এই আমাদের ভাষাশিক্ষার বুনামবিধি, পড়ালেখা, আড্ডা আর ল্যালাপনার ম্যানিফেস্টো। পড়ুনঃ বিষয় : শোক ও শস্যের ওয়াগন/৫


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

অনিকেত পথিক

ফুলবিলাসীর ঝামেলাসমূহ

শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা, আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকব ইত্যাদি বলে যতই আদিখ্যেতা করুন ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন এই তিনমাস ঘুমিয়ে থাকা তো নয়ই বরং কতরকম চ্যালেঞ্জ, টেনশন, নজরদারি, আর এই ক’টাদিন একটু হাসিখুশি থাকতে হলে তার আগের তিনমাস কি খাটাখাটুনি আর কি উদ্বেগে থাকতে হয়। এখানে ভুক্তভোগী বলতে যারা এই শীতকালে একটু ফুলটুল ফোটান তাদের কথা বলা হচ্ছে। পৃথিবীতে এত গাছ আর ফুল থাকতেও যাঁদের নিজের পা ফেলার রাস্তার ধারে, জানলার পাশে, বারান্দার কার্নিশে চাট্টি ‘নিজের হাতের গাছ’ না দেখলে ঘুম হয়না, এমনিতেই তাদের (পাগলা) ...
     ... পড়ুন অনিকেত পথিকএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Rajat Subhra Banerjee

দই কচুরি

“দই কচুরি, দই কচুরি”, শুনেই কেমন রক্ত নাচে,
রক্ত নাচে ধিতাং ধিতাং, বেলপাহাড়ির ঝুমুর ধাঁচে!
ঝুমুর ধাঁচে প্রাণটা লাফায়, মন চলে যায় বেলঘোরিয়া,
বেলঘোরিয়া গিয়েই সে মন আপন তালে দিলদরিয়া!

দিলদরিয়া, উদার চেতন, ইচ্ছে করে দিই বিলিয়ে,
দিই বিলিয়ে দই কচুরি, হিসেব কষে, ছক মিলিয়ে।
ছক মিলিয়ে মন ভরে যায় অঙ্ক কষার উন্মাদনায়,
উন্মাদনায় দুলতে থাকি জীবনমুখি ধ্যান ধারনায়।

ধ্যান ধারণায় হঠাৎ বাধা – কোথায় যেন চুন খসে যায়,
চুন খসে যায়, পানটা নিরস, পানসে, জোলো, মন ধসে যায়।
     ... পড়ুন Rajat Subhra Banerjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Rana Alam

যৎকিঞ্চিত ... ( তিরিশতম পর্ব)



নিউ ইয়ার রেজোলিউশন আদতে এক ধরণের ইলিউশন।সেইটে এ বছর আরেকবার বুঝলাম। বছরের শুরুতে দেখলাম সব্বাই নতুন বছরের রেজোলিশন করছে।যে শুভ আপিস ফেরতা রোজ বারে না ঢুকে বাড়িই ঢুকতে পারেনা তাকেও দেখলাম রেজোলিউশন করছে যে এ বছর বারে ক্যানো বারের ধারে কাছেই যাবেনা।
আমি জিগালুম,
‘হ্যাঁরে শুভ,এটা কি তোর অশুভ রেজোলিউশন হচ্ছে না? মানে,দুনিয়াশুদ্দু লোক যখন জানে যে সিগনেচার আর শার্ক ট্রুথের অন্তত দুটো করে লোকের বেতন তোর পকেট থেকে যায়’।
শুভ কাতর চোখে আমার হাতদুটো ধরে বলল,
‘নারে ভাই।আর নয়।দশ বছর ...
     ... পড়ুন Rana Alamএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

I

I

বিশ্বখ্যাত নাট্যমনীষী, স্তালিনবাদবিরোধী নিরলস সংগ্রামে সমর্পিতপ্রাণ শ্রীমতী সমর্পিতা বোসের সাম্প্রতিকতম পালা "নাট্যখামার" দেখতে বঙ্গের সকল নাট্যানুরাগী মা ও মানুষকে(মাটির মানুষ, বলাই বাহুল্য-বেঁড়েপাকা হলে চলবে না) আহ্বান জানানো হচ্ছে। নাটকের মূল চরিত্র তুষারকণা-র চরিত্রে সমর্পিতা স্বয়ং এবং ন্যাপলা-র চরিত্রে বিশ্রুত নাট্যব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু অমাত্য বসু অভিনয় করছেন। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন খ্যাতনামা নট ক্ষৌণীশ পাত্র ও মানবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। শতাব্দীর সেরা চমক হিসাবে নাটকের শুরুতেই অতিথি ...
     ... পড়ুন Iএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

তাপস দাশ

অন্য চিন্তা চমৎকারা

দিব্যি দুজনে কথা বলছিলাম – ড্রাইভার ভদ্রলোক প্রায় থামিয়ে বললেন,
দাদা একটা কথা বলি? আমার না একটা মেয়ে আছে, বছর ৫এর l আমি ওকে দেখিয়েছিলাম হাসপাতালে, আসলে ওকে ভ্যাট থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম তো – তাই হাসপাতালে দেখিয়ে নিলাম l শিশুমঙ্গলে দেখে বলল বাচ্চা ঠিক আছে, কিন্তু ও কানে শুনতে পায় না, আর কথা বলতে পারে না l কোনো সংস্থা আছে – যারা এরকম বাচ্চাদের জন্যে কিছু করে?
মিরাজ – ভদ্রলোকের নাম, যেটা আমরা একটু পরে জানতে পারব, বলতে থাকেন,
দেড় দু দিনের বাচ্চা, ওই যে হাসপাতালটা ছিল না, কিডনি বেচত, তার ...
     ... পড়ুন তাপস দাশএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ভারতের জমিনীতি সংস্কার

মৈত্রীশ ঘটক, পরীক্ষিৎ ঘোষ, ও দিলীপ মুখার্জী

নতুন জমি/ ভূমি সংস্কার আইন এজন্যেই গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রশাসনের লক্ষ্য সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করা ও কম্পিউটারাইজ করা। এর জন্য যা দরকার জমি মালিকদের সঠিক জমির হিসেব দেওয়ার সহযোগিতা। জমির উর্ধ্বসীমা আইনের ফলে প্রচুর জমির মালিকানা গোপন ও বেনামী, অন্যদিকে সরকারি অধিগ্রহণ হলে মালিকরা অবশ্যই চাইবেন সঠিক ক্ষতিপূরণ যার জন্য জমির হিসেব ঠিকঠাক থাকা প্রয়োজন। এই ভাবেই জমি সংশোধন ও অধিগ্রহণের মধ্যে এক সহজ সম্পর্ক আছে। দ্বিতীয় অংশ ঠিকঠাক কাজ করতে হলে প্রথম অবস্থার উন্নতি প্রয়োজন, আর প্রথম ক্ষেত্রে উন্নতি হলে স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অনেক সুবিধে হবে। সঠিক পরিসংখ্যান দিতে মালিকদের উৎসাহ দিতে, কিছু পুরস্কার যেমন, সরকারি সুযোগ সুবিধে দেওয়া যেতেই পারে। সহজে সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ, NREGA, ভর্তুকি, জন বন্টন ব্যবস্থা ইত্যাদির ব্যবস্থাও করা যায়। একই ভাবে গত পঞ্চাশ বছরে জমি সংস্কার বলবৎ করতে আমাদের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছুদিনের জন্য উর্ধ্বসীমা আইন কিছুটা শিথিল করা যেতেই পারে যাতে মালিকরা সঠিক তথ্য দিতে আগ্রহী হন। বিশেষত দেখা গেছে যে জমিসংস্কার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষি উন্নতির পরিপন্থী হয়েছে, ও এর দায়ভাগ আরো বেশি বর্তায় জমির উর্ধ্বসীমা আইনের ওপর (Ghatak and Roy, 2007 )। এমনকি জমির রেকর্ড ঠিক করার জন্য ও সঠিক তথ্য জানালে আয়করে ছাড় দেওয়াও যেতে পারে। আদিবাসী এলাকায় কৃষি জমি বিক্রির ওপর অকারণ বিধিনিষেধ আরোপ, আদিবাসীদেরই স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। এই বিধিনিষেধ তফশিলী জাতি, উপজাতি আদিবাসীদের সঠিক জমি ব্যবহারে সাহায্য তো করেই নি উপরন্তু তাদের জন্য বিকল্প জীবিকা ও গড়ে তোলে নি। আপাতদৃষ্টিতে বৈষম্যের নামে শিল্পায়নে বাধা সৃষ্টি করে আদতে কিছু লাভ হয়নি। জঙ্গল রক্ষা আইন সংরক্ষণের নীতির বিরোধী হয়ে উঠেছে । সম্পত্তি আইনে আওতায় জঙ্গল জমি আনার উদ্দেশ্য অবাধ কৃষি ও বন কাটা নয় বরং, তাদের পুরুষানুক্রমে চলে আসা শিকার ও সংগ্রহণ বৃত্তি থেকে যদি তারা উচ্ছেদ হয় তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাও করা। সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, বাস্তবের সাথে আদর্শের মেলবন্ধন না ঘটাতে পারা আমাদের ব্যর্থতা, ঠিক যেরকম বন্টন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমষ্টিগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প স্থাপন ও বন ধ্বংস রোধ করার ভারসাম্য রক্ষা করতেও আমরা সক্ষম হইনি। সামাজিক ন্যায় বিচারের জন্য জমির বন্টন আরো সমান ভাবে হওয়ার সাথে সুষ্ঠু জমি বাজার ও জমির আরো উন্নত ব্যবহার পদ্ধতি গড়ে তোলার মধ্যে যে কোনো সংঘাত নেই সেই সত্যি যত তাড়াতাড়ি বোঝা যায় ততই মঙ্গল।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পরমাণু বিদ্যুৎ - কিছু তথ্য, কিছু ভাবনা

প্রদীপ দত্ত

 ২০০০ সালে পৃথিবীতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ লক্ষ ৭২ হাজার মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের শেষেও উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় একই জায়্গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে আসল উৎপাদন কমেছে কারণ জাপানের ৫৪ টি পরমাণু চুল্লি বন্ধ রয়েছে। আমেরিকান ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে মিলিয়ে একটি নতুন চুল্লিও চালু হয় নি। বরং চুল্লি বন্ধ করে দেওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে। ঐ সময়কালে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে  উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ১৩ হাজার মেগাওয়াট।

এর মধ্যে ২০১১ সালে মার্চ মাসে জাপানের ফুকুশিমায় ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রায় একই সময়ে তিনটি চুল্লির জ্বালানি দন্ড পুরোপুরি গলে বহুদূর পর্যন্ত  বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়াল। শুধু তসি নয়, আজও সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় জল ভূগর্ভে এবং  সমুদ্রে মিশে চলেছে। দুর্ঘটনার পর জার্মানি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড তাদের চুল্লি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। ইতালি, অস্ট্রিয়া পরমাণু কর্মসূচী বাতিল করে। ফ্রান্স ২০২৪ সালের মধ্যে অর্ধেক চুল্লি বন্ধ করে দেবে বলে জানায়।

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাজে গল্প-মাটি

বিক্রম পাকড়াশী

ডঃ পাত্র এর একটা বিহিত বা হেস্তনেস্ত করার দায়িত্ব নিলেন। অবশ্য এতে ওনার একটা অ্যাকাডেমিক ইন্টারেস্টও ছিল। সময়সুযোগ থাকলে একদিন তিনিও পুরোদস্তুর গবেষণা করতে পারতেন, শুধু ছাত্র ঠেঙিয়েই চাকরির জীবনটি চলে গেল। সে যাই হোক, উনি অনেক আঁকজোঁক করে কিচ্ছু বের করে উঠতে পারলেন না। এই অবস্থায় উনি একদিন কাকভোরে উঠে লেকের মাঠে গাছপালার ঝোপে বান্ধবগড় থেকে কেনা ক্যামোফ্লাজ জ্যাকেট পরে ঘাপটি মেরে কী হয় দেখার জন্য বসে রইলেন। প্রথম দু দিন কিচ্ছু দেখতে পাওয়া গেল না। সুস্থ শরীর ব্যস্ত করে রাতের ঘুম নষ্ট হল। কিন্তু তাতে ডঃ পাত্র দমলেন না। এক সময় তিনি ডক্টরেট করেছিলেন, তাই অকিঞ্চিৎকর জিনিস নিয়ে খামোখা লড়ে যাবার ক্ষমতা তাঁর পুরনো।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Sumeru Mukhopadhyay

ও আমার দেশের মেয়ে

মুন কাল রাতে কলকাতা এসে ফোন দিয়েছে। আজ সকালে সটান শান্তিনিকেতনে যাবে। আমার জন্যে বিন্নির চাল আর চৈ এসেছে বাংলাদেশ থেকে তার হাত ধরে। সে হালের শন্তিনিকেতনে কলাভবনের ছাত্রী। স্নাতক পড়েছে ঢাকায়। নরসিংদিতে তার বাড়িতেও গিয়েছি আমি, উয়ারি বটেশ্বরে যখন শ্যুট করতে যাই, সেটা ২০০৯। আমার সেই সহকারী এখন অনেক বড়। আমাকেই ধমক ধামক দেয়। কাল রাতে বলেছে এখন আসা লাগবে না, সকালে আসেন, রাত্তিরে কৈ কোথায় হারায়ে যাবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠিয়েছে। হাওড়া শ্টেশনে যাওয়ার আগে ৪/৫ বার ফোন করে তাড়া দিয়েছে। পেলাট্ফর্মে ঢুকে গিসি, ট ...
     ... পড়ুন Sumeru Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

মাসকাবারি বইপত্তর - ২

বই পড়া যদি বা হয়, বই নিয়ে দুই কলম লেখা আর হয় না মোটে| কয়েকটা বই সম্পর্কে অন্তত দু'চারলাইন লিখে না রাখলে বইগুলোর প্রতি বোধহয় একটু অবিচারই হয়| আপাতত তিনটে বই নিয়ে বলি|

১) বাঁকাউল্লার দপ্তর সটীক সংস্করণ - সম্পাদনা প্রসেনজিত দাশগুপ্ত, সৌমেন পাল
২) ভারতে রাজনৈতিক কার্টুনচর্চা - সুমিত ঘোষ
৩) ঈষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস - তীর্থংকর রায়

তিনটি বই একটু সময় নিয়ে পড়তে হয়, থ্রীলার পড়ার মেজাজে পড়ে ফেলা যায় না| কাগজে ছাপা বইয়ের মুদ্রণসৌকর্য আমার কাছে যথেষ্ট গুরু ...
     ... পড়ুন এর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

জানুয়ারি থেকে আসামে চা শ্রমিকদের রেশন বন্ধ হবে

দেবর্ষি দাস

 এ তো গেল রাজ্য সরকার। কেন্দ্র সরকার কেন FCI যোগান বন্ধ করতে গোঁ ধরে বসে আছে সে আরেক রহস্য। দ্বিমত নেই শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার দায়িত্ব মালিকের। কিন্তু মালিককে তার দায়িত্ব স্মরণ করানোর কাজে কংগ্রেসের রাজ্য সরকার বা ভাজপার কেন্দ্র সরকার, কারোই কষ্মিণকালে আগ্রহ দেখা যায় নি। হরেদরে শস্তা খাদ্য আসছে FCI-এর গুদাম থেকে, অর্থাৎ সরকারি পয়সাতে। যখন সেই যোগান বন্ধ হতে যাচ্ছে মজুরের রেশন মার খাবে, মালিকের কেশাগ্র বঙ্কিম হবে না। হুট করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আর মালিকের কী করা উচিত উপদেশ বিতরণ করার বদলে, কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন পক্ষের (অবশ্যই মালিক ও মজুরপক্ষ) সাথে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বার করার চেষ্টা করতে পারত। আসলে শ্রমিকের অধিকার কর্তন করাতে কংগ্রেসে ভাজপায় বিশেষ মতভেদ নেই।

এই মুহূর্তে ওপরের ঘটনাবলী কংগ্রেসকে ঘ্যানঘ্যান করার সুযোগ দিয়ে দিয়েছেঃ NFSA লাগু করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা কেন্দ্র সরকার এখনো দেয় নি। মানে, জানুয়ারি থেকে ECA বাদ দিন, NFSA-এর রেশনও পাওয়া যাবে না। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কোরিয়ান শিজো কবিতা

রাকা দাশগুপ্ত

দশটা বছর ব্যয় করে এই পর্ণকুটির তৈরি করা
আধখানা তার বাতাস থাকে, আধখানা তার চাঁদের বাড়ি
কোথায় তোমায় বসতে দেব? বরং তুমি বাইরে এসো।

 সং সুন নামে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকের এক কোরিয়ান কবির লেখা । রাজদরবারে কাজ করতেন আগে, পরে সব ছেড়ে দিয়ে গ্রামে চলে যান, লেখালিখি  নিয়েই জীবন কাটান। এই কবিতাটার পিটার লি-কৃত ইংরেজি অনুবাদ থেকে আমি বাংলা করেছি। এখানে যদি একেকটা লাইনকে দেখা যায় আলাদা করে, বোঝা যাবে প্রত্যেকটায় আসলে দুটো বাক্যাংশ আছে, দুটো ছবি। প্রথম লাইনেই যেমন দুটো স্টেটমেন্ট, একটা বলছে দশ বছর পরিশ্রমের কথা, অন্যটা বলছে বাড়ির কথা। দ্বিতীয় লাইনে তো আধাআধি ভাগ হয়ে গেছে লাইনটাও, বাড়িটারই মত... যার অর্ধেকটায় থাকে বাতাস, আর বাকি অর্ধেকটায় চাঁদ। শেষ লাইনেও অমন দু ভাগ, প্রথম অংশটা বলছে বাড়িতে ঢুকতে/বসতে দেবার জায়গা নেই (যেহেতু বাতাস ও চাঁদ আগেই সবটা দখল করে রেখেছে), আর শেষ টুকরোটা জানাচ্ছে, বাড়ির বাইরেই বরং অতিথিকে গ্রহণ করা হবে। 

ছোট্ট একটা ছিমছাম কবিতা। তিন লাইনের জাফরির ফাঁক দিয়ে আসা একটুকরো গল্পের আভাস।  শিজো আসলে এরকমই। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ফিফথ ডাইমেনসন এবং তারপর

প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

 আবার মই? কি বলি বলুন, স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে মই নিয়ে  সে সময় ভারী উৎসাহ ছিল - সত্যজিত রায়ের ট্রেন যেমন অপু-দুর্গার  কাছে বৃহত্তর পৃথিবীর প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে সেরকম ভাবেই হয়ত ঊর্ধ্বগামী মই দেখলেই লোকে দো'তলা তিনতলা ছাড়িয়ে সোজা ছায়াপথের কথা ভাবতে শুরু করতেন। যাই হোক, এ মই নিয়ে এসেছিলেন ইংলিশ চিকিৎসক রবার্ট ফ্লাড। ফ্লাড অবশ্য শুধু চিকিৎসক নন - জ্যোতিষী, গণিতবিদ,  অতিপ্রাকৃত-বিশারদ, একই অঙ্গে অনেক রূপ। ফ্লাডের তত্ত্ব অনুযায়ী মইয়ে উঠে গুনে গুনে ঠিক ন'টি সিঁড়ি চড়লেই আপনার আত্মা পৌঁছে যাবে সূক্ষ্মতর ব্রহ্মান্ডে, কিছু সময় বিশ্রাম, তারপর ফের পাশে রাখা দ্বিতীয় মই দিয়ে নেমে আসা। আবারো জগৎসংসারের ঠ্যালা সামলানোর পালা, তারপর ফের মইয়ে চড়া। ফ্লাডের যেহেতু অঙ্কে ছিল বিষম উৎসাহ, উনি দাবী করেছিলেন এই ন'টি স্টেপ নেহাত গাঁজাখুরি ব্যাপার নয়। রীতিমতন পাইথাগোরিয়ান গণিতের সাহায্য নিয়ে তৈরি হয়েছে এ মই, প্রতিটি সিঁড়ি কতটা চওড়া, কতটাই বা লম্বা সবেরই ফিরিস্তি দেওয়া যাবে অঙ্কের হিসাবে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

Kulada Roy

কুলদা রায়ের গল্প : দুধকুমারের ঐরাবত

আমার বড় মেয়ে স্কুল থেকে ফিরেই বলল, বাবা, হাতি আসছে।

হাতি কথাটা বলার সময় মেয়ের চোখে-মুখে এক ধরণের শঙ্কা আর কৌতুহল ফুটে উঠেছে। ছোটো মেয়েছে বেশ হাটতে শিখেছে। দৌড়ে এসে বলল, বাবা, আত-তি। হাতি দেও--খাবো।
বড় মেয়েটা বোনকে ধরে বলল, ধুর বোকা। হাতি খায় না। হাতি মারে।
মার কথাটা শুনে ছোটো মেয়েটা ভয় পেয়ে কেঁদে কেটে অস্থির। চিৎকার করে মায়ের কাছে ছুটে গেল। বলল, ও মা, আত--তি মালবে।
গিন্নি রান্না ফেলে মেয়েকে কোলে নিয়ে এল। বলল, কে মারবে কইছে?
বড় মেয়ে বলল, আমি মারি নাই।


–তাইলে ...
     ... পড়ুন Kulada Royএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বস্টনে বঙ্গে-পর্ব নয়- ৩৭৭ ফিরে দেখা

বর্ন ফ্রী

 সুপ্রীম কোর্টের রায় নিঃসন্দেহে হতাশ করেছিল কিন্তু তার থেকেও বেশি আঘাত দিয়েছিল সেই রায়ের ভাষা। সে সম্পর্কে অন্যত্র লিখেছি তাই এখানে আর লিখছি না। তবে দুঃখ, কষ্ট হতাশার সঙ্গে যেটা যোগ হয়েছিল, সেটা একটা রাগ, একটা হতাশাজনিত ক্ষোভ। শুধু আমার মধ্যে নয়, আমার মত চারপাশের অনেক মানুষের মধ্যেই দুঃখর থেকেও বেশী ফুটে উঠেছিল রাগ, দেশের প্রতি প্রবল অভিমান। সেই সময় সেই অভিমানের অভিঘাত থেকে একটা লেখা লিখেছিলাম। প্রকাশের অযোগ্য ভাষার কারণে সেই লেখাকে সেই সময় প্রকাশ করা যায় নি। আজ এক বছরের মাথায় সেই লেখাটাকেই একটু কাঁচি চালিয়ে সভ্য করে দিলাম। মনে হল, সেই যে প্রবল রাগের অনুভূতি সেটাও ডকুমেন্টেড হয়ে থাকা দরকার।  

কে জানে, যখন আমরা কাউকে পাকিস্তানে চলে যেতে বলি, তারও হয়ত একইরকম মনে হয়। মনে হয় সত্যিই একদিন চলে যাব যেদিকে দুচোখ যায়...
 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

এখন আমি কোন কিছু কেয়ার করি না। আমার কর্ম ক্ষেত্রে কিংবা অন্য কিছুতে আমার গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত সঠিক কি না, তা বিচার করবার জন্য অন্য কারুর প্রয়োজন আমি অনুভব করি না। IITতে আমার বন্ধুরা যারা সব সময় আমার যৌনতা নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ করত তবুও আমি যাদের বিশ্বাস করতাম, তাদের সবাইকে আমি মেইল করি। তারা আমাকে খুব সাপোর্ট করেছে। এর পর আমি আরও কিছু লোকের সামনে নিজেকে প্রকাশ করলাম, তার পর আরও কিছু লোকের সামনে। আমি খুব মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। কেউ কেউ আমার কথা অবিশ্বাস করেছেন, কেউ বা আমার বক্তব্যকে সম্মান জানিয়েছেন, আমাকে অপমান করেছেন আবার কেউ প্রচণ্ড চমকে গেছেন। হ্যাঁ, IITতে হোমোফোবিক আছে, কিন্তু সব থেকে যেটা প্রয়োজন IITতে অনেক উচ্চমনের ব্যক্তিরা আছেন, তারা আমাকে আশা দিয়েছে। আমি যা ভেবেছিলাম, IIT সেই রকম নয়, কিন্তু  সম্পূর্ণ পারফেক্ট বলে কিছু কি পাওয়া যায়? আমি বাস্তব, শেষমেশে ছাত্র সমাজের কণ্ঠ হিসাবে আমার গল্প স্বাধীনতা পেয়েছে। আমি, আমার ক্লাসে কিছু বন্ধুদের পেয়েছি যারা গে-দের ভাল দিক গুলো চিন্তা করে গে হওয়া কতো ভালো তা আমাকে বলে। আমি অনেক প্রোফেসার পেয়েছি যারা আমার কাছে সমকামীদের প্রতি তাঁদের সাপোর্ট প্রকাশ করেছেন। এ সব কিছুর ভিতর দিয়ে আমি দিনের শেষে বিছানায় যাই, জানি আমি এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবো। যদিও আমি অনেক অনুশোচনা, লজ্জা, ডিপ্রেশানের ভিতর দিয়ে গেছি। মেডিক্যাল পরীক্ষা দিয়েছি, আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ছি, সামাজিক বাধানিষেধ পেয়েছি। কিন্তু যখন আমার গল্পটা কতটা ‘প্রেরণাদায়ক’ জানিয়ে আমি আবারও মেইল পাই, তখন আমি অনুভব করি একটা সময় আসবে যখন কোন নতুন সমকামী নিজের প্রকৃত পরিচয় দিতে কখনোই বিব্রত বোধ করবে না, সে কাঁদবে না বরং লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে টিভি সিরিয়ালের কোন নতুন হিরোর উপর তার ক্রাশের কথা সে তার রুম মেট’দের কাছে গল্প করবে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সুনন্দার কথা , জুলিয়ার কথা

সুনন্দা মুখোপাধ্যায়

 স্বভূমে পরবাসী আমি সেদিন কাজে যাবার পথে স্মার্টফোনের পাতায় খবর দেখতে গিয়ে সেই ঝাপটা খাই। ৩৭৭ ফিরে আসার খবর। মোবাইলে মেসেজ ভেসে আসে। আর ওলট পালট হতে থাকে আমার ভিতর।  বাসভূমি থেকেও কি চিরকাল তবে স্বদেশহারা থেকে যাব আমরা? কখনো এ দেশে, শৈশবের মাঠে, কৈশোরের শুঁড়িপথে হাত ধরে হাঁটা হবে না আমাদের, ঠোঁটে ঠোঁট রাখা হবে না বৃষ্টির বোলপুরে, অকারণে অপরাধী হয়ে থাকতে হবে? সন্তান, স্বাগতম, শুভেচ্ছা কিছুই পাব না? 

আমরা একটিভিস্ট নই, রাজনীতিক নই, নিতান্ত সাধারণ মানুষ। মুখচোরা, পড়ুয়া, হাসিখুশি, চোখে চশমা, ঠিক আর পাঁচজনের মত মানুষ। আমরা ভয় পাই। ক্লান্ত, অন্তহীন লড়াইএর ভয়, অহেতুক আক্রমণের ভয়, ঘৃণার ভয়, কৌতুহলের ভয়, জীবিকা হারানোর ভয়। আর অপমানিত হই। যখন সর্বশক্তিমান ধর্মগুরু বলেন আমাদের সারিয়ে দেবেন যে কোনো দিন। যখন কাগজের পাতা থেকে টিভির পর্দায় আমাদের যৌনজীবনের ঠিক কতটা "এগেইনস্ট দ্য নেচার" এই নিয়ে ডিবেট চলে। যখন ধরেই নেওয়া হয়, আমাদের প্রেম প্রেম নয়, দুটি যৌনাঙ্গের বিকৃত সহাবস্থান মাত্র। একে অন্যকে আঁকড়ে এই ভয় বুকে নিয়ে আমরা ঘুমোই, আর সারাদিন আমার চোখ জ্বালা করে। সারাদিন।  
 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

হরিদাস পালেরা

তির্যক

বোঝা-নো !

সবজান্তা হওয়ার জ্বালা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন রাজা বিক্রমাদিত্য। উত্তর জানা থাকলে মুখ খুলতেই হবে নাহলে মাথা ফেটে চৌচির হবে কিন্তু মুখ খুললেই বেতাল পালাবে গাছে। এই অনন্ত ‘লুপ’ থেকে কত সহজেই বেরিয়ে পড়া যেত যদি একটা উত্তর জানা না থাকত ! আসলে সবজান্তাদের ব্যাপারটাই এইরকম, সামনে ভুলভাল জিনিস দেখলে কিছুতেই মুখটি বুজে থাকার উপায় নেই কিন্তু আবার ঠিক কথাটা বুঝিয়ে বললে লোকে হামেশাই বলে থাকে ‘জ্ঞান দিচ্ছে’। অবশ্য সে কথাটা নেহাৎ মিছে কথা নয়। একটি সবজান্তা লোক যখন কিছু বলে বা লেখে তাকে সবসময় একটা ভাবনা তাড়া কর ...
     ... পড়ুন তির্যকএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

শিবাংশু

আত্মজাং হৃদয়মিতি

একটা কি চাঁদ উঠেছে না বৃষ্টিতে ভিজেছে অর্জুন গাছ
সেই অর্জুন গাছে বসেছে পায়রা
লাল পা, শাদা গা, নীল ঘুম?
ও জাদুবাজ তামাড়িয়া, সিল্ক, গরদ আর টায়রা
একটা কি সূর্য উঠেছে না আগুনের ব্লুম?
( জাদু-স্বদেশ সেন)
জাদুর মতো-ই হয়তো বা; হয়তো নিতান্ত গতানুগতিক কোনও প্রাকৃত অভ্যেস। সূর্য যেভাবে ওঠে, রোজ, একভাবে, কখনও নিশ্চুপ ফুটে ওঠে, কখনও বা অশ্বারোহী'র অহংকারে ছিঁড়ে দেয় মায়াবী তন্তুময়
পিছনের জাল। তাই কি আগুনের ব্লুম। বিবাহের মতো তীব্র, ভবিতব্যের মতো নিশ্চিত, ভালোবাসার মতো অনিবার্য। হা ...
     ... পড়ুন শিবাংশু এর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

কবীর সুমনের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি

পরিচয় পাত্র

 আলীয়া মাদ্রাসা আর খারিজি বা কওমী মাদ্রাসার পার্থক্য মানুষকে বোঝাতে হবে। কিন্তু খারিজি বা কওমী মাদ্রাসার সমস্যাগুলি তো তাতে চাপা পড়ে যাবে না। এক বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আমরা আধুনিক যুগে জীবিকানির্বাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত করে ছেড়ে দিচ্ছি, যাদের একমাত্র রোজগারের রাস্তা, সাঈদী সাহেবের ভাষা্‌য়, কারো বাপের জানাজা পড়িয়ে ১০ টাকা আয় করা। ধর্মের শিক্ষা সেকুলার প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ এবং স্কলারলি ভাবে ক্লাসিকাল ভাষা আর দর্শন চর্চার মাধ্যমেই হওয়া উচিত, এই ধরনের ধর্ম শিক্ষা পরধর্মবিদ্বেষী মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরগাছা শ্রেণীর মানুষ তৈরি করে, তৈরি করে হুজুরদের ক্যাননফডার। আল্লামা শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী এই গরিবের ছেলেদের নাস্তিকদের ফাঁসির দাবীতে পথে নামান, পুলিশের গুলির মুখে ঠেলে দেন। বিনিময়ে নিজেরা রোজগার করেন প্রভূত অর্থ। আওয়ামী-বামপন্থী জোট সরকারের বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই মাদ্রাসাগুলিকে চেয়েছিলেন সরকারের আওতায় আনতে, শফি হুজুররা হুমকি  দিয়েছিলেন যে তাহলে দেশে রক্তগঙ্গা বইবে। মাদ্রাসা ছাত্রদের ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগে জল ঢেলে দেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী। এদের দিয়ে মাদ্রাসায় গ্রেনেড তৈরি করাতে গিয়ে দুটি ছেলেকে বিস্ফোরণে মেরে ফেলেন হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী। তবু চেষ্টা করেছিলেন নাহিদ। বাংলাদেশ পারে, আমরা পারিনা কেন? 

আপনি গেয়েছেন  “শোন তালিবান তালিবান/আমি তোমাদের সাথে নেই/ আমি ধর্মে মুসলমান/ আছি লালনের সঙ্গেই”। লালনের হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের বাইরের মূর্তি কিন্তু কওমী মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছিল সুমন। আর তালিবানরা সকলেই মাদ্রাসা ছাত্র, তালেবা শব্দের মানেই ছাত্র, তাই থেকেই তালিবান। তাদের চেয়ে বেশি আরবী আপনি নিশ্চয় জানেন না। 
বরং এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয়না কেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন গ্রামের গরিব সংখ্যালঘু মানুষকে অবৈতনিক সরকারি শিক্ষা আর মিড ডে মিলের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, কেন তাকে মাদ্রাসায় যেতে হয়? সবাই ছেলেমেয়েকে কোরআনে হাফেজ করতে চান এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শিক্ষার অধিকারের দাবী পিছিয়ে পড়ল, উঠে এল মাদ্রাসা শিক্ষার অধিকারের দাবী? 
 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

জনাব কবীর সুমন কে খোলা চিঠি

সোমনাথ রায়

 কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, শতাব্দী ধরে উন্নয়নের উল্টোপিঠে দুর্ভিক্ষ অশিক্ষা আর অস্থিরতায় ফেলে রাখা 'কোনো এক গাঁয়ের বধূর' নাতনিরাই যে রাজিয়া আমিনা হয়ে বন্দুক তুলে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়,সন্ত্রাসবাদ যে আর্থসামাজিক বৈষম্যেরই ফল সেইটা বলার লোক দেখলাম কমে আসছে। দশবছর আগেও অনেকে এগুলো বলতেন। এখন পৃথিবী ক্রমেই একমেরুর দিকে এগিয়ে চলেছে, হয় তুমি আমাদের নাহলে শত্রুপক্ষ-  মাদ্রাসা কী ও কেন সেই প্রশ্নে না গিয়েই চলল মাদ্রাসাবিরোধী প্রচার। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকেন্দ্র না বানাতে পারলে কোয়াকদের তুলে দেওয়া যায় না। গ্রামে স্কুল না বসিয়ে মাদ্রাসা তোলা যায় না। বসিয়েও যায় কিনা প্রশ্ন। কিন্তু যে রাষ্ট্র নাগরিকদের শিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করতে পারেনা, সে কী করে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তোলার কথা বলে সেই প্রশ্ন করার লোকও কমে যাচ্ছে দেখলাম। 'স্লোগান পালটে হয়ে যায় ফিসফাস'।

 
ভারত ক্রমশঃ তার ব্রাহ্মণ্যবাদী চরিত্রটা মেলে ধরছে। অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক আচারগুলোতেও সংখ্যালঘু-দলিতদের সরিয়ে দেওয়ার পর্যায়টা চলছে। বছরখানেক আগে,হায়দারাবাদ গেছিলাম। জামা মসজিদ ঘোরার সময়ে আমি ও আমার বন্ধু একটি করে ফেজ টুপি কিনে মাথায় পরি। তারপর এদিক ওদিক ঘুরে হুসেন সাগরে নৌকোয় উঠলাম, যাওয়ার সময়ে টুপিটা খোলা ছিল, পাশে কিছু সহযাত্রী বসেছিলেন, আইটিতে চাকরি করেন বা ওরকম। নৌকোয় ফেরার সময়ে টুপিটা মাথায় দিতে দেখি পাশে আর কেউ এসে বসছেন না। পরিতাপের বিষয়,আমাদের দেশে এটাই রিয়েলিটি- মার্জিনের ওপারে এক বিশেষ পরিচিতির বাইরের লোককে ঠেলে দেওয়া। 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মোচ্ছবের মুখবন্ধ

 সিনেমা আর মোচ্ছব, সবই প্লাস্টিক আর্ট। টাইম-স্পেস টোটাল নড়বড়ে।  কখন কী ঘটে যাবে কিচ্ছু বলা যাচ্ছেনা। সবই মাতালের কম্মো। পুজোর সিজনেই নাকি বসন্ত এসে গেছে, আর এই জমানায় ব্রিজ টপকালে তো সারা বছরই নবান্ন। ওদিকে নাকি মদ বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে, আর এদিকে গাঁজামদ বন্ধ হওয়ায় এমন কলরব, যে, সরকার নড়ে বসছে। দেয়ালে দেয়ালে প্রজাপতিরা ছবি আঁকছে, ভরদুপুরে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে গিটার।  একে নাকি বলে মাল-টি পারপাস।  ওদিকে মাল-আলা একটু তাড়াতাড়িই নোবেল প্রাইজ পেলে কী হবে, আমরা যথারীতি ঢিমে তালে। উৎসব টুৎসব মিটতে চলল, এতদিনে উৎসব স্পেশাল। অবশ্য টাইম-স্পেস দিয়ে হবে টা কী, সবই তো নড়বড়ে, কখন কী ঘটে যাবে কিচ্ছু বোঝাই যাচ্ছেনা, বলা তো দূরস্থান।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা