এই আমাদের মনকষাকষি, চুম্মাচাটি, যুদ্ধ আর আটভাট। পড়ুনঃ লেখাঃ চেনা ওবেলিস্ক আর ধুলোট মৃত্তিকা


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

অবন্তিকা

মন ও মানবী

বৃহস্পতি দি l আমার রান্নাঘর সামলায় l বয়স সাঁইতিরিশ-আটতিরিশ হবে l সঠিক হিসেব তো ওদের মা বাবাও রাখেন নি l দেখে ওইরকমই মনে হয় l কিশোরীবেলায় বিয়ে l তারপর পুত্রসন্তান l তিন বছরের মাথায় বেকার মদ্যপ ‘স্বামী’কে কাঁচকলা দেখিয়ে ব্যাক টু দ্য ভিটে মাটি l বাবা মারা যাবার আগে নিজের ভাগের একটা ঘর লিখিয়ে নিয়ে এখন ছেলেসমেত সেখানেই থাকে l রান্না করে, বাসন মাজে l নিজে নাম সই ছাড়া বিশেষ কিছু জানে না, কিন্তু ক্লাস এইটের ছেলে ইশকুল কামাই করলে বাড়ি ফিরে তুমুল ঠ্যাঙায় আর বলে- "বাপের মতো হবি তো চাবকে চামড়া খুলে নেবো" l ...
     ... পড়ুন অবন্তিকাএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

NAPM

ভোট দেবেন কেন?

ভোট দেবেন কেন?
প্রার্থীদের হাতে তুলে দিন আপনার-আমার দাবিসনদ


লোকসভার ভোট একেবারে ঘাড়ের ওপর এসে গেছে। ভোটের বাজার সরগরম । বেড়েছে প্রচারের খরচ,রং-ঢং জাঁকজমক।বেড়েছে গালিগালাজ,ভয়-লোভ দেখানো,ধর্ম আর জাতপাতের ভাগাভাগি এবং হিংসা।এ সব গণতন্ত্রের কলঙ্ক।গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে চাই নির্ভয়ে,স্বাধীনভাবে ভোট দেবার অধিকার।তবে সেটাই গণতন্ত্র নয়,গণতন্ত্র মানে দেশের প্রতিটি মানুষের সমান সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার।এ দেশের সংবিধান ও আইন সেই অধিকার আমাদের কাগজে-কলমে দিয়েছে বটে কিন্তু বাস্তবে তা প্রত ...
     ... পড়ুন NAPMএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Biplob Rahman

পাহাড়ের পথে পথে...

আনুমানিক ২৫ হাজার পাহাড়ি-বাঙালির রক্তের বিনিময়ে সাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতেও কী শান্তি হয়েছে পাহাড়ে? তাহলে ক্রেওক্রাডং-এর দুর্গম পাহাড়ে কেন এখনো নিরব দুর্ভিক্ষের হাহাকার? শান্তিচুক্তির পরেও কেন সেখানে সেনা বাহিনী ‘অপারেশন দাবানলের’ পর চালাচ্ছে ‘অপারেশন উত্তোরণ’? তাহলে কি অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি? পাহাড়ে অভিবাসিত বাঙালি সেটেলাররা কি দৃষ্টিতে দেখেন সাধারণ পাহাড়িদের? এই বৈরি সর্ম্পকের শেকড় কোথায়? কোথায় আজ কল্পনা চাকমা? শান্তিচুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে ‘সন্তুস’, ‘গন্ডুস’ ও ‘ফাল্তুস’ নামের পাহাড়িদের স ...
     ... পড়ুন Biplob Rahmanএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Rana Alam

ইসকুলের সমস্যা এবং একটি অপদার্থের প্রয়াস...

বর্তমানে ৬ কোটির বেশি শিশু শ্রমিক ভারতে কৃষি,শিল্প আর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।প্রতি তিনটি শিশু শ্রমিকের মধ্যে দুটি শিশু শ্রমিক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়।পঞ্চাশ শতাংশের বেশী শিশু যৌন হেনস্থার শিকার হয়।The Child Labor Act of 1986 নামের একটা ভাঁটের আইন আছে বটে,তবে তা নেহাতই কাগজে কলমে।

চাইল্ড লেবার বা শিশু শ্রমিক নিয়ে পাতার পর পাতা বকে যাওয়া যায়,তবে তা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সেমিনার কক্ষে পারফিউম চর্চিত লোকেরা যথেষ্ট করে থাকেন।তাদের দলে ভিড়তে গেলে অমুক কমিটি বা তমুক আকাদেমি’র একখানা শ ...
     ... পড়ুন Rana Alamএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কাকমানুষের চকখড়ি

কুলদা রায়

সুখী দিদি ঘাসের উপর দিয়ে ঝরা পাতার উপর দিয়ে ছায়ার উপর দিয়ে খণ্ড খণ্ড নৈশব্দের মধ্যে দিয়ে ছবির বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলে গেছে। সাধু পরমানন্দের বাড়ির পিছনের বাড়িটিতে। ওই বাড়িটিতে সুখী দিদির ছোট একটি ঘর। জং ধরা চালে নীলমণি লতা। দুখীরাম সেই কবে এনেছিল। তাদের পুকুরটিতে গোহাটের গরুগুলি মুখ দেখে আর জল খায়। হাম্বা করে ডাক দেয়। সুখী দিদি এই ছবির বাগান থেকে এই বাড়িটিতে যেতে যেতে তার পায়ের ছাপটি ফেলে যাচ্ছে ঘাসের উপরে। সেখান থেকে জোনাকি পোকার মত মৃদু মৃদু আলো বেরুচ্ছে।

আর এই দেখে লিকলিকে লোকটির দুচোখ বেরিয়ে এসেছে। গলা থেকে বেরুচ্ছে গর গর শব্দ।

সাধু পরমানন্দের বৌ কমলা দিদিমণি রান্না বান্না ফেলে দৌড়ে এসেছে । লোকটিকে পেছন থেকে টেনে ধরল। লোকটির গলার রগ ফুলে উঠেছে। কপালে ঘাম। ছুটে যাওয়ার ইচ্ছে। কিন্তু সত্যি সত্যি যাওয়ার ইচ্ছে নেই। সুখী দিদির নাম ধরে ডেকে যাওয়াই তার জন্য ভয়াবহ এবং একমাত্র নিয়তি। কমলা দিদিমণি বলছে, মথি উদয়। মথি উদয়। ঘরে আয়। ঘরে আয় বাবা।

যেতে যেতে ফিরে ফিরে ছবির বাগানটিকে দেখতে লাগল মথি উদয় নামের এই মানুষটি । বাগানের মধ্যেকার নতমুখী মানুষটিকে। তার চলে যাওয়াটিকে। উড়তে থাকা কালো কাকটিকে। সাধু পরমানন্দ তখনো সুর করে বলছে- --

‘ঈশ্বর কহিলেন, রাত্রি হইতে দিবসকে বিভিন্ন করণার্থে আকাশমণ্ডলের বিতানে জ্যোতির্গণ হউক; সে সমস্ত চিহ্নের জন্য, ঋতুর জন্য এবং দিবসের ও বৎসরের জন্য হউক; এবং পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য দীপ বলিয়া আকাশমণ্ডলের বিতানে থাকুক; তাহাতে সেইরূপ হইল।‘

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মিহিকার জন্মদিন

মলয় রায়চৌধুরী

এখন এসব কথাবার্তা থেকে কি আমন ধানের ক্রপিং ইনটেনসিটি ক্যালকুলেট করা যায়? বিঘা প্রতি ইনটারনাল রেট অব রিটার্ন হিসাব করা যায়? অপটিমাম কস্ট বের করা যায়? ল্যাসপেয়ার্স ইনডেক্স কষা যায়? কস্ট-আউটপুট রেশিও বের করা যায়? অথচ ভারত সরকার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আই এম এফ জানতে চাইছে। ভাল হল যে সর্বজনীন ভাইরাল ফিভারে আমিও আক্রান্ত হলুম। টানা ছুটি। দাড়ি গজিয়ে গেল। হাত বুলিয়ে দাড়ি আদর করি। এই ফাঁকে, মুখে তো অফুরন্ত হাই, ছেলেমেয়েকে ওদের ছোটবেলায় যে জুনিয়ার এনসাইক্লোপিডিয়া কিনে দিয়েছিলুম, তার ছবি দেখে টাইমপাস। হাই তুলতে-তুলে দাড়ি খুঁজি। নানারকম জ্ঞানবিজ্ঞানের দাড়ি।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রাতের অন্যান্য পাখি

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

প্রায় গাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি, এমন সময়ে পেছন থেকে লোকটির গলা কানে আসে। ফিরে দেখি, এদিকেই হেঁটে আসছে। ও ইশারায় আমাকে অপেক্ষা করতে বলে। ওপর থেকে তার চেহারার প্রকৃত বিশালত্ব আন্দাজ করা যায় না। তাকে ছোটো, এমনকী, যথেষ্ট অসহায় বলে মনে হয়। তার হাঁটার ভঙ্গীতে ক্লান্তির ছাপ ফুটে ওঠে। আমি ঢালু জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকি।

“আমাকে দেখলে চিনতে পারবে? পরে?” ফেরার পথে লোকটি জিজ্ঞাসা করে।

আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম। ও চুপ করে থাকি।

“মনে থাকবে নিশ্চয়ই।” লোকটা মুখ থেকে অনেকটা ধোঁয়া ছেড়ে হাসে। অল্প কাশি হয়। সে বুকের ওপর আড়াআড়ি হাত রাখে। ও ধীরে ধীরে সামলে নেয়।

একটি কুকুর হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে এসে পড়েছিল। হর্ণ দিতে ছিটকে সরে যায়। আমি আড়চোখে বাঁ-দিকে তাকাই। দেখি, চোখ বন্ধ। ও ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি লেগে আছে।

“ইটস নট ইজি, ইয়াং ম্যান। নট সো ইজি।”

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পুনরুত্থান

বিপুল দাস

 লাইব্রেরিতে সোভিয়েত দেশ খুব একটা কেউ পড়ত না। বরং ‘কালনাগিনীর প্রতিহিংসা’ কিংবা ‘মরণগুহার ভয়ংকর’ খোঁজ করেও পাওয়া যেত না। আমার কিন্তু সোভিয়েত দেশ ভালো লাগত। কী মসৃণ ঝকঝকে কাগজ, কী সুন্দর রঙিন ছবি। তখন অন্য কোনও পত্রিকায় রঙিন ছবি প্রায় দেখাই যেত না। নতুন পত্রিকা এলেই আমি প্রথমে পৃষ্ঠা খুলে গন্ধ শুঁকতাম। কাগজ থেকে, অক্ষর থেকে রাশিয়ার বাতাস ফুসফুস ভরে টেনে নিতাম। বুকের ভেতরটা বিশ্বাসে ভরে উঠত। মনে হত আমার শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে লেনিনগ্রাদ, মস্কো, বাকু, আজারবাইজান, তাসখন্দের বাতাস। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করতাম পৃথিবীর ভেতরে শ্রেষ্ঠ দেশ হচ্ছে ইউ এস এস আর। পত্রিকায় এক একজন লেখকের নাম খুঁজে পাই, লাইব্রেরি থেকে তাদের বই খুঁজে নিয়ে পড়ি। বাংলায় অনুবাদ। তুর্গেনিভ, গোগোল, তলস্তয়, দস্তয়েভস্কি। নিকোলাই অস্ত্রয়েভস্কির ‘ইস্পাত’ পড়ে তো দু’রাত ঘুমই হল না। আমারও ইচ্ছে করত মাতৃভূমি না বলে আমাদের দেশকে পিতৃভূমি বলে ডাকতে। সেই লেনিনগ্রাদ থেকে ভারখায়ানস্ক – পৃথিবীর আদ্ধেকটা জুড়ে তো ওরাই রয়েছে। যুদ্ধ হলে শুধু একটা বোতাম টিপবে, আমেরিকা ফিনিশ। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

নাগর

মাজুল হাসান

প্রথম দেখায় বিন্দুরে বুকিং দিছিল মতি। এমন মাল না চাখলে জিবলা কাইট্টা ফালান্ উচিত। কিন্তু বিন্দু তো আটটা-দশটা বাজারী মাইয়্যার মতো না। হলে সিট পাওয়ার জন্য একটু তদবীরে এসেছিল। পরে অবশ্য কৃতজ্ঞতাবশত দলের বড় মিছিলগুলানে অ্যাটেন্ড করত। সেই থেকে শুরু।

যা হোক, মতিন ওরফে কুক্কুরু-মতি সেইদিন সাক্ষাত মোরগা-মতি। দুধচিনি বেশি কিং সাইজ চা খেয়ে কথা উঠছিল, কী করে অপোন্যান্ট গ্রুপকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা যায়? তখন গাণ্ডু-হেলালের টেম্পার দেখার মতো। বলে, ‘অত কওনের কাম নাই, ল সেন্ট্রাল মাঠে যাই, কাটারি হান্দায়া দেই। ব্যস ফাইনাল।’
‘কিন্তু বিন্দু যে আমারে টাসকি দিলো দোস্ত!’
‘হ, কঠিন মাল একখান।’—এখনও নিজের কথা কানে বাজে কুক্কুরু-মতির। কী করে পারত সে? যার সাথে একটা লটরপটর চলতেছে তারে নিয়া এমন ছালবাকলাহীন কথা! এখন মাথা দপদপ করে। শেষে রাগ বাড়ে নিজের ওপরই। ওর নাম কুক্কুরু-মতিন না হয়ে গাণ্ডু-মতিন হওয়া উচিত ছিল। বুঝতেই পারেনি এই বিন্দুর প্রেমে পড়ে যাবে, আর ওর গলার কাটা হয়ে উঠবে বিলা-মেজবাহর ডাইল উৎসবের রাত। কারণ, শুধু দেখে খান্ত হয়নি, সেদিন রগরগে কিপটা ব্লুটুথ দিয়ে নিজেদের মোবাইলে নিয়ে যে যার মতো ঢেঁকুর তুলতে তুলতে বিদিক নাচ-গানা করেছিল। সেদিন ঘুরেফিরে একই কথা—মামা কইও না, কইও না, শহীদ হয়া যাই! সেদিন ‘ম্যায় দুধারি তলওয়ার হু’ গান গাইতে গাইতে তারা ভাগ করে নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ দিকের টেন্ডারবাজি—‘বকশিবাজার তোর, গিরিঙ্গি লেন গাণ্ডুর আর গেদু-আলিমের হইল কোর্টচত্বর।’

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অবিনাশ

রূপঙ্কর সরকার

লোকটা অবিনাশকে দেখে হাসল। ভাল আছেন, অবিনাশ? অবিনাশ ভাবল, এই যে ভাল আছি কিনা জিজ্ঞেস করল লোকটা, আসলে কিন্তু এটা কোনও প্রশ্ন নয়। আমি তো কোনওদিনই উত্তর দিই না। তাতে তার খুব একটা কিছু আসে যায় বলে মনে হয়না। তবু লোকটা বলে, ভাল আছেন অবিনাশ? আসলে ও আমায় মনে করিয়ে দেয় যে আমি অবিনাশ। কিন্তু আমি অবিনাশ কেন? আমার বৌ নেই কেন? আমি চাকরি করিনা কেন? আমি বাড়িতে একা থাকি কেন? আমি কি পাগল?

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পেলেকার লুঙ্গি

আনোয়ার শাহাদাত

তারা আসল দরিয়ায় নয় এখন। সোমনাথপুরের বর্ষায় আউশ ধানের ক্ষেত, জলাভূমি, শ্রাবণের পূর্ণিমার জোবায় সাগর থেকে ঠেলে-পুরে দক্ষিণাঞ্চলে যে-জল উঠেছে তা নামার আগেই আবার অমাবস্যার জোবা এসে গেছে। ফলে পুরো দিনের আলো ঝড়ের সন্ধ্যা-আকাশের রূপ ধরেছে। পাগলাটে আকাশে গুড়ো বৃষ্টি উড়ছে বর্ষার নির্মেঘ আকাশে যেমন গুটিপোকার পঙ্গপাল নামে। জোয়ারের জল ক্ষেতের পেট ফাঁপিয়েছে মরা গোরুর মতো। বীজধানের ক্ষেত তো কথাই নেই, ভিটার পাটক্ষেতও ভাসিয়েছে তুফান। বিশাল ক্ষেতের কোথাও আলের উপর বেড়ে-ওঠা নিসঃঙ্গ খেজুর গাছগুলোই দাঁড়িয়ে আছে বাতাসের ঝাপটায় বিধ্বস্ত মাথা নিয়ে। এ-গ্রাম ও-গ্রামের মাঝখানে অবাধ জলরাশিতে ঢেউয়ের হিল্লোলে কলম ফরাজী নাতিদের এটা দরিয়াই ভেবে নিতে বলেছে।

ডুবে যাওয়ার আগে বিলের মাঝে যে ছোট খাল ছিল তার শেষমাথার জলায় শাপলা ধরেছে প্রচুর। জল পেয়ে শাপলা আরও দীর্ঘ হয়ে উপরে ভাসিয়েছে মাথা। লম্বা শাপলার ঝাড় তুলে এনে রেঁধে ভাওর দিন চালিয়ে নেবে এমন পরিকল্পনা করে কলম ফরাজী নৌকায় উঠে বসে। আমগাছের শেকড়ের সঙ্গে বাঁধা নৌকার রশির বান খুলে নাতিদের ‘জোংরা’সহ আসতে বলে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির হাত থেকে পিঠ বাঁচানোর জন্য। বড় নাতি হাবেলের পরনের লুঙ্গি খুলে দুভাই লুঙ্গির দুপ্রান্ত বাতাসের উলটোদিকে ধরে নৌকার গলুইর গুড়ায় দাঁড়িয়ে বাদাম-নামক পাল তোলে। নাতিদের বানানো লুঙ্গি-পালে বাতাস লেগে নৌকা জোরে চলা শুরু করার পরই দাদু হাল ধরে শান্ত হয়ে বসে দিগম্বর নাতিদের খোঁচা মেরে কথা বলে--‘মোর হালাগো দেহি লজ্জাশরমের মাতাডা খাওয়া গেচে। দুইডা ছিলা ক্যালা, ল্যাংডা ফহির অইচে।’ এর পরই দাদুর লুঙ্গি বাতাসে উলটে যায় যেমন পুঁটিতে ঠোকর বসাবে বলে অপেক্ষারত স্থির বলাকারা পাখা অনাকাক্সিক্ষত দমকা বাতাসে উলটে গিয়ে ডানার নিচের বিবর্ণ মাংস বেরিয়ে পরে। আর তখনই নাতিরা চেঁচিয়ে ওঠে--দাদুর বেগগুইন জিনিস দেহন যায়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শাহবাগ, দ্রোহ অথবা ইউজিন পেতিয়ে’র গান (Les Chanchons de Revolution) - প্রথম পর্ব

অদিতি ফাল্গুনী

 সিন নদীর পারে সেবারের জুলাইটা ছিল সত্যিই অন্যরকম। ইউজিন, তোমার কি মনে পড়ে? জুলাই বরাবরই এই ফরাসী দেশে ভিন্ন আভা, ভিন্ন দীপ্তি নিয়ে আসে। প্রায় পৌনে একশ বছর আগের জুলাইয়ের চোদ্দ তারিখের গল্পটা পিতামহ পিতামহীরা শোনায় নি কি? দিকে দিকে খবর রটে গেছিল যে বাস্তিল দুর্গের উপর কামান থেকে গুলি ছোঁড়া হবে সাধারণ, নিরস্ত্র মানুষের উপর। আর সে খবরে এত দিনের ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত ও বিপন্ন মানুষ যত ভয় পাবার বদলে বরং উল্টো হঠাৎই অতিকায় দৈত্যের মনের জোর নিয়ে ছুটলো সো-জা বাস্তিল দুর্গ বরাবর। ১৪ই জুলাইয়ের দু’দিন আগেই রাজা ভার্সেই থেকে সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসে জনতার উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। জনতাও এর উত্তরে সাথে সাথেই পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তÍত হয়ে গেছিল। শহরের ঘণ্টা বেজে উঠলো। জনগণের পক্ষ থেকে সতর্ক ঘণ্টা। জনতা দরকারে রাষ্ট্রীয় অস্ত্রভাণ্ডারও দখল করতে প্রস্তÍত। একটি গার্ড রেজিমেন্ট জনতার পক্ষে অবস্থান নিল। ঠিক তার দু’দিন পরেই অর্থাৎ চোদ্দ তারিখেই যেই না খবর রটলো যে বাস্তিল দুর্গ থেকে মানুষের দিকে গুলি ছোঁড়া হবে, অমনি সব ধেয়ে গেল দুর্গ বরাবর। তারপর বাকিটা ইতিহাস। গিলোটিনে অভিজাতদের মাথা। লিবার্তে-ফ্রাতের্নিতে-ইগালিতে...সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতা...মানুষ স্বাধীন হয়েই জন্মায়...তথাপি সে সদা শৃঙ্খলিত! তবু, ইউজিন...যেমনটা তোমার পিতামহ বলতেন আর এ-ও জানা কথাই...প্রতিটা বিপ্লবের পরই আসে একটি করে প্রতিবিপ্লব...হাজার অন্যায়ের প্রতিবাদেও কারখানায় শ্রমিক ধর্মঘট করতে পারত না। নারী রয়ে গেল আগের মতই নিরক্ষর, গৃহকর্মের দাসী। তবে বিপ্লবটা কোথায়?  তবু ১৭৯২ থেকে ১৮৭০...গুনে গুনে ৭৮টা বছর পরে আবার এই জুলাই...সে যেন একইসাথে রক্তবর্ণ অথচ পিঙ্গলাভ মেঘ, যা যে কোন ঝড়ের আগে দেখা যায়। 


...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শাহবাগ, দ্রোহ অথবা ইউজিন পেতিয়ে’র গান (Les Chanchons de Revolution) - দ্বিতীয় পর্ব

অদিতি ফাল্গুনী

 রাত প্রায় এগারোটা বাজে। বাবার বাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি দু’টোই খুব বেশি প্রগতিশীল না। বাবার বাড়িই শাহবাগ থেকে কাছে। দ্রুত একটা রিক্সা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা করে ফারহানা। আধা ঘণ্টায় পৌঁছে যায়।      

কলিং বেল টিপতেই মেজো আপা দরজা খোলে, ‘শাহবাগ থেকে মাত্র ফিরলি? জানিস, ব্লগার থাবা বাবা যে মারা গেছে? টিভিতে বললো!’

‘হুম- রাজিব হায়দার নামে একজন মারা গেছে জানি...’

‘সে-ই ত’ থাবা বাবা নামে লিখত। তুই ত’ আর ব্লগ পড়িস না। আমি বাবা লন্ডনে থাকি বলে দেশের সব পেপারের ই-ভার্সন আর ব্লগ পড়তে হয়! ছেলেটা নাস্তিক ছিল। তা’ নাস্তিক হওয়া কি দোষের? তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাই? তাই বলে তাকে খুন করতে হবে? কবে আমরা একটু সভ্য হবো?’

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

শাহবাগ, দ্রোহ অথবা ইউজিন পেতিয়ে’র গান (Les Chanchons de Revolution) - শেষ পর্ব

অদিতি ফাল্গুনী

 ...তবু বিপ্লবের পিছু পিছু পায়ে পায়ে নিঃশব্দে হেঁটে আসে যে প্রতিবিপ্লব ক্ষুধার্ত ডাইনির মতো, সে সহসাই পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপ্লবের কাঁধে ছুরি বসায়। বাঘনখে বিদ্ধ করে তার হৃৎপিণ্ড। তাই কি হয় নি? মার্চের ২২ তারিখেই অভিজাতদের কিছু দাঙ্গাবাজ গায়ে পড়ে হামলা করলো কমিউনের লড়াকু শ্রমিকদের সাথে। শ্রমিকরা আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করতেই ওরা ছুরি, পিস্তল, লাঠি রেখে পালালো। কমিউনের সেনাপতি লুলিয়ার লোকটিকে তোমাদের যে ভাল লাগত না, সেটা ত’ ঠিকই ছিল ইউজিন! অভিজাতরা তাড়াতাড়িই যে আবার দখল করে নিল দুর্গ মঁ-ভালেবিঁ। ব্যর্থতার শাস্তিতে বহিষ্কৃত হবার সাথে সাথে কমিউনের পিছু নিল সে। ভার্সেই থেকে আসা অভিজাতদের শেষ বাহিনীর পক্ষে কাজ করলো লুলিয়ার। হায়, শ্রমিক নারীরা পর্যন্ত লড়াইয়ে এগিয়ে এলো। নিজেদের দরিদ্র, নিরন্ন বস্তি রক্ষায় পুরুষের পাশাপাশি তারাও কামান চালালো। গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়লো রাস্তায়। নিকোলা আর জাঁকের স্ত্রী, প্রেয়সিরা খুন হলো রাস্তায়। মৃত স্বামীর শবদেহের পিছু হাঁটতে হাঁটতে শিশু সন্তানের কাণে শ্রমিক মেয়েরা শ্লোগান দিয়েছে, ‘ভিভা পারি কমিউন!’ তবু ভার্সেইয়ের সেই বিপুল সৈন্যবাহিনীর সাথে শেষরক্ষা হলো কি? শ্রমিক নেতা ফ্লুঁরাসকে পেছন থেকে খুন করলো বুর্জোয়া সেনাপতি দেসার্ত, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হাত থেকে যার জীবন বাঁচিয়েছিল ফ্লুঁরাসই। ফ্লুঁরাসের মৃতদেহ টুকরো করার দৃশ্য ভার্সেইয়ের গোলাপ বাগানে উপভোগ করলো বুর্জোয়াদের স্ত্রী ও রক্ষিতারা। ৬ই এপ্রিল শহীদ শ্রমিকদের শবযাত্রায় কফিনের পিছু পিছু দুই লাখ শ্রমিকের শবযাত্রার ঢল...শুধু পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না কমিউনের...ভার্সেই সৈন্যরা এপ্রিলের ৭ তারিখ দখল করে নিল নিউলি-তে সিন নদীর ঘাট। মে মাসের শেষ নাগাদ জার্মানরা বন্দী ফরাসী সৈন্যদের ছাড়ার পর বুর্জোয়াদের শক্তি আরো বাড়লো। ফরাসী বুর্জোয়াদের সাথে হাত মেলালো জার্মান বাহিনীও...আটটা দিন...আট/আটটা দিন সে কি খাণ্ডবদাহন! লোশেজের কবরখানা ভরে উঠলো নর-নারী-শিশু-বৃদ্ধের লাশের স্তুপে। ত্রিশ হাজার মানুষ হত্যার পর শুরু হলো পাইকারি গ্রেপ্তার। লড়াইয়ের শেষ দুই দিনে হেরে যাবে বুঝে শ্রমিকেরা নিজের হাতে নিজের প্যারি প্রিয়তমার দেহে জ্বালালো আগুন। বুর্জোয়া ভার্সেই যেন পায় নিছকই এক অগ্নিদগ্ধ শহর। তিন দিন ধরে দাউ দাউ করে জ্বললো আগুনের লকলক শিখা। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রূপকথা - প্রথম টুকরো

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

 ঘুমন্ত নগরীতে সবাই ঘুমোচ্ছে। সবাই পাথরের মত ফ্রিজ।  রানীর পায়ের কাছে এক মস্ত ফিনিক্স পাখি, সেও ঘুমোচ্ছে।

দুইজন মুখোশধারী জ্যান্ত যুবক সব খুঁটে খুঁটে দেখছে।

একজন রানীর পাশে রাখা বড় ঘন্টায় আওয়াজ করতেই সবাই জেগে ওঠে। অন্যজন ফিনিক্স জেগে উঠতেই তরবারি দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে। নগরীর সবাই ছটফট করতে করতে ড্রাগনের আকারধারণ করে ও মারা যায়।

 

ভয়েস ওভারে সীমান্তবাবা কী করে অশুভ শক্তি ড্রাগনদের ধ্বংস করতে হবে তার বিবরণ দেন।

সারা সমুদ্র লাল রঙ হয়ে যায়।

মুখোশ পরিহিত দুই যুবক তার মধ্যে দিয়ে ভেসে ওঠে।

সমুদ্রতটে দেখা যায় ড্রাগন দেবাদিদেব ইউনিকর্ণ ছটফট করতে করতে ঢুবে যেতে থাকে চোরাবালিতে। মুখোশ পরা দুই যুবক তাকে ডিঙিয়ে ফ্রেমের দুইপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ড্রাগন দেবাদিদেব ইউনিকর্ণ বাঁচাও বাঁচাও করতে করতে ঢুবে যায় চোরাবালিতে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রূপকথা - দ্বিতীয় টুকরো

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

 মরুপ্রান্তর। দিন।

রক্ষীরা চলেছে উটের পিঠে। তাদের মাথায় ছত্রী ধরে আছে মরু পোষাকে স্থানীয় মানুষ। পেছন পেছন চড়া রোদে সালমা ও রুমকি কোলে সন্তান নিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে চলেছে দিগন্তের দিকে।

আবহে দুইজনের একসঙ্গে থাকার গানটির স্যাড ভার্শন শোনা যায় (হামনিকা শুনে শোলের কথা মনে পড়বে)।

কাঁটাতারের বেড়া। রক্ষীরা তাদের বেড়া পার করে ফিরে যায়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Animesh Baidya

চৈত্র সেল

এই লেখাটি কোনও ভাবেই আমার অতি প্রিয় এবং একটি অসামান্য কবিতাকে নষ্ট করার জন্য নয়। কারও তেমনটা মনে হতেই পারে। তাঁদের কাছে নতশিরে ক্ষমা চাই। আসলে আজকের চৈত্র সেলের বাজারের মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় দেখছিলাম ক্রেতা এবং বিক্রেতার 'জীবনের আনন্দ'। এই লাইনগুলো মাথায় ঘুরছিল। ক্ষমা করবেন জীবনানন্দ দাশ। আপনার অতীব সুন্দর একটি কবিতাকে আশ্রয় করে এই অর্থহীন চ্যাংড়ামোর জন্য।

আবার আসিব ফিরে, চৈত্র সেলের ভীড়ে, গড়িয়াহাটায়
হয়তো ক্রেতা নয়, হয়তো বা দোকানের মালিকের বেশে
হয়তো পণ্যের ঝাঁক হয়ে এই চৈ ...
     ... পড়ুন Animesh Baidyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শিবাংশু

চেনা ওবেলিস্ক আর ধুলোট মৃত্তিকা

ফাগুনের শুরু হতেই.......
----------------------------

আবার বছর ত্রিশ পরে
তার কথা লেখা হয় যদি,

আবার বছর ত্রিশ পরে................

একটা বিয়ের আমন্ত্রণপত্র ছাপা হয়েছিলো ঠিক তিরিশ বছর আগে । শুরুতে ছিলো প্রিয় কবির এই কবিতাংশটি , " সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছি, কোনও এক বসন্তের রাতে...." ;
যাঁরা বুঝেছিলেন, তাঁরা জানতে চাননি, কেন এই কবিতাটি এলো । বাকি কিছু লোকজন হয়তো ভেবেছিলেন এই সব কবিটবির কারবারই আলাদা, না বোঝাই ভালো । অল্প কয়েকজন বয়স্য জানতে চেয়েছিলো, " এই সব ...
     ... পড়ুন শিবাংশু এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Abhishek Mukherjee

আবিষ্কার

অর্কদীপ্ত কহিল, “কেন, মহারাজ?”

মহারাজ প্রত্যুত্তরে যকৃৎ ও পাকস্থলীর মধ্যবর্তী কোনও অঞ্চল হইতে “ঘুঃ” শব্দ উচ্চারণ করিলেন। অর্কদীপ্ত স্তম্ভিত হইয়া গেল। এরূপ শব্দ সে কখনও শুনে নাই। বস্তুতঃ, রাজবংশে এইরূপ শব্দোচ্চারণের রীতি আছে কিনা, তাহাও তাহার অবগত নহে।

মহারাজ পুনরায় পাদচারণায় রত হইলেন। অর্কদীপ্ত ক্রমেই অধৈর্য হইয়া উঠিতেছিল। মহারাজকে একই প্রশ্ন বারংবার করিলে তিনি অবধারিত বিরক্ত হইবেন; অন্যদিকে, দেবতারা কেন কুপিত, আর সে বিষয়ে তাহাকে কেন মহারাজ গুপ্তমন্ত্রণায় আহ্বান করিয়াছেন, তাহাও ...
     ... পড়ুন Abhishek Mukherjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

জুজু

১।
২০১৪ সালের মার্চ। টেক্সাসের অধিবাসী পঞ্চান্ন বছরের এক ব্যক্তি নিজের মেয়ের ঘরে একটি তরুণ যুবককে আবিষ্কার করে গুলি করে মেরে ফেললেন। ছেলেটির নাম জোহরান ম্যাককরমিক। বয়স ১৭।
খবরে প্রকাশ, মেয়েটির ভাই মেয়েটির ঘরে শুভরাত্রি বলতে গিয়ে খাটের তলায় দুখানা পা আবিষ্কার করে। বাবাকে খবর দেবার পরে, তিনি মেয়ের কাছে জানতে চান, ছেলেটিকে সে চেনে কিনা। মেয়ে অস্বীকার করে। বাবা প্রথমে পুলিশে ফোন করেন। তারপর ঘরে ঢুকলে ছেলেটি তার হাত নাড়ায় (বিপজ্জনকভাবে)। বাবা ভয় পেয়ে গুলি চালিয়ে দেন। ছেলেটি প্রায় তৎক্ষণাৎ মা ...
     ... পড়ুন সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sambuddha Acharyya

ফেলে আসা দিনগুলো - 2

সুড়ঙ্গ
------------------------------------------------------------------------------------------

আমাদের স্কুলের পাঁচিলে একটা সুড়ঙ্গ ছিল। অনেক ছোটবেলায়, যখন সদ্য স্কুলে ভর্তি হয়েছি, তখন উঁচু ক্লাসের কিছু ছেলে বলেছিল যে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে অদূরে পালচৌধুরী বাড়ির নিচে যাওয়া যায়, যেখানে গুপ্তধন আছে। দেখতে সেটা একটা গর্ত বই আর কিছু নয়, যেভাবে পুরনো ইঁটের পাঁচিল ধসে গর্ত হয়। কিন্তু ছোটবেলার সেই মায়াবী দিনগুলোতে সেই গর্ত ই হয়ে যেত সুড়ঙ্গ, কালো,অন্ধকার মাকড়সার ঝুলে ভরা একটা পথ, যে পথে মশাল নিয়ে ...
     ... পড়ুন Sambuddha Acharyyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Rajat Subhra Banerjee

এখন …..

পোষাক জীর্ণ, প্রাসাদ ভগ্ন,
বাকবিতণ্ডা অসংলগ্ন,
তবুও শুনছি, অগ্রগমন চিত্ত খুলছে,

শিউরে উঠছে জগদ্ধাত্রী,
মরিচ মারছে পাত্র পাত্রী,
জাতির জনক নিদ্রামগ্ন, নিত্য ঢুলছে।

শিল্প বুঝছে পুঁজির সুখ কী,
গর্তে ঢুকছে গরীব দুঃখী,
মধ্যবিত্ত তিন ফসলের সত্তা তুলছে,

বিবেক জড়িয়ে লোহার বর্ম,
সংজ্ঞাবিহীন ধর্ম কর্ম,
গিন্নী কেবল খাইয়ে যাচ্ছে, কত্তা ফুলছে।

পাঁচটা মুরগি, একটা পালছে,
ভিক্ষু দেখলে মদ্য ঢালছে,
আত্মা তাতেই সমাজসেবার পুণ্যে দুলছে,
     ... পড়ুন Rajat Subhra Banerjeeএর সমস্ত লেখা