এই আমাদের টুকরো খবর, কটুকাটব্য, হ-য-ব-র-ল আর বোমাবন্দুক। পড়ুনঃ ব্রিটিশরাজ ও গাঁজার গল্প


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

চার্বাক

লোকগুলো কোথায়?

'যে ব্যক্তি প্রত্যাদেশের জায়গা করে দেওয়ার জন্য যুক্তিকে সরিয়ে নেয়, সে ঐ দুই বস্তু থেকেই আলো নিবিয়ে ফেলে; এবং এক অদৃশ্য তারকার দূরাগত আলো টেলিস্কোপে গ্রহণ করা নিমিত্ত কোনো মানুষকে তার নিজের চোখ তুলে ফেলতে রাজী করানোর মতো প্রায় একই ধরনের কাজ সে করে।' (জন লক, এসে অন দ্য হিউম্যান আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ১৬৯০)

ফাল্গুনের পাগল করা বাতাস। নতুন বইয়ের তীব্র সুবাস। আর মানুষ, বইয়ের খোঁজে আসা মানুষ, বইকে ভালবেসে বইয়ের গন্ধ শুঁকে বেড়ায় স্টলে স্টলে, সেইসব মানুষ, যাদের থেকে ঠিকরে ঠিকরে বেরোয় জোনাকির আলো! এ ...
     ... পড়ুন চার্বাক এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিৎকে কি আমি চিনতাম?

আমি একটু নড়েচড়ে গেছি। অভিজিৎ রায়ের প্রোফাইল এখনও জ্বলজ্বল করছে ফেসবুকে। পাঁচ ঘন্টা আগে শেষ আপডেট। বিডি নিউজের একটা লেখার লিংক। অভিজিতেরই লেখা। সাত্র নাথিংনেস বিজ্ঞান এসব নিয়ে লেখা একটা ছোট্টো প্রবন্ধ।তার প্রথম লাইন "কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?" আর সেই আপডেটের ঘন্টা পাঁচেক পরে পড়ছি বিডি নিউজেরই আরেকটা লিংক। এটা খবর। "একুশের বইমেলার থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা লেখক অভিজিৎ রায় ও ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যাকে। তাদের দুজনকে ঢা

...
     ... পড়ুন সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শিবাংশু

নয়ন'সোনাটা, কেন....

এই রাগটা আমার প্রিয়, অনেকেই জানে। যেভাবেই গাওয়া বাজানো হোক না, ডুব দিয়ে শুনি। তা বড়ে ঘুলাম যখন "সঁইয়া বোলো, তনিক মোসে রহিও না যায়" বলে আবার সঁইয়া'তে নেমে আসেন। অথবা ভীমসেন দু'তিনবার ঘনশ্যাম, ঘনশ্যাম বলতে বলতে গেয়ে ওঠেন "যমুনাকিনারে মোরা গাঁও" ... বুঝতে পারি গায়ে আমার পুলক লাগে আসলে কেমন অনুভূতি। বেগম আখতার তো রয়েছেনই, "পিয়া ভোলো অভিমান।" রয়েছেন নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা বিলায়ত তাঁদের বড়ো করে বাজানো রাগ পিলু নিয়ে, রবিশংকরের ছোটো মিশ্র পিলু। আসলে পিলু'ও ভৈরবির মতো একটা মনভোলানোর সুর। ঘর ভোলানোর সু ...
     ... পড়ুন শিবাংশু এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

রৌহিন

চিঠি

চিঠি লেখার স্বভাব ছোটবেলায় খুবই ছিল - বহু ধরণের চিঠি৷ প্রতি বছর বিজয়া দশমী পার হলেই ওফ সে কি যন্ত্রণা - বাধ্যতামূলক আইন৷ আমার ঠাকুর্দাকে আবার ইংরেজিতে লিখতে হত - বাংলা মিডিয়ামে পড়ে প্রতি মাসে একটা গোটা চিঠি ইংরেজিতে লেখা যে কি যন্ত্রণার সে যারা ভুক্তভোগী তারা ছাড়া আর কে-ই বা জানবেন৷ আমি অবশ্য প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কপি পেস্ট মারতাম প্রথম থেকেই - তখন তো জানতাম না যে ভবিষ্যতে এটা একটা অমূল্য শিক্ষা হয়ে থাকবে৷ ঠাকুর্দার চিঠিগুলো অবশ্য কপি পেস্ট হত না - ইংরেজিতে লেখা সেই গোটা চিঠিটা পড়া এবং তার মান ...
     ... পড়ুন রৌহিনএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Tim

পালানোর দিন-৪

..."এবার জ্যোৎস্নায়
সেইপথে বসন্ত আসবে, দু-এক রক্তের বিন্দু লেগে থাকবে গায়ে।"

চওড়া, পাকা ব্রিজ পেরিয়ে একটা মোড়। এককোণে বিজ্ঞাপণ, মুখ্যমন্ত্রী হাসছেন। অন্যকোণে বহুতলের বিজ্ঞাপণ, টিবিএইচকে, থ্রিবিএইচকে, সুইমিং পুল। ডানদিকে ঘুরলে নালার পাশ দিয়ে রাস্তা, তাও মোটের ওপর খুব সরু না। দুটো গাড়ি পাশাপাশি আসা যাওয়া করে। বাস যায়। মন্দির, কারখানা, ভাটিখানা ও ইশকুল। পলিটেকনিক কলেজ, বাঁয়ে সরু রাস্তা, দেড়খানা গাড়ির বেশি জায়গা নেই। কোথাও হয়ত একটু চেপে এলো, কোথাও অল্প হাঁফ ছাড়ার মত চওড়া। তারপর আবার বাঁ ...
     ... পড়ুন Timএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

তির্যক

ভাষার ছলনে ভুলি

ফেব্রুয়ারী মাস পড়তেই আমাদের সব চোখ ছলছল, বুক ধড়ফড়। নিজেদের হাজার সমস্যা এবং ফূর্তি শিকেয় তুলে এই মাসের অন্ততঃ তিনটে সপ্তাহ আমরা ওঁকে নিয়েই ব্যস্ত। কাগজে কাগজে গুলতানি, উনি কি মৃতপ্রায়, উনি কি আবার আগের মহিমায় (মানে সে যে কত আগের মহিমা সেটা আমরা কেউই ঠিকঠাক জানিনা) ফিরে আসবেন, নাকি ওঁর অন্তর্জলী হয়ে গেছে ! এই মুহুর্তে পরিস্থিতি চরমে, সবাই নিজের পছন্দমত দাওয়াই বাতলাচ্ছে, কেউ বলছে বদ্যি ডাকতে কেউ বলছে পুলিশ আর কেউ শহরের মাঝখানে মস্তবড় হাট বসিয়ে ওঁর চিকৎসার খরচ তোলার চেষ্টা করছে, সেখানে আবার রথ দে ...
     ... পড়ুন তির্যকএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

এক গঞ্জের ইতিবৃত্ত এবং কিছুটা স্মৃতিমেদুরতা - ১২

সুকান্ত ঘোষ

 নিখিলদার ব্যাগ থেকে সেই বোতলের উপস্থিতি টের পেলাম – সেখান থেকে মদ সরিয়ে আমি কার্তিকদাকে প্রথম চাখতে দিই। সেই সময়ের স্কুল অব থটস ছিল এই যে থ্রি এক্স রাম খেতে হয় হয় কষা মাংসের চাট দিয়ে। যথারীতি মাংস রান্নার ভার পড়ে কার্তিকদার উপরে – সেই বয়সে মদের ভাগ না-এলেও আমার প্রতি কার্তিকদার ভালোবাসার জন্য কষা মাংস আমি চেখে ছিলাম। দুর্গাপূজার ভাসানের সময় বাড়িতে মদের অনুপ্রবেশ নিমো গ্রামের সীমানায় বাঙাল অনুপ্রবেশের মতই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনা বলে পরে প্রমাণিত হয়েছে। আরো হালকা বয়েস বাড়লে প্রথম সময় এল মদ নিজের জিভে চাখার। আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড, ফিলোসফার ও গাইড ছিল গদাকাকু। এত দিন পর্যন্ত কেবল মদ সাপ্লাইয়ে সাহায্য করেছি – যখন খাওয়া হত তখন আমার বয়সীদের উপস্থিতি এ্যলাও ছিল না। ফলে পরিমাপে গোলমাল করে ফেললাম – প্রথমে নিখিলদার ব্যাগ থেকে হাতানো থ্রি-এক্স রাম ও পরে গদাকাকুর সামনে বসে তার গাইডেন্সে অক্টোবরের শেষের বিকেলে ছাদে জিন পান। সন্ধ্যা বাড়ছে, আমার বাড়ছে কনফিউশন – তখনও বাড়ির ঠাকুরকে প্রণাম করে বিজয়া দশমী করতাম সবাইকে – সেই প্রথম বার স্কিপ হল, বড় কারো কাছে যেতে পারছি না মুখে গন্ধের ভয়ে – মাথা ঘুরছে, পায়ের নিচে বসানো আছে আলি চাচার বানানো তুবড়ির বস্তা, নিজেদের বানানো রঙমশাল, আর অগুনতি বুড়িমার চকোলেট বোম্বের বাক্স। পরের স্মৃতি আবছা – নদুকাকুর ঘরে খাটের ধারে আমি বমি করছি মেঝেতে, আমার বাম পাশে শুয়ে আমার উপর দিয়ে উঠে মেঝেতে বমির চেষ্টা করছে আমার গাইড গদাকাকু। ফুলমা আমার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে আর বলছে এই গদাটার জন্য – ফলত গদাকাকু কোন জলপট্টি পাচ্ছে না, না পাচ্ছে বমি করার জন্য কোন হেল্প। সে নিশা আমাদের সহজে ছোটে নি – এবং পলকে পলকে তারে মনে উঠেছে। গাঁজা আমাদের ঘোষ বাড়িতে কোন দিন ট্রাই হয় নি। সেই দিন নিশা করে আমার এবং গদা কাকুর ঘৃণা লজ্জা ইত্যাদি ভয় প্রায় হাটে বিকিয়েছিল।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ব্রিটিশরাজ ও গাঁজার গল্প

তাতিন বিশ্বাস

 গাঁজা জিনিসটা সেইসময়ে যেহেতু খুব সস্তার নেশা ছিল, সেটা নিয়ে পার্লামেন্ট আগে খুব মাথা ঘামায় নি। মুঘল আমলেও গাঁজার ওপর কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ বসেনি। তবে ১৭৭০-এ কোম্পানি যখন প্রায় দেউলিয়া হয়ে পার্লামেন্টের দ্বারস্থ হয়, বেল আউট প্যাকেজের পাশাপাশি কোম্পানির থেকে লাভ বাড়ানোর অপশনগুলো পার্লামেন্ট বিচার করে। ১৭৯০ এ ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার গাঁজা-চরস-ভাং-এর ওপর ট্যাক্স বসানো হল। এই ট্যাক্স বসানোর ব্যাপারে পরবর্তীকালে কিছু মজার ঘটনা ঘটেছিল। গাঁজা ভাং-এর ব্যাপক ব্যবহারে কালেক্টররা বুঝে উঠতে পারছিল না কীভাবে ট্যাক্সেশন করলে সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ আসে। ফলে কখনো দোকানগুলোকে গুণগত তারতম্যে বিক্রির ওপর ট্যাক্স দিতে হয়, কখনো ট্যাক্সের নিয়ম পালটে দৈনিক ফিক্সড ট্যাক্স করা হয়, কখনো দামের ফারাক না দেখে সব ধরণের গাঁজা ভাং-এর ওপর ওজন অনুযায়ী ট্যাক্স ধরা হয়।  ১৭৯০ এর নির্দেশনামায় কালেক্টররা সরাসরি ট্যাক্স নিতেন না, নিজের এলাকায় গাঁজা ভাং চরস বিক্রির থেকে জমিদারদের ট্যাক্স কালেক্ট করতে হত। ১৭৯৩ এ ৩৪ নং রেগুলেশন অনুযায়ী কোম্পানির অধীনস্থ এলাকায় গাঁজা ভাং চরস চাষও ব্যবসা করার জন্য আলাদা করে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হয়। বলাবাহুল্য, লাইসেন্সিং ছিল রেভিনিউ আদায় করার সবচেয়ে সহজ পন্থা। লাইসেন্স পাওয়া এবং রাখার জন্য নিয়মিত ফি দিতেই হত। রেগুলেশনের কারণ হিসেবে সেটা উল্লেখও করা হয় যে লাইসেন্সের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমবে এবং সরকারের অর্থাগমও সম্ভব হবে। ১৮০০ সালে আরেকটা রেগুলেশন বের হয়, যাতে বলা হয় এগুলোর মধ্যে চরস সবচেয়ে ক্ষতিকারক এবং চরস বানানো বা বিক্রি সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। আর মজার ব্যাপার, ১৮২৪এ আরেক নির্দেশনামায় বলা হয় যে গাঁজা বা অন্যান্য নেশার জিনিসের থেকে মেডিকেলি চরসের কোনো বেশি ক্ষতিকারক প্রভাব নেই, ফলে ব্যান তুলে নেওয়া হল। ১৮৪৯এ বেশি আবগারি শুল্ক আদায়ের জন্য খুচরো গাঁজার ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। এই সময় থেকে পরের কয়েক দশক ট্যাক্স দৈনিক হিসেবে হবে না ওজনের ওপর হবে এই নিয়ে বিভিন্ন আইন আসে। ফলে দ্যাখা যাচ্ছে যে কোম্পানির শাসনের আমলে গাঁজা ভাং-এর ব্যাপারে অর্থাগমের সুযোগ নিয়েই বেশি মাথা ঘামানো হয়েছিল। গাঁজা নিয়ে আফিং-এর মতন ব্যবসার সুযোগ ছিল না। কারণ গাঁজা সস্তা, প্রায় ঘরেই চাষ করে ঘরেই খাওয়া যায়, আর লোকে যেরকম সেরকম ভাবে জোগাড় করে নিতে পারে। সুতরাং চাষ আর পাইকারি ব্যবসাতে ট্যাক্স বসানোই এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় ছিল। একই কারণে খুচরো গাঁজার ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণও করতে চেয়েছিল কোম্পানি।


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পুরাভারতের সুরাভাবনা

দীপ্তেন

 কোটিল্য এরপর নানান মদের লিস্টি দিয়েছেন, যেমন মেদক, প্রসন্ন, আসভ, অরিষ্ট, মৈরেয় আর মধু। মধু মানে কিন্তু হানি নয়, আঙুরের থেকে তৈরি ওয়াইন। উনি রেসিপিও দিয়েছেন। একটা শুনুন। মৈরেয় বানাতে কী কী অ্যাডিটিভ লাগে। মেষশৃংগী গাছের ছাল গুড়ের সাথে মিশিয়ে বাটতে হবে। তার সাথে দিন গোলমরিচ ও ত্রিফলা চুর্ণ। ব্যাস,এটাই সিক্রেট রেসিপি। আমের রস থেকেও মদ হোতো। কতো রকমের মদ ছিলো? আয়ুর্বেদে বলে ষাটটি। কোটিল্য উল্লেখ করেছেন প্রায় দশ-বারোটির কথা। অগ্নিপুরাণেও আছে সাত-আটটির নাম। তন্ত্র ঘাঁটলেও গোটা দশেক জেনেরিক মদের নাম পাওয়া যায়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ধুমকি বা একটি নেশাবিকাশের রূপরেখা

কল্লোল

ঝিম। এসময় বড়ো মায়াবী লাগে চারপাশ। গোধূলির জাদু আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে গাছেদের পাতায় পাতায়। সামনে শ্যাওলা-ঝাঁঝিতে ভরা ছলাৎছল ঝিলের জল। একপাশে ভিড় করে আছে কুচো কচুরিপানা। ত্রস্ত পায়ে জলপিপি ছুটে যায় জল বেয়ে বেয়ে। রূপসী জলসাপ সোনা ও কাজলে মুড়ে ডুবে থাকে নিঝুম আলস্যে। পানাকৌড়ি যুগল ডুবে যায় ভেসে ওঠে এমনিই। ওপারে এক দারুণ বালক চার খুঁটিতে বাঁধা নৌকায় এক মনে দাঁড় বায়। সে নৌকা কোথাও যায় না। স্থির সেই নৌকাটিতে দাঁড় বেয়ে চলে বালক অবিরাম, অক্লান্ত। সে বুঝি অনুশীলনরত। নৌকা যাবে না কোথাও, কোত্থাও। তেমনই কথা দেওয়া আছে ঘাটের সাথে। অথচ বালকটিকে যেতে হবে দূরে বহুদূরে....। আর আমরা, তাম্বুরিন বাজানো ডিলানের মানুষটির মত, কোথাও যাবার নেই যার, গাইতে থাকি।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

নিভন্ত এই চুল্লিতে

কিকি

আমার তখন সদ্য বিয়ে হয়েছে। মাত্র মাসখানেক। একদম কচি আর নিপাট ভালো বউ। আমার শাশুড়ি মা আমাকে শিলিগুড়ি দিয়ে এলেন। যেদিন উনি ফিরে আসবেন, আমরা ওনাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে ফিরছি, তিনি দেখি কী যেন একটা দোকান থেকে কিনে পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন ফেরার পথে। তারপর বাড়ি ফিরে গ্লাস সাজিয়ে বসলেন। আমার সব রোম্যান্স (প্রথম বরের সাথে একা থাকতে এসেছি) মাথায় উঠে গেলো, করুণ মুখ করে বসে আছি, যাহ! আমার কপালেও মাতাল বর, এবার আমায়ও প্রচুর পেটাবে। আর গুডি টাইপ ছিলাম বলে তেমন মার খেতে হয় নি কোনওকালে। এইদিকে চোখ ছলছল, আর ওদিকে আমার নতুন বর আমায় ভালোবেসে গ্লাস হাতে দিয়ে দিল। বললো ছোট্ট একটা সিপ নিতে। সেটা ছিল জিন, আমার মদখড়ির জন্য হালকা ব্যবস্থা। নাকের কাছে আনতেই মোটামুটি বমি ঠেলে এলো। আর তখন বেজায় ভদ্র আমি, অন্যজনকে অপ্রস্তুতে ফেলতে চাইনে, কাজেই ঢকঢক করে তেতো ওষুধ খাওয়ার মত পুরো খেয়ে ফেললাম। আর সাথে সাথেই মাথা ইঁটের মতন হয়ে গেলো। তারপর আর কতটা খেয়েছিলাম আর মনে নেই, কেবল তার হাঁ করা মুখটা বেশ মনে আছে। আর ক্রমশ আমার বডি টেম্পারেচার নামতে শুরু করে, তিনিও বোঝেন কী কাণ্ডটাই করেছেন। তারপর ঐ বডি টেম্পারেচার বাড়ানোর যে পন্থা তার মাথায় এলো, সেও চরম। পুরো শাস্তি হয়ে গেলো। এবং ঐ প্রথম দেখাতে(পড়ুন চাখাতে) আমি অ্যালকোহলের অপ্রেমে পড়ে গেলাম। ক্রমশ সেইরকম পার্টি-টার্টিতে গ্লাস জানলা দিয়ে বা টবে গোপনে ঢেলে দেবার অভ্যেস আয়ত্তও করে নিলাম, যাতে কারোর মনে আঘাত না লাগে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মা-তাল?

রঞ্জন রায়

 -- না। আমি চাইলেও তোমার গলা কাটতে পারি না।

--- আমি কম বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে প্রেম করা এইসব নিয়ে বলতে চাইছি । এ নিয়ে কি কোন গড়পড়তা নিয়ম নেই?

-- কেন থাকবে না? সময় বদলায়। ষাটসত্তরের দশকে বার এ কোন মেয়ে ঢুকত না। হ্যাঁ, শহর কোলকাতার কথাই বলছি। গড়পড়তা মেয়েরা সন্ধের আগে ঘরে ঢুকে যেত। যারা ঢুকত না তাদের কপালে জুটত ঘরে-বাইরে মুখনাড়া আর পাড়ায় বদনাম। তখন কফিহাউসে ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা মারাই অনেক বড় বিপ্লব। আর এখন? সন্ধ্যেয় অলিপাবে গিয়ে উঁকি মেরে দেখ? এ নিয়ে ঘরেবাইরে পাড়ায় কোন কথা হবে না। হলে মেয়েটি মুখের ওপর বলে দেবে- বেশ করেছি।

আমার ভোটার কার্ড আছে।

-- তাতে কী হয়?

-- আচ্ছা আতাক্যালানে তো! যে মেয়েটা কারা দেশ চালাবে  সেটা ঠিক করতে পারে  সে নিজে আদৌ মদ বা গাঁজা খাবে কি না, খেলে কোনটা খাবে, কতটা খাবে, কোথায় বসে খাবে, কার সঙ্গে খাবে সেটা ঠিক করতে পারে না? এরকম হিপোক্রেসির কোন মানে আছে?

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মদীয় মদকাহিনি

ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

 ওয়ার্কশপে গেছি। সে আমার প্রথম আম্রিগাবাস। ওয়ার্কশপে বারোটা দেশের তেরোটা ছেলেপুলেদের প্রায় সব কটা ঘোর মালখোর। প্রায়টা জুড়লো, আমার জন্য। তখন আমি মদ টদ মোটে ছুঁতুমটুঁতুম না, মানে বিয়ার মুখে দিয়ে বি গ্রেড নিমের পাঁচন মনে হওয়া আর ওয়াইন খেয়ে মাথা ঘুরে যাবার পরে আর কিছু ছোঁবাটোবার ইচ্ছেটিচ্ছে হয়নি।

তো, সে তোরা নিজেরা যা ইচ্ছে খাবি খা, কিন্তু না, আমা হেন ঘোর মদনাস্তিককে দীক্ষিত না করে তাদের আত্মার শান্তি, প্রাণের আরাম কিছুই হচ্ছেনা। বিশেষত আমার রুমমেট হার্মাদ কন্যা তো এই কনভার্টিকরণকে পুরো ধর্মপ্রচারের মতন সিরিয়াসলি নিয়ে নিল। কীসব ফলের ফ্লেভারে বিয়ার দিয়ে আমার ক্লাস শুরু হল। তা, তাতে সবে একটু একটু উন্নতি দেখাচ্ছি বলে টিচার যখন রায় দিচ্ছেন, তখনি সব ভেস্তে দিলেন এক প্রফ।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

অনিকেত পথিক

বসন্ত এসে গেছে

হ্যাঁ, গতকাল অবধি শুধুমাত্র বার্তা ছিল, ইতি-উতি কোকিলের দু-একবার ডেকে ওঠা, মাঝে মাঝে দু-এক ঝলক অন্যরকম হাওয়া, জানান দিচ্ছিল, সে আসছে। কিন্তু আজ আর কোন সংশয় নেই। সব লক্ষণ স্পষ্ট, সে এসে গেছে। রাস্তার ধারে এক একটা গাছ বিনা নোটিশেই লালে লাআল...ক্লিশে হয়ে যাওয়া সেই কবিতার লাইন ব্যবহার না করে সোজাসুজিই বলতে পারি, আজ বসন্ত !
বছরে মাত্র কয়েকটা দিন আমরা এইসব দেখতে-শুনতে পাই। এই যে শেষ রাত থেকে কোকিলের কু-কু-কুউউউ ডাকাডাকি, আস্তে আস্তে তার সঙ্গে আরো অনেকরকম পাখির কল-কলানি মিশে গোটা দিগন্তরেখা জুড়ে এক ...
     ... পড়ুন অনিকেত পথিকএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Animesh Baidya

রিলিজ....

থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর,
যেমনটা আমারও, তেমনটাই তোর।
রোজকার জীবনে জমা যতো গ্লানি,
মুখ বুজে সয়ে যাই মুখচোরা প্রাণী।
না পাওয়া জমা হয়, জমা হয় রাগ,
গোপনে গোপনে পুষি যন্ত্রণা দাগ।
শাসকের কড়া চোখ, বসেরও কড়া,
চেপে রাখা কাম নিয়ে গোপনে মরা।
এ ভাবেই দিন কাটে, দিনের শপথ,
অবদমন খুঁজে ফেরে মুক্তির পথ।
ক্রোধ জমে প্রতিদিন, বেড়ে চলে কিস্তি,
জমে চলে রোজ রোজ না দেওয়া খিস্তি।
হতাশায় খুঁজে চলা কার্নিভাল রাস্তা,
যা কিছু চেপে রাখা বের করো আজ তা।
বিশ্বকা ...
     ... পড়ুন Animesh Baidyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Atindriyo Chakrabarty

রণক্ষেত্র সুন্দরগড় - ২

২) রৌরকেল্লার জমিজিরেৎ




ভূমির ইতিহাসে একটা কাল অবধি, যখন সব ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিলো, অবিচ্ছিন্ন ভৌম ইনহেরিটেন্স। গা-গঞ্জ ছিলো হয়ত কিছু। সে সব ধুসর ইতিহাসে আর গাছগাছালির গহন ভুতপ্রেতে আছন্ন।

১৯৪৮ এর পয়লা জানুয়ারি বোনাইরাজ্য আর গাঙপুর-রাজ্য জুড়ে গিয়ে হল সুন্দরগড় রাজ্য। ১৯৫০ সালে পঞ্চম তফসিল তৈরী হলে তাতে সেঁধিয়ে গ্যালো এই জায়গার আর এর বাসিন্দা বহু মানুষের প্রাশাসনিক খাতাকলমী পরিচিতি, সংবিধানে মার্কা পড়ল ৩৩৯ নং ধারা।

ওড়িশা এস্টেটস অ্যাবলিশান অ্যাক্ট এলো ১৯৫১ স ...
     ... পড়ুন Atindriyo Chakrabartyএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

মোহর

ভালো থেকো, বইমেলা



আজ শুরু দেবীপক্ষ, কাল বিষ, পরশু বিসর্জন
আকথা-কুকথা মাখবো, কবে যাবো আনন্দীপত্তন
আনন্দীপত্তনে যাবো, ছুঁয়ে দেখবো শব্দধারাপাত
বিপর্যস্ত বর্ণমালা, আক্ষরিক কবিতাবিভ্রাট
কবে যাবো ধ্বনিগৃহে, চোখে রাখবো অপ্রতিভ চোখ
সে দৃষ্টি দর্শনে মিশে সর্বনাশ আপাদমস্তক
যে বঁধু যে শব্দকথা তাকে বলবো, কী পরেছ সোনা?
শব্দের আড়াল থেকে সে হেসে বলবে -- কিচ্ছু না --
সেই হাসি তারশব্দে কেটে কেটে হয়ে কুচি কুচি
আমাকে নষ্ট করবে, অপবিত্র, আজন্ম অশুচি,
এই তো চেয়েছি, বলো, এর বেশি ক ...
     ... পড়ুন মোহর এর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভারতের জমিনীতি সংস্কার

মৈত্রীশ ঘটক, পরীক্ষিৎ ঘোষ, ও দিলীপ মুখার্জী

নতুন জমি/ ভূমি সংস্কার আইন এজন্যেই গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রশাসনের লক্ষ্য সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করা ও কম্পিউটারাইজ করা। এর জন্য যা দরকার জমি মালিকদের সঠিক জমির হিসেব দেওয়ার সহযোগিতা। জমির উর্ধ্বসীমা আইনের ফলে প্রচুর জমির মালিকানা গোপন ও বেনামী, অন্যদিকে সরকারি অধিগ্রহণ হলে মালিকরা অবশ্যই চাইবেন সঠিক ক্ষতিপূরণ যার জন্য জমির হিসেব ঠিকঠাক থাকা প্রয়োজন। এই ভাবেই জমি সংশোধন ও অধিগ্রহণের মধ্যে এক সহজ সম্পর্ক আছে। দ্বিতীয় অংশ ঠিকঠাক কাজ করতে হলে প্রথম অবস্থার উন্নতি প্রয়োজন, আর প্রথম ক্ষেত্রে উন্নতি হলে স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অনেক সুবিধে হবে। সঠিক পরিসংখ্যান দিতে মালিকদের উৎসাহ দিতে, কিছু পুরস্কার যেমন, সরকারি সুযোগ সুবিধে দেওয়া যেতেই পারে। সহজে সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ, NREGA, ভর্তুকি, জন বন্টন ব্যবস্থা ইত্যাদির ব্যবস্থাও করা যায়। একই ভাবে গত পঞ্চাশ বছরে জমি সংস্কার বলবৎ করতে আমাদের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছুদিনের জন্য উর্ধ্বসীমা আইন কিছুটা শিথিল করা যেতেই পারে যাতে মালিকরা সঠিক তথ্য দিতে আগ্রহী হন। বিশেষত দেখা গেছে যে জমিসংস্কার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষি উন্নতির পরিপন্থী হয়েছে, ও এর দায়ভাগ আরো বেশি বর্তায় জমির উর্ধ্বসীমা আইনের ওপর (Ghatak and Roy, 2007 )। এমনকি জমির রেকর্ড ঠিক করার জন্য ও সঠিক তথ্য জানালে আয়করে ছাড় দেওয়াও যেতে পারে। আদিবাসী এলাকায় কৃষি জমি বিক্রির ওপর অকারণ বিধিনিষেধ আরোপ, আদিবাসীদেরই স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। এই বিধিনিষেধ তফশিলী জাতি, উপজাতি আদিবাসীদের সঠিক জমি ব্যবহারে সাহায্য তো করেই নি উপরন্তু তাদের জন্য বিকল্প জীবিকা ও গড়ে তোলে নি। আপাতদৃষ্টিতে বৈষম্যের নামে শিল্পায়নে বাধা সৃষ্টি করে আদতে কিছু লাভ হয়নি। জঙ্গল রক্ষা আইন সংরক্ষণের নীতির বিরোধী হয়ে উঠেছে । সম্পত্তি আইনে আওতায় জঙ্গল জমি আনার উদ্দেশ্য অবাধ কৃষি ও বন কাটা নয় বরং, তাদের পুরুষানুক্রমে চলে আসা শিকার ও সংগ্রহণ বৃত্তি থেকে যদি তারা উচ্ছেদ হয় তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাও করা। সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, বাস্তবের সাথে আদর্শের মেলবন্ধন না ঘটাতে পারা আমাদের ব্যর্থতা, ঠিক যেরকম বন্টন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমষ্টিগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প স্থাপন ও বন ধ্বংস রোধ করার ভারসাম্য রক্ষা করতেও আমরা সক্ষম হইনি। সামাজিক ন্যায় বিচারের জন্য জমির বন্টন আরো সমান ভাবে হওয়ার সাথে সুষ্ঠু জমি বাজার ও জমির আরো উন্নত ব্যবহার পদ্ধতি গড়ে তোলার মধ্যে যে কোনো সংঘাত নেই সেই সত্যি যত তাড়াতাড়ি বোঝা যায় ততই মঙ্গল।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পরমাণু বিদ্যুৎ - কিছু তথ্য, কিছু ভাবনা

প্রদীপ দত্ত

 ২০০০ সালে পৃথিবীতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ লক্ষ ৭২ হাজার মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের শেষেও উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় একই জায়্গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে আসল উৎপাদন কমেছে কারণ জাপানের ৫৪ টি পরমাণু চুল্লি বন্ধ রয়েছে। আমেরিকান ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে মিলিয়ে একটি নতুন চুল্লিও চালু হয় নি। বরং চুল্লি বন্ধ করে দেওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে। ঐ সময়কালে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে  উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ১৩ হাজার মেগাওয়াট।

এর মধ্যে ২০১১ সালে মার্চ মাসে জাপানের ফুকুশিমায় ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রায় একই সময়ে তিনটি চুল্লির জ্বালানি দন্ড পুরোপুরি গলে বহুদূর পর্যন্ত  বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়াল। শুধু তসি নয়, আজও সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় জল ভূগর্ভে এবং  সমুদ্রে মিশে চলেছে। দুর্ঘটনার পর জার্মানি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড তাদের চুল্লি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। ইতালি, অস্ট্রিয়া পরমাণু কর্মসূচী বাতিল করে। ফ্রান্স ২০২৪ সালের মধ্যে অর্ধেক চুল্লি বন্ধ করে দেবে বলে জানায়।

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাজে গল্প-মাটি

বিক্রম পাকড়াশী

ডঃ পাত্র এর একটা বিহিত বা হেস্তনেস্ত করার দায়িত্ব নিলেন। অবশ্য এতে ওনার একটা অ্যাকাডেমিক ইন্টারেস্টও ছিল। সময়সুযোগ থাকলে একদিন তিনিও পুরোদস্তুর গবেষণা করতে পারতেন, শুধু ছাত্র ঠেঙিয়েই চাকরির জীবনটি চলে গেল। সে যাই হোক, উনি অনেক আঁকজোঁক করে কিচ্ছু বের করে উঠতে পারলেন না। এই অবস্থায় উনি একদিন কাকভোরে উঠে লেকের মাঠে গাছপালার ঝোপে বান্ধবগড় থেকে কেনা ক্যামোফ্লাজ জ্যাকেট পরে ঘাপটি মেরে কী হয় দেখার জন্য বসে রইলেন। প্রথম দু দিন কিচ্ছু দেখতে পাওয়া গেল না। সুস্থ শরীর ব্যস্ত করে রাতের ঘুম নষ্ট হল। কিন্তু তাতে ডঃ পাত্র দমলেন না। এক সময় তিনি ডক্টরেট করেছিলেন, তাই অকিঞ্চিৎকর জিনিস নিয়ে খামোখা লড়ে যাবার ক্ষমতা তাঁর পুরনো।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

জানুয়ারি থেকে আসামে চা শ্রমিকদের রেশন বন্ধ হবে

দেবর্ষি দাস

 এ তো গেল রাজ্য সরকার। কেন্দ্র সরকার কেন FCI যোগান বন্ধ করতে গোঁ ধরে বসে আছে সে আরেক রহস্য। দ্বিমত নেই শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার দায়িত্ব মালিকের। কিন্তু মালিককে তার দায়িত্ব স্মরণ করানোর কাজে কংগ্রেসের রাজ্য সরকার বা ভাজপার কেন্দ্র সরকার, কারোই কষ্মিণকালে আগ্রহ দেখা যায় নি। হরেদরে শস্তা খাদ্য আসছে FCI-এর গুদাম থেকে, অর্থাৎ সরকারি পয়সাতে। যখন সেই যোগান বন্ধ হতে যাচ্ছে মজুরের রেশন মার খাবে, মালিকের কেশাগ্র বঙ্কিম হবে না। হুট করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আর মালিকের কী করা উচিত উপদেশ বিতরণ করার বদলে, কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন পক্ষের (অবশ্যই মালিক ও মজুরপক্ষ) সাথে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বার করার চেষ্টা করতে পারত। আসলে শ্রমিকের অধিকার কর্তন করাতে কংগ্রেসে ভাজপায় বিশেষ মতভেদ নেই।

এই মুহূর্তে ওপরের ঘটনাবলী কংগ্রেসকে ঘ্যানঘ্যান করার সুযোগ দিয়ে দিয়েছেঃ NFSA লাগু করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা কেন্দ্র সরকার এখনো দেয় নি। মানে, জানুয়ারি থেকে ECA বাদ দিন, NFSA-এর রেশনও পাওয়া যাবে না। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কোরিয়ান শিজো কবিতা

রাকা দাশগুপ্ত

দশটা বছর ব্যয় করে এই পর্ণকুটির তৈরি করা
আধখানা তার বাতাস থাকে, আধখানা তার চাঁদের বাড়ি
কোথায় তোমায় বসতে দেব? বরং তুমি বাইরে এসো।

 সং সুন নামে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকের এক কোরিয়ান কবির লেখা । রাজদরবারে কাজ করতেন আগে, পরে সব ছেড়ে দিয়ে গ্রামে চলে যান, লেখালিখি  নিয়েই জীবন কাটান। এই কবিতাটার পিটার লি-কৃত ইংরেজি অনুবাদ থেকে আমি বাংলা করেছি। এখানে যদি একেকটা লাইনকে দেখা যায় আলাদা করে, বোঝা যাবে প্রত্যেকটায় আসলে দুটো বাক্যাংশ আছে, দুটো ছবি। প্রথম লাইনেই যেমন দুটো স্টেটমেন্ট, একটা বলছে দশ বছর পরিশ্রমের কথা, অন্যটা বলছে বাড়ির কথা। দ্বিতীয় লাইনে তো আধাআধি ভাগ হয়ে গেছে লাইনটাও, বাড়িটারই মত... যার অর্ধেকটায় থাকে বাতাস, আর বাকি অর্ধেকটায় চাঁদ। শেষ লাইনেও অমন দু ভাগ, প্রথম অংশটা বলছে বাড়িতে ঢুকতে/বসতে দেবার জায়গা নেই (যেহেতু বাতাস ও চাঁদ আগেই সবটা দখল করে রেখেছে), আর শেষ টুকরোটা জানাচ্ছে, বাড়ির বাইরেই বরং অতিথিকে গ্রহণ করা হবে। 

ছোট্ট একটা ছিমছাম কবিতা। তিন লাইনের জাফরির ফাঁক দিয়ে আসা একটুকরো গল্পের আভাস।  শিজো আসলে এরকমই। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা