এই আমাদের হ-য-ব-র-ল, টুকরো খাবার, আলোঝিলমিল আর বোমাবন্দুক। পড়ুনঃ বিষয়ঃ খোলামেলা আড্ডা -- ভাটিয়া৯


  
এ হল আমাদের সাপ্তাহিক বিভাগ। সোমবার সকালে আমাদের বহুত বহুত ঘুম পায় বলে আমরা নিজেদের মতো সাজিয়ে নিই নতুন নতুন লেখাপত্তর। মানডে ব্লুজ কাটাতে হলে প্রতি সোমবার চোখ বোলাতে ভুলবেন না।

জীবন বাজি রেখে লড়েছি, আর জিতেছি

সোহেল আবদুলালি

আমি একজন সারভাইভর। আমি আমাকে ধর্ষণ করার জন্য কাউকে অনুরোধ করি নি, আমি ধর্ষণ উপভোগও করি নি। এটা ছিল আমার জীবনে সহ্য করা সবচেয়ে কষ্টকর অত্যাচার। কোনও ধর্ষণ কখনও কোনও মেয়ের দোষে ঘটে না। ধর্ষণকে নিয়ে আমাদের সমাজে পালন করে চলা অদ্ভুত নীরবতা আর অবাস্তব কাল্পনিক মিথকে ছিন্নভিন্ন করে দেবার উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা। আমি এই লেখার মাধ্যমে শুধু এইটুকু সবাইকে জানাতে চাই যে মেয়েরা কোনও সহজলভ্য ভোগসামগ্রী নয়, ধর্ষণের মত অপরাধ একজন মেয়েকে, মানুষ হিসেবে, সামাজিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে একা করে দেয়।

আরও পড়ুন...

কামদুনি থেকে

দীপাঞ্জন

বারাসাতের কামদুনি গ্রামটিতে গণধর্ষণ আর হত্যা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর, কলকাতার কিছু রাজনৈতিক কর্মী, আর অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষদের আন্দোলনের সংহতিতে গ্রামটিতে গিয়েছিলাম গত ১৬ জুন। মমতার কামদুনি সফরের ঠিক একদিন আগে। নিচের লেখায় তারই একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ ধরা থাকল।

আরও পড়ুন...

একটি পিটিশন, দু'চার কথা

শমীক মুখোপাধ্যায়

আমাদের পিটিশনটি প্রাথমিকভাবে তৈরি হয়ে আছে এই দুটি জায়গায়।

http://www.change.org/petitions/chief-minister-west-bengal-confront-violence-against-women-2

http://www.causes.com/causes/1011344-confront-violence-against-women

যে কোনও একটি লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন। যদি সহমত হন পিটিশনের দাবির সঙ্গে, তা হলে আপনার কাছে আমাদের থাকবে দুটি অনুরোধ।

প্রথম অনুরোধ, আপনার একটি সই। পিটিশনেই সই করার ব্যবস্থা আছে দুটি সাইটেই।

দ্বিতীয় অনুরোধ, এই পিটিশনটিকে আপনার আরও পরিচিতজনেদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া, যাতে পিটিশনটি আরও বেশি সই সংগ্রহ করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর আগে আমরা যত বেশি সংখ্যক সই সংগ্রহ করতে চাই। আর সেটা করতে চাই খুব তাড়াতাড়ি।

ইতিমধ্যেই আমরা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছি এই পিটিশনের লিঙ্ক। অনেকেই সই করেছেন। কেউ কেউ এখনও হয় তো করে ওঠেন নি, তাঁদের প্রতি আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, যদি আপনার কোনও প্রিয়জন পশ্চিমবঙ্গে বাস করে থাকেন, যদি তাঁদের জন্য আপনার মনে এতটুকুও ভালোবাসা, উদ্বেগবোধ থাকে, শুধু তাঁদের মুখটি মনে করে তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার স্বার্থে এই পিটিশনে একটা সই করুন, আরও দশজনকে সই করতে উৎসাহিত করুন।

আমরা সবাই মিলে একসাথে প্রতিবাদ না জানালে, এ অন্ধকার কাটবে কী করে?

আরও পড়ুন...

তাকসিম স্কোয়্যার থেকে

শিল্পী সুনেজা

আমার বন্ধু বলল, “যখনই সরকার বুঝবে ঐ পেপার স্প্রে দিয়ে আর কাজ হচ্ছে না, দেখিস তখন “সাইলেন্ট গার্ড” কিনবে বিদেশ থেকে।” তাকসিম স্কোয়ার থেকে চুখুরিয়েম কাদেসিতে বন্ধুর বাড়ীর দিকে দিকে তখন রওনা হয়ে গেছি। মাইলখানেক দূরেও বেশ টের পাওয়া যায় মরিচের ঝাঁঝালো গন্ধ। চোখ ,নাক, গলায় একটা জ্বলুনি ভাব। প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলো তাকসিম স্কোয়ারে নিয়মিত এই মরিচের স্প্রে চালানো হয়েছে, আমার বন্ধু বেচারা মরিচের ঝাঁঝ ছাড়া নিঃশ্বাস নিতেই ভুলে গেছে। আর তার এটাও মনে নেই কোন ম্যাজিকে হাজারে হাজরে লোক জমায়েৎ হয়েছিল গেজি পার্ক আর তাকসিম স্কোয়ারে। “সামান্য কয়েকটা গাছে”র বদলে পার্কের ভিতরে শপিং মল বানানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কীভাবে একটি একনায়কের শাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশের প্রতিবাদ হয়ে উঠল সেটাও আশ্চর্যের। প্রধানমন্ত্রী তায়িপ এর্দোগানের হিংস্র পুলিসের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়ে ঐ আন্দোলন ছাড়িয়ে গেল দেশের সর্বত্র।

আরও পড়ুন...

কয়েক টুকরো কবিতা

আফজল আহমেদ সৈয়দ

আফজল আহমেদ সৈয়দ। উর্দু কবি ও অনুবাদক। জন্ম অবিভক্ত ভারতবর্ষের গাজীপুরে। ১৯৪৬ সালে। ১৯৭৬ থেকে  বসবাস পাকিস্তানের করাচিতে। পেশায় কীটপতঙ্গ বিশারদ।  উর্দু নাজম-এর অন্যতম আধুনিক কবি। নাজম লেখা হয় ছন্দোবদ্ধভাবে  এবং মুক্ত বা গদ্যছন্দেও।

তাঁর উর্দু নাজমের অনুবাদ প্রকাশিত হয় ইংরিজিতে।

An arrogated  past (১৯৮৪), Death  sentence  (দু'টি ভাষায় অনূদিত , ১৯৯০ ), Rococo and  other  worlds  (২০০০) গজল সংগ্রহ  The  dark  pavilion (১৯৮৮)।
তাঁর কবিতা সংকলিত হয় An evening of caged beasts: seven poets (post modernist Urdu poetry collection .. New York, Oxford University  Press, ১৯৯৯)।
The  Wesleyan  University  press  poetry series তাঁর নির্বাচিত কিছু কবিতার অনুবাদ প্রকাশ করে ২০১০ সালে।

আফজাল প্রচুর কবিতা, নাটক আর উপন্যাসের সফল অনুবাদক. কবিতা অনুবাদ করেছেন চেক, হিব্রু, আরবী, পোলিশ, রুমানিয়ান, রাশিয়ান আর তুর্কী ভাষা  থেকে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের উপন্যাস "Chronicle of a death foretold" উর্দুতে অনুবাদ করেন আফজাল. এছাড়া উল্লেখযোগ্য অনেক সাম্প্রতিক নাটকের  ভাষান্তরও।

আফজলের কবিতার ইংরিজি ভাষান্তর অনেকটাই করেছেন টরন্টো নিবাসী অনুবাদক মুশারফ আলী ফারুকী

আরও পড়ুন...

ব্যক্তিগত নয়

ইন্দ্রাণী

ডঃ জয়ন্ত দাসের সঙ্গে আমার কথা শুরু হয় এবছরের মার্চে। নিতান্ত ব্যক্তিগত শোকের প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছিল কথা চালাচালি – অনুসন্ধিৎসাই ছিল তার মূলে – প্রথমে, ডঃ দাসের সঙ্গেই। ডঃ বিশ্বরূপ চ্যাটার্জী এলেন তার পরে। আলাপন, যা মূলতঃ হাসপাতাল থেকে আসা সংক্রমণ  বিষয়ে প্রশ্নোত্তর- চলেছিল ই মেইলে; ভাষা কখনও বাংলা ছিল, কখনও ইংরিজি । আলাপনের ভঙ্গি ও কালানুবর্তিতা অটুট রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাকে ব্যক্তিগতর গণ্ডী টপকে দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

আরও পড়ুন...

এত খেয়ে তবু যদি নাহি ওঠে মনটা - পর্ব এক

সুকান্ত ঘোষ

খাবার হবে পরিমাণ মত - তবে হ্যাঁ, পরিমাণ কেমন হবে সেটাকে সরলীকরণেরও বিপদ আছে। যারা আমেরিকান খাদ্য সংস্কৃতির সাথে পরিচিত তাঁরা কথাটির অর্থ আশা করি বুঝতে পারবেন। আমেরিকান রেষ্টুরান্টে ৩-কোর্স ডিনার আমার মত খানেবালার কাছে প্রহসনের মত। স্টার্টার শেষ করেই আমার পেট ভরে যায়, বাকি দুই পদ তো দূর অস্ত। এই প্রসঙ্গে আমার আর এক জ্যেঠতুতো ভাই পিকুলের লাইফের ট্রাজেডির কথাটা বলে নিই। ও তরকারি খেতে এত ভালোবাসে যে আজ পর্যন্ত কোন নিমন্ত্রণ বাড়িতে মাছ-মাংসের পদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারলনা। শাক, ডাল, চচ্চড়ি দিয়েই তার খাবার শেষ। রান্নাঘরে তরকারি হাতড়াতে গিয়ে ও বহুবার ধরা পড়েছে। ওই জন্যই বলে আপ্ রুচি খানা।

আরও পড়ুন...

সংবাদ সারাক্ষণ - পর্ব তিন

শ্রমণগৌতম শীল

কাল রাতে যথারীতি মদটা বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছে। এই জন্যে বৌ রেগে যায়। কিন্তু অমিতাভ কী করবে! অনুরাগ আর জয়ন্তর সঙ্গে আগে রাতে বসতো যখন তখন অন্য রকম ব্যাপার ছিল। জয়ন্ত খুব নিয়ম মানা ছেলে। ঠিক সময়ে থেমে যেত। আর খেতে বসতো জয়ন্তর বাড়িতেই। তাই বেশি বাড়া যেত না। জয়ন্তর বৌ একটু হেসে মনে করিয়ে দিত বাড়ি যেতে হবে। সে আর অনুরাগ বেরিয়ে পড়ত। তার গাড়িতে আগে অনুরাগকে ছেড়ে সে ফিরতো। এখন তো আর তা না! জয়ন্ত পার্ক স্ট্রীট-এ আসে না। অনুরাগ কিছুদিন হল আলাদা। অবশ্য তারা জেনেবুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনিই কিছুদিন ধরে কাজের চাপ বাড়ছিল। তারপরে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট লাইসেন্স হয়ে যাওয়াতে আর চায়নার মাল আসতে শুরু করাতে আর কিছু করার ছিল না। অনুরাগ বললো ও কম্পিউটারটা দেখবে। চায়নায় সারে সারে শহরে ছোট ছোট ইউনিট করে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ তৈরী হচ্ছে। তারা আনছে। এখানে অ্যাসেম্বল করছে। মেড ইন ইন্ডিয়া ছাপ দিয়ে আলিবাবা কম্পিউটার ব্র্যান্ড করে বেচে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন...

ছক্কা ঋতুপর্ণ

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

শিল্প আর শিল্পী নাকি আলাদা। এই আবেগ ভ্যাদভ্যাদে মৃত্যুদিনে সেসব কথা ভাবতে ভালো লাগেনা। এ সব ব্যক্তিগত অনুভূতি বড়ই ব্যক্তিগত। ফিল্ম টিল্ম গোল্লায় যাক, গোল্লায় যাক শিল্পের শবসাধনা, কবিতার বদলে ট্রামে ছেঁচড়ে যাওয়া জীবনানন্দের ডেডবডি মনে পড়ে। সেই দশকে নাকি ওটাই ছিল একমাত্র ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যু। তাকে আপতিক ভাবতে অসুবিধে হয়, যেমন অসুবিধে হয়  ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সে একজন সফল ফিল্ম মেকারের মৃত্যু। আসলে তো তাঁকে নেই করে দেওয়া হল। টিভিতে, খবরের কাগজে, সোশাল মিডিয়ায় যত কলকাকলি আর হাহুতাশ দেখি, সব শুধু সিনেমা। সিনেমা সিনেমা আর সিনেমা। লোকটা কোথাও নেই। কিন্তু আজ তো সিনেমার দিন না। একটা লোক মারা গেছে। একজন ব্যক্তি মারা গেছেন। সে শুধু সিনেমা নয়। নিজের আইডেন্টিটিকে সে কখনও সিনেমা দিয়ে ঢাকেনি। মেয়েলি দোপাট্টা পরে কানে দুল ঝুলিয়ে টিভি শোতে এসেছে। যত বয়স হয়েছে তত নরম হয়েছে তার গলার আওয়াজ, আর তীব্রতর হয়েছে তার আইডেন্টিটি। নমনীয়তাকে, নরম স্বরে কথা বলাকে আমরা পুরুষের দুর্বলতা বলে ধরে নিই। কিন্তু ঋতুপর্ণ জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন, ব্যাপারটা অতো সোজা নয়। যতগুলো নতুন পুরস্কার ঝুলিতে ঢুকেছে, ততই মেয়েলি হয়েছেন তিনি। ততই নরম হয়েছে তাঁর কণ্ঠস্বর। মেয়েলিপনাকে শক্তি দিয়ে আগলে রেখেছেন। ছুঁড়ে দেওয়া ইঁটগুলোকে, "লেডিস ফিংগার" তাচ্ছিল্য আসবে জেনেও, আঁকড়ে ধরেছেন ওই মেয়েলি আলখাল্লাকে। সেই নরম সাহস, সেই এফিমিনেট দৃঢ়তা ছাড়া ঋতুপর্ণ নেই। হয়না।

আরও পড়ুন...

গেল যে খেলার বেলা

ইন্দ্রনীল ঘোষ দস্তিদার

সব চরিত্র কাল্পনিক দেখে এক সময় আমায় বোঙায় ধরেছিল। সে কথা এই মায়াপাতার লোকজন কিছু কিছু জানেন।  তারও আগে রেইনকোটের ভেজা  বিষাদ। কিম্বা দোসর-এর সেই সাদা -কালোর নিষ্ঠুর  মায়া। মৃত্যু-অপ্রেম আর ভালোবাসার বেঁচে থাকার  গিঁট-পড়া কাটাকুটির মধ্যে বিষাদ তার থাবা নামাচ্ছে। বিষাদ, স্নেহময় , তার নখ বসাচ্ছে।কর্তব্য,পূর্বনির্ধারিত। পৃথিবীর কোনো গানের সুর-কোনো জলের স্বাদ,পাতালের  কোনো ভোগবতীর ধারা, ফলের রসালতা, পৃথিবীর কোনো ওষুধ, কোনো অ্যালপ্রাজোলাম-ফ্লুওক্সেটিন-সিটালোপ্রাম এই মহৎ বিষণ্ণতার  শালপ্রাংশুমহাভুজ শরীরে একটি আঁচড়ও কাটতে পারে না।  এই বিষণ্ণতার রাস্তা ধরে ঐ তৃতীয় মানুষটি হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছেন। পাহাড়ী রাস্তার মেঘ-কুয়াশা-তিস্তাজলের মধ্য দিয়ে। সখী হাম মোহন অভিসারে যাঁউ...

আরও পড়ুন...

অসম্পূর্ণ বিভাজন

প্রান্তিকা *

ছকে বাঁধা জীবনে আমি পারিনি মানাতে। আমি যা চাই, যা পছন্দ করি তা সমাজ পছন্দ করে না। কারণ আমার মন বললেও আমার শরীরের গঠন অনুযায়ী আমার জীবনযাপনের পদ্ধতি সমাজের বাঁধাধরা নিয়মকে আঘাত করে। এক জনের শরীর দেখে তাকে বিচার করা সমাজের কাছে যতটা সহজ, এক জনের অবয়বহীন মানস দেখে তাকে বিচার করা ততটাই কঠিন। আমার শরীরটা একজন নারীর। সমাজ চায় না আমি ছোট করে ছেলেদের মতন চুল রাখি। আমার বিনুনি বাঁধা উচিত। আমি কোন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি তাতে সমাজের কিছু আসে যায় না। আমাকে নিয়মের মধ্যে থাকা উচিত। সমাজ চায় না আমি জিন্স প্যান্ট পরি, আমার পোশাক হওয়া উচিত সালোয়ার আর শাড়ি। সমাজ চায় না আমি সাইকেল-বাইক চালাই, চায় কারুর বাইকের পিছনে আমি বসি। সমাজ চায় না আমি বাড়ির বাইরে বেরোই, কাজ করি। চায় আমি রান্না বান্না আর সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের দেখাশুনা করি। চায় না আমি মাঠে ঘাটে গিয়ে খেলাধূলা করি, শরীরচর্চা করি। চায় আমি বাড়ির উঠোনে স্কিপিং করি আর শাহ্‌রুকের রোমান্টিক ফিল্ম দেখি। চায় না আমি কোন ‘নারী’কে সঙ্গিনী হিসাবে বেছে নি। কারণ শরীরের উপর ভিত্তি করে যে সকল নিয়ম কানুন গড়ে উঠেছে, এ সব কিছু তারই অংশ বিশেষ। মন বা মানসের কোন স্থান এখানে নেই। ছত্তিরিশটা বছর ধরে মোটা কাপড়ের নীচে শরীরটাকে আষ্টেপৃষ্টে ঢাকা দিয়ে বাড়ির বাইরে বার হই, লোকের সাথে মিশি। বাড়ি ফিরে বিবস্ত্র হয়ে আয়নার সামনে যখন দাঁড়াই, কুঁকড়ে যাই। যাঁরা আমাকে চেনেন জানেন তাঁদের কাছে আমি কোন আলোচনার বস্তু না, কিন্তু যাঁরা আমাকে চেনেন না, আমাকে নতুন দেখলেন তাঁরা শুধু আমাকে বিস্ময়সূচক দৃষ্টি নিয়ে আপাদমস্তক পরীক্ষা করে গেলেন। আমি চলে গেলে পিছন থেকে কিছু অস্পষ্ট কথা শুনতে পাই, ‘এটা কে? ছেলে না মেয়ে?’

আরও পড়ুন...

মহেন্দ্র কর্মা ও মাওবাদী হামলা - গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং কিছু প্রশ্ন

রঞ্জন রায়

আমি এখানে যা লিখছি তা আদৌ মাওবাদী রণদামামার ‘জাস্টিফিকেশন’ নয়, বরং যা ঘটছে, তা কেন ঘটছে, কেন এমনটাই ঘটছে, অমনটা নয় — সেটা ‘এক্সপ্লেন’ করার সামান্য চেষ্টা। যদিও আমি সবজান্তা বা শেষ কথা নই। অর্থাৎ আমি যদি বলি যে অমুক যে অকালে জিভের ক্যান্সারে মারা গেল তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই, অত সিগ্রেট খেলে অন্যরকম না হওয়াটাই স্বাভাবিক, —  তখন আমি আসলে বলতে চাই যে সিগ্রেটের নেশার বিরুদ্ধে কিছু না করে শুধু কেমোথেরাপি/ সার্জারি/রেডিয়েশন দিয়ে জিভের ক্যান্সারের রোগিকে বাঁচানো বা ক্যান্সার নির্মূল করা, কোনটাই সম্ভব নয়।

তাই মাওবাদী এজেন্ডার বিরুদ্ধে বললেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সমর্থক, আত্মসুখী চাটুকার বা রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বলতে গেলেই necessarily মাওবাদী এজেন্ডার সমর্থক — এই “আমরা-ওরা”র বাইরে নিশ্চয়ই কোন স্পেস আছে, সেটা খুঁজছি।

আরও পড়ুন...

ক্রিকেট যুদ্ধ

ওয়াক্কাস মীর

ভারত পাকিস্তানের ম্যাচ দিল্লিতে বসে দেখলে উত্তর ভারতের পাকিস্তান বিরোধী মনোভাবটাও বেশ টের পাওয়া যায়। কয়েকটা স্লোগান তো বেশ পরিষ্কারভাবে ধর্মবিদ্বেষী। আমার পিছনেই বসেছিলেন সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে একজন, বন্ধুরা তাকে পন্ডিতজী বলে ডাকছিলেন। আমার টীম পাকিস্তানের টী শার্ট পরাটা তার আর কিছুতেই হজম হচ্ছিল না। আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, "পাকিস্তান আজ জিতলে আর জ্যান্ত ফিরতে হবে না" বা "কাসভের মতন সব পাকিস্তানীকেই ফাঁসিতে লটকে দাও"। শুধু পাকিস্তান বিরোধী নয়, স্লোগানগুলো ছিলো মুসলিম বিরোধীও। লাহোরে শেষ যে ইন্ডিয়া পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিলো তার সুর কিন্তু অন্যরকম ছিল। সচীন মাঠে নামলে গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানিয়েছিল। সেই খেলায় ভারত জিতলে লাহোরবাসীরা ভারতীয়দের আলিঙ্গন করতেও ভোলেন নি। স্টেডিয়ামের বাইরে ভারতীয়রা খেলা জিতে নাচতে শুরু করলে লাহোরের ঢোলওয়ালারা সোৎসাহে ঢোল পিটিয়ে ছিলো। ক্রিকেট তো সবাই ভালোবাসে কিন্তু স্টেডিয়ামে এসে পরস্পরের জাতি বিদ্বেষটাকে কি না উগরে দিলেই নয়? খুব কি একটা উপর উপর ব্যাখ্যা দিলাম? আমার বন্ধুরা, যারা এর আগে দিল্লিতে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের ম্যাচ দেখেছিল, তাদের অভিজ্ঞতাও কিন্তু আমারই মতন।

আরও পড়ুন...

বস্টনে বঙ্গেঃ তৃতীয় পর্ব

বর্ন ফ্রী

যারা ভাবছেন, বিয়ের অধিকার না পাওয়া গেল তো কী এসে গেল, ইকুয়াল ডোমেস্টিক পার্টনারশিপ তো দেওয়াই হচ্ছে, তাদের জন্য একটা ছোট্ট সওয়াল। ধরুন কোন স্কুলে বলা হল, সবাইকে সমান ভাবে পড়ান হবে, একভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, খাতা দেখা হবে, শুধু খাওয়ার জলের কলটা ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা হবে, মেনে নেবেন? জল একই থাকবে, শুধু কলটাকে সবুজ রঙ করে দেওয়া হবে? জানি আপনি মেনে নেবেন না, কেননা আপনি যদি মেনে নেওয়ার দলের হতেন তা হলে এই লেখাটা এতদূর পড়তেন না। দিনের শেষে সাম্যের অধিকার এক মৌলিক অধিকার, যে অধিকারের প্রশ্নে আপোষ করা চলে না।

আরও পড়ুন...

সংবাদ সারাক্ষণ - দ্বিতীয় পর্ব

শ্রমণ গৌতম শীল

স্বপন তখন তরুণ ছিল। এ সব শুনেছে, খুব যে বুঝেছে এমন না। কিন্তু সত্যি সত্যি দেখা গেল এই সব লোকগুলো পড়ছে তাদের কাগজ। তারা অমিতাভ নাইটের বদলে খাবারের দাম কেন বাড়ছে তা নিয়ে যতটা গভীরে যাওয়া সম্ভব খবরের কাগজে ততটা গিয়েই খবর করতো। খবরের পাঠকের দুনিয়া কলকাতা শহরে ভাগ হয়ে যেতে শুরু করলো। সুখবাজার অমিতাভ নাইটে জোর বেশি দিত। আরেকটা কাগজ ছিল ‘দিনকাল’ বলে। তারা বাংলা সমাজতন্ত্রীদের, বিশেষ করে আলো বসুর কুকীর্তি নিয়েই মত্ত থাকতো। পরের পর তদন্তমূলক সাংবাদিকতা তাদের ব্যানার হেডলাইন হত। সেটা আর সুখবাজার পড়তো ফেডারেশনের সমর্থকরা। বাংলা সমাজতন্ত্রীদের নিজেদের দলীয় মুখপত্র ‘লোকশক্তি’ পড়তো পার্টি মেম্বার আর সমর্থকরা। উত্তেজিত তর্ক-বিতর্ক এক সময় থামলে তখন শোনা যেত ‘সমকালীন’-এর পাঠকদের গলা। কী হয়েছে, কেন হয়েছে, কী হবের ব্যাখ্যা নিয়ে তারা হাজির! কাগজ বাড়ছিল। বাড়ছিল বলে ছোট আর মাঝারি বিজ্ঞাপন আসছিল নিয়মিত। দেরী হত মাইনেতে বিজ্ঞাপনদাতা আর পাঠকের টাকা আদায় করতে লোক কম ছিল বলে। বেশি ছিল না মাইনে। কিন্তু স্বপনের মনে হত একটা কাগজ করছে যার একটা জায়গা আছে। পাড়ার সাধারণ লোকেরা, সে যে দলের সমর্থকই হোক, স্বপনকে বলতো কাগজটা কিন্তু খবরটা করে। সরাসরি যারা বিভিন্ন দলের সঙ্গে জড়িয়ে তারা অবশ্য চুপ থাকতো, কিন্তু তারাও চেষ্টা করতো ‘সমকালীন’ কী লিখেছে জেনে তবে কথা বলতে চায়ের দোকানে। সে সব ভেঙে দিয়েছিল বীতশোক। তার আগে অব্দি স্বপন বুঝেছিল একে বলে সম্পাদকীয় নীতি। আর অমিতাভ, শালা শ্বশুরবাড়ির পয়সায় মদ-মেয়েবাজি করে, গদার-ত্রুফো আওড়ে চ্যানেল পলিসি বানাবে? কিম্বা অনুরাগ বা জয়ন্ত ওই সব চিটিংবাজী করে বানাবে পলিসি?

আরও পড়ুন...

এদিন আজি কোন ঘরে গো

চিরকুমার পাত্র

আজি এ প্রভাতে রবির লুক
কেমনে টাচিল এ ফেসবুক

জন্মদিনের প্রাক্কালে হঠাৎই রবীন্দ্রনাথ। ফেসবুকে এই প্রথমবারের জন্য। বাকি সবার নজর এড়ালেও ধরা পড়লেন বুলবুলভাজার পাতায়।

আরও পড়ুন...

মুক্তধারার বাঁশিওলা

ইন্দ্রাণী

জ্যাক কিংএর গল্পটাই ধরুন। জ্যাক কেমিক্যাল এঞ্জিনীয়র। বহু বছর পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে সম্মানের চাকরি। তারপর সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিংএ যোগ দেওয়া। সমস্যার সূত্রপাত তখনই। জ্যাক কোস্টাল ওয়াটার সংরক্ষণের রিপোর্ট দাখিল করলেন ক্যাবিনেটে। রিপোর্টে পোর্ট পিরির লেড স্মেল্টারটিকে ভারি ধাতু দূষণের দায়ে সাব্যস্ত করলেন জ্যাক। ক্যাবিনেট থেকে নির্দেশ এল পোর্ট পিরির যাবতীয় রেফারেন্স অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার। অথচ ততদিনে সি এস আই আর ও র বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন লেড স্মেল্টারের ভারি ধাতু কিভাবে মারাত্মক ক্ষতি করছে সে অঞ্চলের জীবজগতের। বলাই বাহুল্য, কিং তাঁর মত থেকে একচুলও বিচ্যুত হ'লেন না। বরং মন্ত্রী, আমলাবর্গের কাছে বারংবার দরখাস্ত করে যেতে লাগলেন। কোনোরকম সাড়া না পেয়ে, বাধ্য হয়ে মিডিয়ায় গেলেন কিং। অর্থাৎ ফুঁ পড়ল বাঁশিতে। সঙ্গে সঙ্গে কিংএর পোজিশন 'রিডানড্যান্ট। এরপর সেই এক গল্প- মানসিক রোগীর তকমা সেঁটে দিয়ে চাকরিটি কেড়ে নেওয়া।

আরও পড়ুন...

আমার অগীত- অঞ্জলি

যশোধরা রায়চৌধুরী

একে তো রবি ঠাকুরের সার্দ্ধশতবর্ষ। সে এক খটমট বাংলা। তবু ১৫০ বছর বলা যাবে না। তাহলে অশিক্ষিত প্রমাণ হবে। মৃত্যুতে, জন্মে, বিবাহে, পৈতেতে, গাছ পোঁতায়, ফাংশনে, পুরস্কারে, তিরস্কারে, রাজদ্বারে, শ্মশানে, সর্বত্র গাওয়ার মত গান যে রবি ঠাকুর লিখে গেছেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের মত। না দ্বিতীয়জন গান লেখেন নি তবে সব ওকেশনের উপযুক্ত একটি করে কোটেশন ঝেড়ে গেছেন। সেগুলো যাতে সব বিষয়ের বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা যায়, সেই জন্য। ফিজিক্স, অংক, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, মাইক্রোবায়োলজি, এথিক্স, ফিলজফি, ফিল্ম চর্চা, কোন বিষয় বাদ দেন নি। রাশিয়ান পাব্লিকেশনের সব বইয়ের প্রথম পাতা খুললেই দেখতে পেতাম সেগুলো আমরা, সেই যুগে, যখন ভারত-রাশিয়া ভাই ভাই। বইগুলোও খুব চকচকে সস্তা সুন্দর।

রবি ঠাকুরের গানও তেমনি। কোন অকেশন বাদ নেই। ভুল করে এবার আপনি যদি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে “সমুখে শান্তি পারাবার” গেয়ে ফেলেন, তাহলে পাপ দেবে না রবি ঠাকুর? অথবা বিয়ের দিন, আমরা দুজনা স্বর্গ খেলনা অথবা আজি এ আনন্দযজ্ঞে না গেয়ে, গেয়ে ফেলেন, এসেছিলে তবু আসো নাই জানায়ে গেলে। লোকে অশিক্ষিত বলবে না? তো, গীতাঞ্জলি নিয়ে যা লিখতে যাব, তাতে তো একই ব্যাপার। এত গুরুগম্ভীর ব্যাপার। আকাশে চক্ষু তুলে দীর্ঘশ্বাস, মাঝে মাঝে একটু একটু বলতে হবে, আর কয়েক মুহূর্ত থামতে হবে, অটলবিহারী বাজপেয়ীর মত।

আরও পড়ুন...

জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী – শতবর্ষে (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

অমর মিত্র

তাঁর গল্পের প্রধান চরিত্ররা সকলেই অ্যান্টি হিরো। অসফল মানুষ, জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ মানুষ। সমুদ্র গল্পের লোকটিও তাই, মঙ্গল গ্রহ বা তারিণীর বাড়ি বদল গল্পের তারিণী, সামনে চামেলি গল্পের ক্রাচ বগলে লোকটিও তাই। কিন্তু প্রতিটি চরিত্রই হল গভীর অনুভূতিপ্রবণ। তাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় সব সময় সজাগ। এই সব ব্যর্থ মানুষের ভিতর আবার অন্য মানুষও আছে। তিনি ছিলেন জাত শিল্পী। শুধু মাত্র কাহিনি কথনের যখন রমরমা, দগদগে কাহিনি যখন বিক্রি হয়ে যায় হাজার হাজার, তখন প্রায় নিভৃতে তিনি শিল্পের সাধনা করে গেছেন। হ্যাঁ, একমাত্র জীবনানন্দকেই যেন মনে পড়ে যায় জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীকে পড়তে পড়তে। আমি যখন জীবনানন্দের জলপাইহাটি উপন্যাসটি পড়ি, সেই ব্যর্থ অসফল মানুষটির কথা পড়ি, তখন মনে পড়ে যায় জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর কথা। ট্রাঙ্ক বন্দী সেই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হয়েছিল জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর মৃত্যুর বছর সাত আট বাদে তো নিশ্চয়। শিল্পের কথা যখন বলছি, ‘রাইচরণের বাবরি’ গল্পটির কথা বলি।

আরও পড়ুন...

জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী – শতবর্ষে (প্রথম পর্ব)

অমর মিত্র

সে ছিল একটা নির্জন রাস্তা আর সেই রাস্তায় ক্রাচ বগলে সে হাঁটে। দুঃখী, বঞ্চিত আর ব্যর্থ মানুষের কল্পনা আর আকাঙ্খার গল্প। খুব বড় লেখক, আমার পিতৃতুল্য লেখক জিজ্ঞেস করতে লাগলেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। তখন তিনি শিশুর মতো। আমরা যারা ওই পুস্তক প্রকাশনীতে যেতাম, শচীন দাস, সমীর চট্টোপাধ্যায়, কখনো কবি তুষার চৌধুরী এবং পবিত্র মুখোপাধ্যায় – সকলেই তাঁকে পড়েছেন। তাঁর নানা লেখা নিয়ে আমাদের নানা কৌতুহল নিরসন করতেন হয়ত কখনো, কিন্তু বারবার প্রসঙ্গান্তরে চলে যেতেন। আমার মনে আছে তাঁকে শুনিয়েছিলাম আশ্চর্য এক অভিজ্ঞতার কথা। গ্রামীণ যাত্রাদল আসছে শীতের ধানকাটা মাঠ ভেঙে, সুবর্ণরেখা নদী পার হয়ে। হিরোইনের কোলে দুধের বাচ্ছা। কোন ভোরে বেরিয়েছে ধ-ডাংরি যাত্রাদল। বেলা বারোটার পর এসে পৌঁছল। হিরোইনের মাথার চুলে খড়কুটো, বাচ্ছা কাঁদছে। রাস্তার দুপারে দাঁড়িয়ে গাঁয়ের চাষাভুসো মানুষজন দেখছে তাকে। কে যেন হেঁকে উঠে ডাকল আমাকে, হিরোইন হিরোইন দেখুন স্যার... তিনি মগ্ন চোখে তাকিয়ে আমার দিকে। আমি কুন্ঠিত গলায় বললাম, আপনি এইটা নিয়ে লিখবেন?

আরও পড়ুন...