, সারা ভারত জুড়েই গ্রিডকে শক্তিশালী করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা অনেকখানি ধাক্কা খেত। ২২০ কেভির যে লাইনগুলো ভাঙড় থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পরিবহন নিগম (WBSETCL) টানবে সেগুলো অতি অব্শ্যই নিকটবর্তী এবং একটু দূরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের সাথে যুক্ত। সেগুলি না হলে সেই প্রক্রিয়াও ভালোরকম ব্যহত হত। গ্রিড সংযুক্তিকরণের জন্য যে ১৬ টি লাইনের পরিকল্পনা ছিল তার মধ্যে যেগুলো চুক্তি মোতাবেক বাতিল হল, সেগুলোকে পিজিসিআইএলকে অন্যভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি

দেবর্ষি দাস

৯ টা জেলায় শতকরা বাতিল আবেদনপত্রের সংখ্যা হল একেবারে এক, ১২.৫ (দশমিকের পরে প্রথম ঘর অবধি কাছাকাছি পূর্ণসংখ্যা ধরে)। ১১ টা জেলায় এই সংখ্যা হল ৭.৫ (কাছাকাছি পূর্ণসংখ্যা ধরে) আর ৪ টে জেলায় ১৭.৫ এর কাছাকাছি। প্রত্যেক জেলার আবেদনকারীর সংখ্যা আলাদা আলাদা, বাতিল আবেদনের সংখ্যাও তাই। এদের অনুপাত এবং তার শতকরা হিসেবও সেইরকম আলাদা আলাদা হওয়া উচিত। অর্থাৎ ৩৩ টা জেলার থেকে ৩৩ টা আলাদা সংখ্যা আসা উচিৎ যাদের মধ্যে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে প্রায় কোনো মিল বা পুনরাবৃত্তি বা সম্পর্ক থাকার কথাই নয়। তাহলে এতগুলো জেলার বাতিল আবেদনকারীর সংখ্যার শতকরা হিসেব কি করে একই রকম হল ! ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শোনা কথা ৩ - দেশ ও সীমানা

অভিজিত মজুমদার

আসলে বুঝি না, দেশ মানে একটা রাজনৈতিক-ভৌগোলিক সীমানা নয়, দেশ মানে জবরদস্তির ভক্তি নয়, দেশ মানে একাত্মতা। দেশ মানে একটা ভূখন্ড যাকে আমি চিনি এবং যে আমাকে চেনে। সেই ভূখন্ডের সীমানা যা কিছুই হতে পারে। তাই আমার আমেরিকান সিটিজেন দিদি বৎসরান্তে 'দেশে' ফেরে আর আমার কাজের দিদি 'দেশে' যায়।

আমি বাবা-মাকে কলকাতায় ফোন করি। ফোন রেখে দিয়ে বলি, বাড়িতে ফোন করেছিলাম। আমায় কেউ বকে না। কেউ বলে না, কেন মুম্বাইয়ে যেখানে থাকো সেইটা কি বাড়ি না? সেটা কি গাছতলা? কেউ বকে না। তাই আমি কলকাতায় গেলে নির্দ্বিধায় বলি, "বাড়ি গেছিলাম", ফিরলে বলি, "বাড়ি থেকে ফিরলাম"। আসলে বুঝি, বাড়ি মানে ইঁট, সিমেন্ট, জানলা নয়। বাড়ি মানে অন্যকিছু। ঠিক কি সেটা জানি না। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

স্বাতী রায়

সারে জঁহা সে আচ্ছা

আচ্ছা স্যার, আপনি মালয়েশিয়া বা বোর্ণিওর জঙ্গল দেখেছেন? অথবা অ্যামাজনের জঙ্গল? নিজের চোখে না দেখলেও , নিদেনপক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পাতায়? একজন বনগাঁর লোকের হাতে যখন সে ম্যাগাজিন পৌঁছে যেত, তখন আপনি তো স্যার কলকাতার ছেলে - হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতেন নিশ্চয়- দেখেন নি? কি আশ্চর্য ! তাহলে লিখলেন যে বড়, কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল ? এখনই তো পৃথিবীতে ১৯৫ খানা দেশ| আপনার সময়ে কটা ছিল জানি না , কম বেশি ১৭৫ টা মত হবে - এক্কেবারে অতগুলো দেশের মধ্যে তুলনা করে বলে দিলেন "সকল দেশের চাইতে শ্যা ...
     ... পড়ুন স্বাতী রায়এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Anamitra Roy

ট্রেন লেট্ আছে!

আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা !
দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ইউরোপিয়ানগুলো বোকা। তাই এই নমি ওই লজি নামে আঠাশরকম পড়াশোনার বিষয় বানিয়েছে। সব আমাদের মতো বুদ্ধিমান ভারতীয়দের ফেল করাবে বলে। ফেল না করাতে পারলে আমরা সব টকটকিয়ে মগডালে চড়ে গিয়ে ওদের সাইজ করে দিতুম কিনা! তখন কি আর ওদের এই দুনিয়াজোড়া আধিপত্য চলতো ...
     ... পড়ুন Anamitra Royএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Swarnendu Sil

ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে

এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে সাথে আমার রাজনৈতিক ভাবনা চিন্তাও জড়িত অবশ্যই, কারণ আর সব কিছুর মতই বিজ্ঞানও রাজনীতি মুক্ত বা রাজনীতি বহির্ভূত বিষয় নয়।

আমি মনে করি কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিকারক।
এ কথা আমি ভাঙ্গর আন্দোলনে যখন পরিবেশ স ...
     ... পড়ুন Swarnendu Silএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Salil Biswas

বিদ্যালয় নিয়ে ...

“তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,
জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)

আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে হজমিওয়ালা, শুক্রবারের ডবল টিফিন, চিলের ছোঁ, গোলপোস্টে জমা জল, বলশালী ডাকাবুকো সহপাঠীর ল্যাং, আর এক সহপাঠীর সাইকেল-পা, বাজি রেখে বিটনুন খাওয়া, লজেন্স-দিদিমণির ঝাঁঝাঁলো পেপারমিন্ট, টেবিলের নিচে লুকোনো গল্পের বই, অঙ্ক স্যারের বিখ্যাত ...
     ... পড়ুন Salil Biswasএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

ফরিদা

সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা

একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য হয়।

এখন এই গ্রহণযোগ্যতাটি সাময়িক। প্রশ্ন তো সেই কয়েকটা হয়েই থেমে যায় না, নতুন প্রশ্নরা আসে স্বাভাবিকভাবেই, আসে নতুনতর ধারণারাও। এখন সেই গ্রহণযোগ্য আগের ধারণাটি যারা অবলম্বন করে থাকেন, তারা তাকে চরম ধরে নিয়ে যখন নতুন প্রশ্নের সম্মুখীন ...
     ... পড়ুন ফরিদা এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

souvik ghoshal

ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার

ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে। শুধু পর্যটকের মতো করে ঘোরেন নি, থেকেছেন মাসের পর মাস। ভারতে তিনি টানা প্রায় এক বছর ছিলেন। আফ্রিকাতেও কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। আর এগুলো তাঁর লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে গিয়েছে।

নইপাল এর প্রথম উল্লেখযোগ্য লেখা এ হা ...
     ... পড়ুন souvik ghoshalএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

অনমিত্র রায়

আজ অবধি কোথাও কোনো চেষ্টাই হয়নি মালদা জিকেসিআইইটি-র ঘটনাপরম্পরা লিপিবদ্ধ করে রাখার। এদিকে আন্দোলন শুরু হয়ে ২ বছরের ওপর ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। এর মধ্যে নানান ঘটনা ঘটে গেছে। এইসব ঘটনার সংখ্যা এতই বেশি যে বর্তমানে আন্দোলনরত ছাত্ররাও সঠিকভাবে দিনক্ষণ, তারিখ বা নাম উল্লেখ করতে পারছে না। সমস্তটাই "ওই ঘটনাটা ঘটার ৬ দিন পর মোটামুটিভাবে ধরা যায়" জাতীয় বাক্য হিসেবে আসছে। সেখান থেকে সঠিক তথ্য ছেঁকে তোলার জন্য দরকার নির্ভরযোগ্য প্রমান। অর্থাৎ কিনা, সেই সময়কার ফেসবুক পোস্ট, কলেজ কর্তৃপক্ষের তারিখ নির্দেশ করা চিঠি (যার কিনা সূত্র পুনরায় ফেসবুক পোস্টই) অথবা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। এই দু'বছরে বেশ কিছু প্রতিবেদন আবার হারিয়েও গিয়ে থাকতে পারে অ্যালগোরিদম-এর দৌলতে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

রৌহিন

আবার ধনঞ্জয়

আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর দ্বিতীয়তঃ কেউ কেউ বলতে পারেন যে যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হয়েছিল অতএব এই কথা আদালত অবমাননার সামিল।

দ্বিতীয় আপত্তির জবাব আগে দিই। না, আদালতকে অবমাননা করার মত কোনরকম ইনটেনশন আমার নেই - খুন কথাটা বললে তা আদালত অবমাননা হয় না এট ...
     ... পড়ুন রৌহিনএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

চা-বাগানে ন্যূনতম মজুরির যে আন্দোলন ক্রমে বাড়ছে

শমীক

এটা ভালো লক্ষণ যে এবারের আন্দোলনে কলকাতা সহ আরো বহু বাইরের অঞ্চলের মানুষের সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। এই সমর্থনের প্রক্রিয়ায় যদি তাঁরা বুঝতে পারেন যে বন্ধ বাগান আর তাতে অনাহার মৃত্যুর বাইরেও চা বাগানের সমস্যাটা অনেক গভীর, তাহলে একটা কাজের কাজ হবে। মালিকদের ভয়াবহ মুনাফাখোরি নীতি, ফাটকাবাজ মালিকদের দৌরাত্ম্য আর তাতে সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন আর উদাসীনতাই যে মূলতঃ চা শিল্প আর শ্রমিকদের বিপর্যয়ের মূল কারণ, এই ভিত্তিটায় দাঁড়ানো দরকার। বন্ধ বাগান বা অনাহারে মৃত্যু সমস্যায় একটা সামান্য অংশ, ন্যূনতম মজুরি না দেওয়ার মত চা বাগানের সার্বজনীন সমস্যাগুলো ছড়িয়ে আছে কমবেশি সমস্ত বাগান জুড়ে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সিজনস অব বিট্রেয়াল – অষ্টম পর্ব

দময়ন্তী

রমেশ একটু চিন্তায় পড়ে যান, এখন পূর্ব পাকিস্তান যাওয়া মানেই বিপদের আশঙ্কা পদে পদে। অমলা বা পারুকে সঙ্গে নেবার প্রশ্নই নেই, অমরকেও না নেওয়াই উচিৎ। তাঁর যদি কিছু হয়েই যায় পথে তবে অন্তত বাকীরা বেঁচে থাকবে। কিন্তু তাঁরও কি যাওয়াটা উচিৎ? আর উচিৎ হলেও আদৌ সম্ভব হবে কি? অথচ যোগেশ একা ঐ দেশে ছোট্ট শিশুটার মুখে প্রথম ভাত তুলে দেবে আর বংশের মধ্যে সবার বয়োজ্যষ্ঠ তিনি, তাঁরই তো এই অনুষ্ঠান করার কথা --- আর তিনিই দূরদেশে চুপচাপ বসে থাকবেন। অমলা বোঝেন রমেশের মনে দ্বন্দ্ব চলছে, বলেন ঐ দূর বিদেশে মেজ ঠাকুরপো একলা একলা কি যে করছে! রমেশ কেমন চমকে ওঠেন ‘বিদেশ!?’ কোনটা বিদেশ আর কোনটাই বা স্বদেশ তাঁদের আজ? ময়মনসিংহ তাঁদের উর্দ্ধতন তিন কি চার পুরুষের জন্মভূমি, তাঁদের ও। পৈত্রিক উত্তরাধিকার যা কিছু, সবই ময়মনসিংহে, যা আজ ‘বিদেশ’ হয়ত বা ‘শত্রুদেশ’ও। আর এই কলকাতা শহর, এখানে তো বাসাবাড়ি। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মায়া মেঘ

তন্বী হালদার

দু’কামরার ছ’শো তিরিশ ফুট ফ্ল্যাটে ততোধিক ছোটো ব্যালকনিটায় বসানো টব, ঝোলানো টবে নানান ফুল, পাতাবাহার গাছে এমন ভাবে ভরিয়ে রেখেছে যে দূর থেকে দেখলে যে কেউ ব্যালকনি না ভেবে ছোট্ট একটা বাগান বলেই মনে করবে। তাতানের ছ’বছর বয়েস পর্যন্ত সোনারপুরের একটা ভাড়া বাড়িতে থাকতো ওরা। ছোটোবেলায় খাওয়া নিয়ে খুব ঝকমারি ছিল। ভীষণ ঘ্যানঘ্যানে স্বভাবেরও ছিল তাতান। হঠাৎ তখন পাঞ্চালী আবিষ্কার করে গাছ-গাছালির কাছে নিয়ে গেলে ছেলে একদম চুপ করে থাকে। বড়ো বড়ো নরুনচেরা চোখদুটোয় গাছপালাদের অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতো। গাছ দেখতে দেখতে মুখের খাবার থুঃ করে ফেলে না দিয়ে বিনা বাধায় খেয়ে নিত। তাতানের পাঁচ বছর বয়েসে ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়। সে বছর সাংঘাতিক এক কালবৈশাখীর ঝড়ে শোভনদের সেই ভাড়াবাড়ির ছোট্টো বাগানটায় বেশ ক’টি গাছ উপড়ে ভেঙে পড়ে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনালের রোজনামচা

সৌরদীপ দে - অনুবাদ স্বাতী রায়

এই আটক-হওয়া মানুষদের অবস্থা বন্দীদের থেকেও খারাপ। তিনি ক্যাম্পের একটি দুঃখজনক বিবরণ দিয়েছেন, যেখানে দেখিয়েছেন যে এঁরা অন্যান্য "নাগরিক বন্দীদের" তুলনায় কেমন অনেক বেশি বিধি নিষেধের মধ্যে থাকেন। কোকড়াঝাড় কারাগারের নারী বন্দীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, এই মহিলাদের প্রায় এক দশকের মধ্যে একটি মোটামুটি ৫০০ বর্গ মিটারের ঢাকা জায়গার বাইরে বেরোতে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এই আটক-হওয়া মানুষদের অধিকার সম্পর্কে কেন্দ্র বা রাজ্যের থেকে কোন নির্দেশিকা বা নির্দেশ নেই। আসাম জেল ম্যানুয়ালের দ্বারা এই আটককেন্দ্রগুলি পরিচালনা করা হয়। রাজ্য আটক-কেন্দ্র ও কারাগারের মধ্যে বস্তুতঃ কোন তফাত করে না , এবং জেল কর্তৃপক্ষ আটক-হওয়া-মানুষ আর কোন অপরাধের-দায়ে-অভিযুক্ত বা দোষী-প্রমাণিত-হওয়া কারাবন্দীদের মধ্যে বেছে বেছে আসাম জেল ম্যানুয়ালের বিধিগুলোর প্রয়োগ করেন। জেল-নিয়মের আওতায় থাকা বন্দীরা প্যারোল বা কাজ-করে-মাইনে পাওয়ার মত যে সব সুবিধাগুলি পান, সেগুলোর থেকে এই আটক-হওয়া মানুষেরা বঞ্চিত।

পুরুষ, নারী ও ছয় বছরের উপরের ছেলেদের তাদের পরিবার থেকে পৃথক করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলে যে কীভাবে এই নির্বিচারে, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দীদের মত অবস্থায় আটক করে রাখা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে আসন্ন NRC র ( যা কিনা সম্ভবতঃ লাখ লাখ মানুষকে রাজ্যহারা করবে) প্রেক্ষিতে কিভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার, বিশেষতঃ সব থেকে পবিত্র সংবিধানের আর্টিকল ২১ দ্বারা সুনিশ্চিত করা যে অধিকার, বিপন্ন। এই সব রাজ্যহারা মানুষদের নিয়ে কী করা হবে, সে বাবদে ভারতের কোন নীতি নেই।

সুতরাং, আটক শিবির সম্পর্কে সত্যিগুলো বাইরে বেরিয়ে এসেছে। রিপোর্টে অনেককিছু আছে এবং পরিস্থিতির গভীরতা বোঝার জন্য, আমি আন্তরিকভাবে চাই যে সবাই এই নিবন্ধ এবং পূর্ণ রিপোর্টটি পড়ুন ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কালাজ্বর, একটি অন্ধকার ঘর ও এক অপরাজিত যোদ্ধা

জয়ন্তী অধিকারী

অতুলনীয় মেধা,অতি উজ্জ্বল ছাত্রজীবন ও তীক্ষ্ণ ধীশক্তির অধিকারী হিসাবে সুপরিচিত অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর কালাজ্বরের প্রতিষেধক বিষয়ক গবেষণা আরম্ভ হয়।ক্যাম্পবেল কলেজে (বর্ত্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে) শুরু হয় ভীষণ মারণব্যধি কালাজ্বরের বিরুদ্ধে তাঁর ঐতিহাসিক সংগ্রাম। গবেষণার জন্য তিনি পেলেন ছোট একটি ঘর,যেখানে জলের কল,গ্যাস পয়েন্ট বা বিদ্যুত সংযোগ কিছুই নেই।কিন্তু এইসব অসুবিধা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে একটি পুরনো কেরোসিন ল্যাম্প সম্বল করে প্রকৃত বিজ্ঞানতপস্বী উপেন্দ্রনাথ শুরু করেন তাঁর গবেষণা।

ধাতুঘটিত যৌগকে রোগনিরাময়ের জন্য ব্যবহার করার পদ্ধতি তখন খুব বেশি প্রচলিত হয়নি ।এই প্রসঙ্গে ,মিশরের রাণীরা রূপটান হিসেবে ঘন নীল রঙের একধরণের অ্যান্টিমনি পেষ্ট ব্যবহার করতেন,অর্থাত অ্যান্টিমনির ভেষজ গুণের কথা তখনও জানা ছিল।বিংশ শতাব্দীর প্রথমে Paul Ehrlich ও তাঁর সহযোগীরা আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি ইত্যাদির যৌগকে সিফিলিস,আফ্রিকান স্লীপিং সিকনেস ইত্যাদি অসুখের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেন। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভাষা-ভীমরতি, সমালোচক ও হ-য-ব-র-ল (প্রথম পর্ব)

সৌরভ মিত্র

শব্দের মূলে নাকি ক্রিয়া, সেই ক্রিয়াই নাকি ঠিক করে শব্দের অর্থ! এই মতে বাংলাভাষার সংস্কৃত-ঘেঁষা শব্দগুলির হিল্লে হলেও শব্দভাণ্ডারের ‘দ্রাবিড়ীয়’, দেশী, বিদেশী শব্দগুলির অর্থ বাতলাতে গিয়ে চটকদার কিন্তু রহস্যময় কিছু বিষয়/ গল্প/ ধারণা উঠে আসে। উঠে আসে অদ্ভুত সব প্রায় অসম্ভব তত্ত্ব, -কৃষ্ণ আসলে কালো টাকা, বিষ্ণু আসলে পুঁজি (‘সেপারেশন অফ্ সারপ্লাস্’ বোঝানোর সময় এ’ কথা অবশ্য মার্ক্সসাহেবও তার ‘ক্যাপিটাল’-এ বলেছেন), জগন্নাথ হল ‘যন্ত্ররাজ বিভূতি’ - কি আশ্চর্য্য, ‘ইংলিশ ফ্যাক্ট্রি অ্যাক্টে’র আলোচনা করতে গিয়ে এ’ কথাও মার্ক্সসাহেব বলে গেছেন! এরপর ‘শিক্ষিত’ শব্দের অর্থে যখন পাওয়া গেল ‘কোনও একটি বিষয়ে অল্পবিস্তর বিদ্যে আর বাকি ৯৯৯টি বিষয়ের আকাট মূর্খামির যোগফল’ –এমন জায়গায় আঘাত লাগে যে জনসমক্ষে বলা দায়!... এই পদ্ধতির নাম ‘ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থবিধি’। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

বিপ্লব রহমান

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!

"সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার।"

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০ হাজার ত্রিপুরা জনজাতির শ্রম দাসত্বের চিত্রটি এভাবেই ফুটিয়ে তুললেন ছোট কুমিরা নামক আদিবাসী পল্লীর নিকুঞ্জ ত্রিপুরা (৭০)।

কিছুদিন আগে পেশাগত কারণে সেখানের ছোট কুমিরা ...
     ... পড়ুন বিপ্লব রহমান এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

ফেকু পাঁড়ে

অনুপ্রদান

শিক্ষাক্ষেত্রে তোলাবাজিতে অনিয়ম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত গত কিছুদিনে কলেজে ভর্তি নিয়ে তোলাবাজি তথা অনুদান নিয়ে অভিযোগের সামনে নানা মহল থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পরে রাজ্য সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী এদিন সাংবাদিকদের জানান অনিয়ন্ত্রিত তোলাবাজিতে মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট ক্ষুব্ধ এবং তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে সরকারী হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, মা মাটি মানুষের সুবিধের জন্য তারা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবান্ন থেকে তোলাবাজির টাকার পরিমা ...
     ... পড়ুন ফেকু পাঁড়েএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রাষ্ট্রহীন ৪০লাখ !

শমীক

আসামের চা বাগানে শতাব্দীকাল আগে কাজ করতে যাওয়া মধ্য ভারতের আদিবাসী মানুষদেরও স্থানীয়রা 'বঙ্গালী'ই বলে! কেননা আসামে বাইরে থেকে আসা সবাইকেই বঙ্গালী বলা হত। সাহেবরা ছিল 'গোরা বঙ্গালী'! অসমীয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে বাঙালি মানুষদের আগমনের দীর্ঘ ও নিবিড় ইতিহাস এর থেকে বোঝা যায়। এবং অবশ্যই প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক কাজে বাঙালিদের আধিপত্য স্থানীয় মানুষদের চোখে এক বিদ্বেষের ভাবনা তৈরী করতে করতে গেছে বিগত শতাব্দীগুলোর ইতিহাস জুড়ে। মিলেমিশে থাকার ইতিহাসও ছিল অবশ্যই। বাহ্যিক উস্কানি ছাড়া মানুষ এক জায়গায় থাকলে যেভাবে মিলেমিশে থাকে, সেরকম। সেই থাকার মধ্যে জীবন সংগ্রাম ছিল, জীবনের গানও ছিল। ভুপেন হাজারিকা, জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা, বিষ্ণু রাভা, হেমাঙ্গ বিশ্বাসরা যখন একসাথে মিলে মানুষের গান গাইছেন, তখন সেই সমষ্টিযাপন আর সংগ্রামের ইতিহাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রসংগঠন কই?

কুলদা রায়

এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্র সংগঠনগুলোই। তারা নানা মত ও পথের সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলেছিল। আবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আলাদা থেকেও যুগপৎ আন্দোলন করেছে। সে আন্দোলন সফল হয়েছে। এরশাদ পড়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা মনে রেখে ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। তারা আড়েঠারে বলার চেষ্টা করছে, এইসব আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলো যোগ দিলে সরকার মাইন্ড করতে পারে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজতে পারে। খুঁজুক। সরকারের পারমিশন নিয়ে সরকারের ডিজাইন অনুসারে আন্দোলনের অর্থ নেই। যারা যেকাজ, তার সেই কাজই করতে হবে। ফলে ছাত্র সংগঠনগুলো গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পড়ো। নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর দরকার নেই। ...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা