এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

priyak mitra

অথ-ভোট-কথা:পাগল

     পাড়ায় তৃণমূলের দেওয়াল হয়েছে কয়েকবছর হল। তেরো বছর টানা প্রবাসে কাটিয়ে পাড়ায় ফিরে পাড়াটাকে কেমন অচেনা এবং অভিমানী লাগছে সৌম্যর। রাস্তাঘাট,দোকানপাটের চরিত্র পাল্টেছে। তবে মানুষজনের চরিত্র যে বিশেষ পাল্টেছে এমন নয়।  রণেনজ্যাঠা আগের মতই কাঁটাপুকুরের রকে বসে ফুট কাটেন এবং লোকে আগের মতই তাকে পাত্তা দেয়না।  ভদ্রলোকের বয়স বেড়েছে স্বাভাবিক নিয়মে,ফুট কাটার অভ্যেসটা যায়নি। দুনিয়াসুদ্ধু সকলেই ভুল,ঠিকের হদিশটা একমাত্র উনি জানেন-এই ভাবটা আর গেল না। কেউ পূর্বদিকে যেতে চাইলে উনি তাকে দক্ষিণ-পশ্চিমে যেতে উ ...
     ... পড়ুন priyak mitraএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

বুদ্ধিজীবি

- দোহাই মিস্টার মিটার! হাপনি এরুকম কোরবেন না! হামার নুকসান হোয়ে যাবে, বেওসার খেতি হোয়ে যাবে!
- হ্যাঁ, তা তো যাবেই। আপনি জাল ওষুধের কারবার করবেন, বেবিফুডে ভেজাল দেবেন আর আমি আপনাকে ছেড়ে দেব?
- শুনেন মিস্টার মিটার! কেতো টাকা চাই হাপনার বোলেন। হামি চেক লিখে দিচ্ছি। আভি!
- টাকার লোভ যে আমার নেই সে তো আপনি আগেই দেখেছেন, মগনলালজী। ওসব বলে ফেলু মিত্তিরকে চুপ করানো যায় না।
- তো কী চাই বলেন? মেয়েছেলে? কলগার্ল? হামি সোব ইন্তেজাম কোরিয়ে দিব, হোটেল ভি ঠিক কোরিয়ে দিব, হাপনি গিয়ে স্রিফ কাম কোর ...
     ... পড়ুন অভিষেক ভট্টাচার্য্যএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

একক

বার স্টুল


যোশীর সঙ্গে আলাপ এনাকোন্ডা ক্লাবে। কেঝাং আলাপ করিয়েছিল । করিয়েই বেপাত্তা । আমি আর যোশী পাশাপাশি বসে আছি । দুটো উঁচু বার স্টুল । সোফায় বসতে ভাল্লাগেনা । কেমন যেন অনিচ্ছায় এঁকেবেঁকে যাই । উইকেন্ড এর ভীড়ে ফ্লোর জমজমাট । কিঙ্গা , সোনম এসেছে রিসেন্ট গার্লফ্রেন্ড নিয়ে । ওদিকে নাইন বলস এর বোর্ডে ডাওয়া নর্বু । এদিক ওদিক দেখি । আবার বিয়ার এ চুমুক দি । চুপচাপ সময় চলে যায় । মিলকা এগিয়ে এসে ভরে দেয় দুজনের মাগ দুটো ।যততমই হোক না ক্যানো প্রতিবার ঢালা বীয়ারের প্রথম চুমুকটায় আলাদা ঝাঁঝ থাকে । তারিয়ে নি সেই ...
     ... পড়ুন এককএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

চক্র

রুমা মোদক

 সুমনের কোন গন্ধবাতিক নেই। যেখানে সেখানে যে কোন গন্ধ তার নাকে লাগে না। বিশেষত যে গন্ধ যেখানে লাগবার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ভালো কিংবা মন্দ হোক যে কোন রকম। গন্ধ তার প্রাত্যহিকতাকে কোনো ভাবেই প্রভাবিত করে না। গন্ধকে প্রিয় কিংবা অপ্রিয় কোনো সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার বাতিক ও তার নাই, যেমন ছিল দুলালের। দুনিয়ার তাবৎ ভালো গন্ধকেই তার লাগতো হাসনাহেনা ফুলের মতো। কিন্তু এই ঝামেলা সুমনের নাই, পাশের দোতালা বাসায় পোলাও রান্না হলে ঘি গরম মশলা ফোড়নের গন্ধই নাকে লাগে তার, মেসে শুঁটকি রান্না হলে শুঁটকির। রোজ রাতে মধুবন রেস্তোঁরার পাশ দিয়ে ফেরার সময় ড্রেনে জমে পচে উঠা বাসি খাবারের নাড়ি-ভুড়ি উল্টে আসা গন্ধ আর বারান্দায় শিককাবাব ভাজার পেটের তীব্র ক্ষুধা জাগিয়ে দেয়া গন্ধ মিলেমিশে যে খানিক গন্ধময় ঘোর তৈরি করে তার ক্লান্ত ক্ষুধার্ত শ্রান্ত দেহ ঘিরে, তাও খুব স্বাভাবিকই বোধ হয় সুমনের। মোটেই তা বাতিকগ্রস্ততার পর্যায়ে পড়ে না। কিন্তু আজ ২৫ মাইল সি এন জি চালিত যান আর বর্ষার কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তায় ১০ মাইল রিক্সায় আদিত্যপুর গ্রামে দুলালের বাড়িতে পৌঁছে প্রথমেই তার চোখ যায় বাড়ির শেষ মাথায়। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ম্যাক্সিমিনি উওমেন্স বুটিক

অবন্তিকা পাল

 ক্রিস্টাল হার্বাল ক্লিনিকে গিয়ে বলতে, গোটা ছয়েক ওষুধ লিখে দিল । সে ওষুধ আবার ওদের কাছ থেকেই কিনতে হয় । বিল হল চব্বিশ টাকা । সব ক্যানসেল করে একটা ট্যাবলেটের শিশি নিয়ে এলাম । রাত্তিরে দুটো বড়ি, ঘুমোবার আগে । সে কী কেলো বড়দা! কিছুতেই কিছু হয়না । ইংরিজির বদলে গড়িয়াহাট থেকে দুটো বাংলা সিডি আনা করালাম । মাতৃভাষায় যদি কিছু উপকার হয় । তাও হল না । ব্যবসাটা কোনওক্রমে করতে হয় তাই করা । লেখা ফেখা মাথায় উঠেছে । পুরো বনবনাইটিস । শেষে বড়দা, আপনার এই দোকানের উল্টোদিকে ওষুধ পাওয়া গেল । আপনার দোকান, যা কিনা আমায় ভাড়ায় দেওয়া - টিপটপ মিটশপ । প্রথম দিনেই বুঝেছিলাম দোকানটার আয়পয় ভালো । কিন্তু চার-চারটে বছর বসছি, এতদিনে একবারও এ বিষয়টা চোখে পড়েনি কেন কে জানে ! ফারুখ যখন রোজ দোকান বন্ধ করে, এই সাড়ে ন’টা নাগাদ, রাস্তার উল্টো ফুটে ম্যাক্সিমিনি বুটিকের মামনিরা তাদের ম্যানিকুইনগুলোকে জামা ছাড়ায় । রোগা রোগা ম্যানিকুইন, তাদের চ্যাপ্টানো নিতম্ব, বুকের কাছে সামান্য ঢিবি । 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

বাজে খবর

আবিষ্কার হল প্রাণঘাতী দলিত ব্যাকটেরিয়া

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিকতম রিসার্চে পাওয়া গেল এক বিস্ফোরক তথ্য যা গোটা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে বলে খবর। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ভারতের ৪২০ জন দলিতের উপর দীর্ঘ দুবছর গবেষণার পর তাদের সবার দুই ধরণের সম্পূর্ণ নতুন প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। ব্যাকটেরিয়াগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে দলিতোব্যাক্টাস এবং আনটাচেব্যাসিলাস।

বিজ্ঞানীদের মতে এই ব্যাকটেরিয়াগুলি দলিতের দেহে জন্মগত ভাবেই থাকে। স্পর্শের মাধ্যমে কোনওভাবে সাধারণ মানুষের দেহে এলে তা প্রাণঘাতী তো ...
     ... পড়ুন বাজে খবরএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sakyajit Bhattacharya

নারদনিকের নেচার পাঠ

ম্যাজিক রিয়ালিজম নিয়ে প্রশ্ন করাতে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ একবার বিরক্ত হয়ে উত্তর দিয়েছিলেন “ম্যাজিক আবার কি? ইউরোপীয়ানদের কাছে যেটা ম্যাজিক রিয়ালিজম আমাদের কাছে সেটাই বাস্তবতা। আমাদের বাস্তবতায় ঝড়ে একটা গোটা সার্কাস উড়ে গিয়ে আমাজন নদীতে পড়া অথবা তিনমাথা ওয়ালা শিশুর জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। আপনারা বুঝবেন না”।

কলকাতায় নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা, জলাজমি বুজিয়ে ফেলা, জংগুলে জমি ভরাট করে রিয়েল এস্টেটের অশ্লীল মাথা তোলার প্রতিবাদে যদি আমার মনে হয় প্রকৃতি আস্তে আস্তে দখল নিয়ে নিচ্ছে আমার ...
     ... পড়ুন Sakyajit Bhattacharyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Manash Nath

যা কিছু বাড়তি

যা কিছু বাড়তি

যা কিছু বাড়তি তাই কি আসলে সুখ! আর না পাওয়াগুলো.... সেগুলো তবে কি দুঃখ! ঠিক সন্ধ্যের আগে আগে একটা পেটকাটি ভাসতে ভাসতে এসে ছাদের কিনারায় পড়ল! এবারে অংক করাতে বসে বিকাশদা সবার সামনে কানটা টেনে এনে দু আঙুলের ফাঁকে পেন্সিল ঢুকিয়ে জোরে চেপে দিল.... আর তার পর সবাইকে লুকিয়ে সায়নি যে ব্যাথায় হাত বুলিয়ে দিল সেটা.....? বাড়িশুদ্ধু লোকের জামাকাপড় বয়ে আনতে ইস্ত্রিখানায় গেলে আর ভাইদা একটা কোঁচকান একশ টাকার নোট হাতে দিয়ে বলল এই নে, প্যান্টের পকেটে ছিল!! শালা মূহুর্তে ভাইদার মুখটা কেমন ...
     ... পড়ুন Manash Nathএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sumeru Mukhopadhyay

দিনে দিনে বাড়ছে তোমার রূপেরই বাহার

গরম নেহাত কম নয়, ভোট তদুপরি। ভোট থাকা ও না থাকার গুটিকয় অঞ্চল পেরিয়ে আমরা চলেছি এক উৎসবের দিকে। গাড়ি জুড়ে বিয়ারের মাতম চলছে, কাঁচে তাহিতি দ্বীপপুঞ্জ, যে দামামা বাড়ছিল পরে শুনলাম সেটি খাঁটি জামাইকান সঙ্গীত। রাম আর ফেয়ারওয়েলের বাইরে ভাবতে ভাবতে আয়নাপম রাস্তা। ভরা দুপুরে গাড়িঘোড়া নেই। গুশকরা দিয়ে ঢুকে যাব, হ্যাঁ মোড়ে অবশ্য কর্তব্য ঠাণ্ডা বিয়ার রিফিল, অবাক প্রতিবার দোকানগুলি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, যদিও রাস্তা ভুল আমরা করেই থাকি আকছার। বিয়ারের সঙ্গে কিনে নেওয়া হল রাতের মদ, যেহেতু এবার আমরা বোলপুর য ...
     ... পড়ুন Sumeru Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শিবাংশু

তুমি গান্ধার, তুমিই নিষাদ

পরাণপ্রিয়, কেন এলে অবেলায়....
-------------------------------
'মনে এক রমণীর বসবাস সকল সময়।
তাকে ভালোবাসতেই হয়।
বাইরের সব ভালোবাসা
তাই ভাসা ভাসা।
তুমিও যখন এসো ঘরে
দেয়ালেই শুধু ছায়া পড়ে
ঘরের ভিতরে তুমি নেই।
যা বলি তোমাকে,
বলি সে-রমণীকেই। ' ( সঞ্জয় ভট্টাচার্য)
প্রতিটি রাগের অন্দরমহলেই হয়তো এক রমণীর বসবাস সকল সময়। হয়তো আমার মনে শুধু তার ছায়া পড়ে, ঘরের ভিতর সে আসেনা। তবুও আমার সকল গান.....

...
     ... পড়ুন শিবাংশু এর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ঘরবাড়ি ভালা না আমার

সোমনাথ রায়

 – ‘জিগেশ করছিলে না? কী করে বাঁচিয়ে রাখি? বড় মায়া দিয়ে বাবু। মায়া না থাকলি এ দুর্যোগে কিছুই রাখা যায় না। ঐ কচিগুলো, এত নেওটা আমার, এত মায়া যে ছাড়ি যেতি দিলাম না। এই মাঠও তাই। তোমাদের ফেলাট বানানোর গর্ত রোজ এসে গিলে ফেলতি চায় এই জমি। খুরপি নিয়ে লড়াই করি বাবু, মায়া দিয়ে আটকে রাখি যেটুকু জমিজমা পারি। আবার হেরে যাই যখন সব গর্তে ঢুকি যায়। রাবিশের নিচে ঢেকে যেতি থাকে বীজতলা, চার, ফসল সব। আবার খুরপি দিয়ে খুঁচোই। ফিরিয়ে আনি কিছু। লড়াই চলে গো বাবু। আমার ছেলেগুলো কই গেল দেখি! ’

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

সিকি

মরালমেসো, মরালমাসিমা এবং প্রাতঃকৃত্য

অস্বীকার করবার প্রায় কোনও জায়গাই নেই যে ছোটবেলায় আমাদের অনেকেই প্রায় নিয়ার-পারফেক্ট শুদ্ধাচারী ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতিতে বড় হয়েছিলাম। হিন্দি গান শোনা ছিল মহাপাপ, গাওয়া তো উচ্ছন্নে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল। ছোটখাটো বিচ্যুতি, এই যেমন অনুপ জালোটা, মান্না দে এটুকু বাদ দিলে বাংলাময় ছিল আমাদের জীবন। পাড়া কালচারে বড় হয়েছি আমরা। গ্রাম নয়, আবার পুরোদস্তুর শহরও নয়, মফস্বল সংস্কৃতিতে কাজ করত পাড়া-কালচার। শুভানুধ্যায়ী কাকু-জেঠিমা-মোড়ের সিগারেটের দোকানের স্বপনদা, এঁদের স্নেহদৃষ্টির ছায়াতেই আমরা বড় হয়েছি। প্রায়শই ...
     ... পড়ুন সিকিএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বোরহান উদ্দিনের পহেলা বৈশাখ

সুষুপ্ত পাঠক

 পহেলা বৈশাখ এলেই আজকাল একজনের কথা আমার মনে পড়ে। ভদ্রলোক আর আমি পাশাপাশি ডেস্কে বসে কাজ করতাম এক সময়। চাকরি ছেড়ে দেবার পরও তার সঙ্গে আমার প্রায়ই দেখা হতো। এখনো হয় কালেভদ্রে।

আমাদের কলিগ সবিমল বসু ধর্ম নিয়ে প্যাঁচপ্যাচি ধরনের মানুষ। অফিস ছুটির পর দেখতাম কলা গাছের বাকল নিয়ে যাচ্ছেন। জিজ্ঞেস করলে বলত বাড়িতে কি নাকি পুজা আছে। সকালবেলা কখনো হাঁটতে বের হলেও দেখতাম ফুল কিনছেন। বাড়িতে নিজেই পুজা দেন। ঠাকুর দেবতায় খুব ভক্তি। আমাদের জীবন থেকে বাংলা কেলেন্ডার উঠে গেলেও সুবিমলকে দেখতাম বাংলা মাসের তারিখ পর্যন্ত মনে রাখছেন। উনার সঙ্গে কথা বলে মজা পেতাম কারণ উনি উনার জীবনে এখনো ইংরেজি তারিখের সঙ্গে বাংলা তারিখটি সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন বৃষ্টি কম হচ্ছে, এ বছর বৃষ্টির দেখা নেই… সুবিমলদা বলে উঠতেন আষাড়ের আজকে ২ তারিখ ১৪ তারিখে রথযাত্রা। এর আগে বৃষ্টি হবে বলে মনে হয় না…। কিংবা পৌষ ২২ চলছে কিন্তু শীতের দেখা নেই ইত্যাদি…।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

চোখ আর নদীর জল

অমর মিত্র

শ্রীচরণেষু বাবা, তোমার তৃষ্ণা মিটিয়াছে...? কপোতাক্ষর ধারের মানুষ তুমি, আর আছে বেতনা, রূপসা, ভৈরব, চিত্রা, মধুমতী, তখন সেই সব নদ নদীতে কত জল, অথচ তুমি নাকি এক ফোটা জল পাওনি। কী আর দুঃখের কথা লিখি তোমাকে, এখন নাকি ওই সব নদীতে আর জল নেই। আমাদের গাঙের স্টিমার বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু বালি ওড়ে কপোতাক্ষর বুক থেকে। যত শুনি বুক হিম হয়ে যায়। আকন্ঠ তৃষ্ণা নিয়ে মানুষ ঘুরছে নদীর পাড়ে পাড়ে। বাবা তোমার তৃষ্ণা কি মিটেছিল সেই উত্তরের দেশের তিস্তা, করতোয়া, যমুনা, ডাহুক, তালমা, চাওয়াই......এই সমস্ত নদীর জলে। সেই সব নদী কি জল দেয়? 


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Debabrata Chakrabarty

পাখি ঃ- সভ্যতার অন্যতম শত্রু 


গুজরাতের একটি বিমানবন্দরে সম্প্রতি মোষ চড়ে বেরানো এবং তৎজনিত অসুবিধা খবরের কাগজ এবং ফেসবুক প্লাবিত করে আমাদের এই উপলব্ধি তে নিয়ে আসে আসলে গরু ভেড়া পাখি এবং তাবৎ জীবজগতের উপযুক্ত স্থান হোল চিড়িয়াখানা। তাহাদের ইতস্তত বিচরণ সভ্যতার পক্ষে ভীষণ বিরক্তিকর বাতিরেক অন্য কিছু নয় । ভাবা যায় প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যের অন্যতম এয়ারপোর্ট এ কিনা মোষ ঘুরে বেড়াচ্ছে ? যেমন উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা মাঝে মাঝেই খবর পাই যে আবার তিনটে হাতী ট্রেনে কাটা পড়েছে। শিলিগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত এই ট্রেন পথটি ত ...
     ... পড়ুন Debabrata Chakrabartyএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আউশভিৎস

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য্য

 প্রতি সন্ধেবেলা যখনই অফিসফেরতা বাসটা ঠাকুরপুকুর ছাড়িয়ে ডানদিকে বাঁক নেয় ত্রিদিবের আজকাল পেটের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে ভয় পাকিয়ে উঠতে থাকে। তার মনে হয় কলকাতার সভ্যতা থেকে এবার সে আদিম অন্ধকারের রাজ্যে প্রবেশ করছে। 

তার নতুন কেনা ফ্ল্যাট হাঁসপুকুর ছাড়িয়ে এক অনন্ত নিঃসীম মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃঝুম হয়ে। চারদিকে ঘাপটি মেরে থাকা অন্ধকার লাফিয়ে পড়তে চায় সুযোগ পেলেই। সেই অন্ধকারকে টর্চের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা করে দিয়ে দুই পাশের মজা পুকুরের মধ্যেকার সরু রাস্তা দিয়ে পাঁক কাদা আর সাপখোপ এড়িয়ে সন্তপর্ণে মেন গেটের দিকে  এগিয়ে যেতে হয় । এই নতুন ফ্ল্যাটের পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে গণ্ডগ্রাম। মরা ঝোপ, বুনো জংগল, ক্ষেতের জমিতে সিমেন্ট ফেলে তার ওপর মাথা তুলছে প্লাস্টিক কারখানা, খোলা মাঠের এখানে ওখানে শ্বেতীর মতন জমাট বেঁধে টুকরো টুকরো বাড়িঘর, কলাবন, অবৈধ খাটাল। কলকাতার দিকে কিছুটা এগোলে ঠাকুরপুকুর বাজার। কিন্তু এইদিকটায় বড়ই নির্জন। সন্ধ্যে হয়ে গেলে শুধু টিমটিম করে মোবাইল রিচার্জের দোকান, চায়ের গুমটি অথবা ম্যাড়ম্যাড়ে মুদীর দোকানের আলো জ্বলে। মাঝে মাঝে রাস্তা কাঁপিয়ে বাস বা ট্রেকার চলে যায় গুম গুম করে। এই ধু ধু প্রকৃতির মধ্যে রিয়েল এস্টেট বানাবার কথা সমাদ্দার ছাড়া আর কেউ ভাবতেই পারত না।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বিভুঁই, রোদ্দুর, ঝাঁ-চকচক

মাজুল হাসান

 তানিয়া ভাবে, ঠিক কীসের আসায় দেশান্তরী হয় মানুষ? কাকে বলে শেকড়? কেনো এসেছিল যোগেন কাপালি চর-নরসুন্দরা থেকে তিন মাইল উজানে? একখানে যেটা উজান অন্য জায়গার তুলনায় সেই একই জায়গা হতে পারে ভাঁটি। যেখানে কাঁটাতারের ওপার থেকে ধেয়ে আসে জলজ হাতি আর আথালিপাথালি লিলুয়া বাতাস। গাঁয়ের নাম উজানডাঙ্গা।   

তানিয়া দুই হাতে দুই ফালি সুতো দিয়ে বানানো চিমটা মতো লোম উটপাটনের অতি সাধারণ হাতিয়ারটা ট্র্যাশবক্সে ফেলে ড্রয়ার থেকে বের করে নেয় লোমকাটার ইলেকট্রিক মেশিন। ইচ্ছে, বেজায়গার লোমগুলোকে খানিক ছেঁটে ওয়াক্স টেপ দিয়ে তুলে ফেলা। কিন্তু স্টিভ দ্বিতীয়বারের মতো ঝাঁঝিয়ে ওঠে- ‘নো নো ক্লিন ইনসাইড, ক্লিন ইনসাইড!’ 

হয়তো তৃতীয়-চতুর্থ কিংবা তারওচেয়ে বেশি বার।  

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ঘোটকাসুর বধ

কৌশিক দত্ত

 ষোলো তারিখ বুধবার রোজকার মতো সকাল ন’টার মধ্যে ভাত খেয়ে বেরিয়ে গেল পিনাকী। দুপুরে বাড়ি আসে না, সকালেই খাওয়া সেরে নেয়। প্রথমে একবার যাবে যাদবপুর। সেখান থেকে নির্মলের দোকান। একবার দাঁড়াতে হবে মুখোমুখি হুল উঁচিয়ে। ইলিয়াস বা মদনকে বললে অবশ্য দু-চারটে মোষ নিঃশ্বব্দে গায়েব হয়ে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়। কেমন ভাবে আস্ত মোষ অদৃশ্য হয়, ম্যাজিশিয়ানরা বলে না। কিন্তু মোষ খ্যাদানো বড় কথা নয়। বড় কথা হল অপমানিত পরাজিত লিঙ্গের পুনরুত্থান। হেরো পুরুষ বলে কিছু হয় না। হেরে যাবার পর আর পুরুষ থাকে না। তার কুন্ডলিনী অনন্ত শয্যায় শায়িত হয় মূলাধারের চৌবাচ্চায় জিলিপির মতো বেবাক পেঁচিয়ে। ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্ন দেখে, মণিপুর চক্রে দশ পাপড়ি নীল পদ্মের ওপর দাপাদাপি করছে এক কৃষ্ণকায় মোষ। কী বলিষ্ঠ তার গড়ন! মোষ নাচছে, পদ্মের পাপড়ি দুলে উঠছে। শ্বাস ফেলছে আর মেঘের মতো জেগে উঠছে দু’গাছা মেয়েলি চুল। ঘুমের মধ্যে সে কঁকিয়ে ওঠে, কিন্তু বাধা দিতে পারে না।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্প

মুরাদুল ইসলাম

 আব্দুল মজিদের এই কার্যক্রম নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত মানুষদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকেছিল এবং অস্বাভাবিক জিনিসের প্রতি মানুষ এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করে সুতরাং কিছু মানুষ আব্দুল মজিদকে ঘিরে দাঁড়াল। আব্দুল মজিদ প্রচন্ড সূর্যের উত্তাপে গরম ভেজাল বিটুমিনের স্তর দ্বারা আচ্ছাদিত রাজপথে দাঁড়িয়ে তার চারপাশে জমে যাওয়া মুখগুলোকে দেখে ভেতরে ভেতরে পুলক অনুভব করল।  তার মনে হল অনেক অনেক দিন পরে রাশি রাশি পক্ষীকূল তার ভেতরের দুনিয়ায় একসাথে উড়াল দিয়েছে এবং তারা এক স্বর্গীয় ছন্দে একসাথে ডানা কাঁপিয়ে উড়ে চলেছে। আব্দুল মজিদের শরীরের ভেতরের রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠল এবং সদ্য দৌড়াতে শেখা বাছুরের মত তার সমস্ত শরীর জুড়ে ছুটে বেড়াতে শুরু করল অপার্থিব উচ্ছ্বলতাকে সঙ্গে নিয়ে। আব্দুল মজিদ এইসব অনুভব করে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে এল এবং চোখগুলো ঝাপসা হয়ে আসল। সে নিজের চোখকে উপস্থিত জনতার চোখের আড়াল করতে উত্তপ্ত রাজপথের দিকে তাকাল এবং সে দেখতে পেল স্থানে স্থানে চাকার ঘর্ষণের ফলে রাস্তার বিটুমিন উঠে গেছে। সেইসব জায়গা রাস্তার বুকের ক্ষত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে আর কোথাও কোথাও এইসব ক্ষত অগভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। আব্দুল মজিদ ঝাপসা চোখ দিয়ে দেখলেও অনুভব করতে এইসব ক্ষত এবং গর্ত আসলে নগরের নাগরিকদের বিবর্ণ হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। তার খারাপ লাগে এবং সে নিজেকে শক্ত করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মুখ তুলে বলে, আজ আমি আপনাদের একটা গল্প বলব। শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্প। এইগল্প এই শহর এবং শহরে বসবাসকারী মানুষের গল্প। আপনাদের মনে হতে পারে এই গল্পের সাথে শহর এবং শহরবাসীদের কোন মিল নেই। কিন্তু এই মনে হওয়া ভুল হবে। কারণ আমি এই চারপাশের বাস্তব পৃথিবীর ভেতরের অবাস্তব জগতটাকে দেখেছি এবং সেইমত বুঝে নিয়েছি এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পটিকে। এখন আমার দায়িত্ব আপনাদের এই গল্প শোনানোর। আপনাদের কি এই গল্প শোনার সময় হবে?


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আঁধার ভাল

যশোধরা রায়চৌধুরী

 “হোক ঝঞ্ঝা” শুরু হয়েছিল একটা স্পেসিফিক ঘটনা থেকে। বয়েজ হোস্টেলের কাছে একটা ফেস্টিভ্যালের সময়ে একটি মেয়ে মলেস্টেড হয়েছিল। উপাচার্য থেকে শুরু করে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট কমপ্লেন্টস কমিটি কেউ সঠিক স্টেপ নেয়নি। কোন অ্যাকশনই হয়নি প্রথমটা। পরে, যখন কমপ্লেন্টস কমিটি বসল, অধ্যাপিকা সঙ্ঘমিত্রা সরকার, ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের হেড, কমিটির চেয়ার পার্সন মেয়েটির বাড়ি গিয়ে বলে বসলেন, তুমি সেদিন কী জামাকাপড় পরে ছিলে? তুমি কি মদ্যপান করেছিলে? ওয়্যার ইউ আন্ডার এনি কাইন্ড অফ ড্রাগস?

মেয়েটি, মেয়েটির পরিবার অপমানিত বোধ করে। ভিক্টিমের চরিত্র হনন করে, ভিক্টিম অ্যাবিউজ করে, অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া পুরনো ট্যাকটিক্স। কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের কেরিয়ার বাঁচাতেই , কমপ্লেন্টস কমিটি এভাবে মেয়েটির ওপর কিছুটা দায় চাপিয়ে একটা হালকাফুলকা অভিযোগ লিখিয়ে অল্প শাস্তির মধ্যে দিয়ে ছেলেগুলোকে ছাড় দিয়ে দিতে চাইছে। ছাত্রছাত্রীরা এটাই বুঝল। আর ফেটে পড়ল হোক ঝঞ্ঝা। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বনমজুর

মাহবুব লীলেন

 বাঘটা সুবিধা দিচ্ছে না। এখন জায়গায় দাঁড়িয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ডান দিকে তাকাচ্ছে। এখনও গুলি পিছলে যাবার ভয় আছে। আব্দুল ওহাব আবার নিজের পজিশন বদলানোর কথা ভেবে বাদ দিয়ে দেয়। আজকে না পারলে কালকে হবে। কিন্তু উল্টাপাল্টা গুলি করে খামাখা একটা নিশ্চিত শিকার হাতছাড়া করা ঠিক না। এখনও যা বেলা আছে তাতে কাজ শেষ করে বড়ো নদীর ওই পাড়ে খালের ভেতরে দাঁড়ানো মহাজনের ট্রলারে দাঁত-নখ দিয়ে চামড়ার ঠিকানা বলে বেলাবেলিই বাড়ি ফিরতে পারবে। অবশ্য বড়ো নদীতে ফরেস্টারদের সামনা সামনি পড়ে যাবার ভয় আছে। গুলির শব্দ শুনলে টহল বোট নিয়ে তারা হয়ত এদিকে চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য আব্দুল ওহাবেরও উত্তর মুখস্থ করা আছে। তাকে যদি জিজ্ঞেস করে সে কোনো গুলির আওয়াজ শুনেছে কি না। সে নির্দ্বিধায় উত্তর দেবে- আপনাগের বন্দুকের একটা দেওড় ছাড়া তো আর কিছু শুনিনি


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কঠোর বিকল্পের পরিশ্রম নেই

পরিমল ভট্টাচার্য

 ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘকাল মদ নিষিদ্ধ সম্ভবত গুজরাটে। সেখানকার প্রায় ১৫% আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারায় সংস্কৃতিতে এর কী দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, সেই নিয়ে কোনও কাজ হয়েছে কী না জানিনা। তবে ২০০২ সালের দাঙ্গার হিংসালীলায় জনজাতির মানুষদের সামিল করা গিয়েছিল, সেটা জানি।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা