এই আমাদের ইষ্টিকুটুম, গরম খবর, প্রবন্ধ আর কাটুম-কুটুম। পড়ুনঃ হোক্কলরব - ম্যাডক্স ও লাবণি নিয়ে যে দু চারকথা আমি জানি


  
এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

Punyabrata Goon

শরাব-বন্দী আন্দোলনঃ দল্লী-রাজহরার অভিজ্ঞতা

দল্লী-রাজহরার ঠিকাদারী শ্রমিকদের মধ্যে বড়ো অংশটাই ছিলেন আদিবাসী, অল্প কিছু অ-আদিবাসী। আদিবাসীরা মদ খাওয়াকে অপরাধ বলে মনে করেন না। জঙ্গল থেকে মহুয়া কুড়িয়ে এনে তাঁরা ঘরে মদ চোলাই করেন। পারিবারিক যে কোনও অনুষ্ঠান, যে কোনও সামাজিক উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মদ্যপান। স্ত্রী-পুরুষ, বয়স্ক-অল্পবয়স্ক—উৎসবে সবাই মদ খাবেন—এটাই রীতি।

এ রীতি ভেঙ্গে গিয়েছিল দল্লী-রাজহরায়। ’৭৭-এ ছত্তিশগড় মাইন্স শ্রমিক সংঘ ইউনিয়ন গঠনের আগে যেখানে প্রায় ৯৫% শ্রমিক মদের নেশা করতেন, সেই হার নেমে এসেছিল ৫%-এরও কমে। অথচ শংকর গ ...
     ... পড়ুন Punyabrata Goonএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Nishan Chatterjee

উন্মাদের পাঠক্রম ২৬ ও ২৮

২৬
----

নদে ভাসে প্রেমে
প্রভু দেন গড়াগড়ি
আছাড়ি পিছাড়ি

কোথা কৃষ্ণ বলে কেঁদে,

এদিকে চুলোতে শূন্য
অঙ্গার অভাবে

কেবা খাদ্য দেবে রেঁধে?

হৃদয়ে জোছনা ভাসে
যমুনায় চাঁদ
মাটিতে পাচ্ছেন প্রভু
কৃষ্ণ সুধা স্বাদ

কিসে কে কোত্থেকে পায়
হিসেব তাহারি
গড়াতে গড়াতে যায়
শ্রীহরি শ্রীহরি

প্রেমেতে নদীয়া ভাসে,
প্রেমেতে গড়িয়া।
জলেতে স্টীমার ভাসে,
দুবাহু তুলিয়া

প্রভু করেন নর্তন।
প্রভু যান গড়াগড়ি, ...
     ... পড়ুন Nishan Chatterjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Animesh Baidya

মৌলবাদ...কিছুটা বলি, কিছুটা বাদ...

ধর্মীয় মৌলবাদ হাত ধরাধরি করে চলে। ইসলামী মৌলবাদের রমরমা একই সঙ্গে হিন্দু মৌলবাদকেও ডেকে আনে।

বহু প্রগতিশীল লোককে বরাবর দেখেছি মৌলবাদ-বিরোধী বক্তৃতা করতে, আরএসএস কে খিস্তি করতে এবং একই সঙ্গে ইসলামী মৌলবাদ নিয়ে আপাত ভাবে চুপ থাকতে। অন্য কেউ খোঁচালে, ইসলামী মৌলবাদ তথা সন্ত্রাসবাদের পিছনে আসলে সিআইএ-র হাত, এই বহু ব্যবহৃত বাগধারা বলে যেতে দেখেছি তাদের। কথা সত্য, তাতে কোনও ভুল নেই। কিন্তু যেটা সমস্যা সেটা হলো, এই ক্রমশ নীরবতা ইসলামী মৌলবাদীদের জন্য এক ধরনের প্রয়োজনীয় আড়াল তৈরি করে। আর সেই আড ...
     ... পড়ুন Animesh Baidyaএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Biplob Rahman

আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা

প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির দূর পাহাড়ে নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা।

এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে, সমীরণ দা’র ওই বিয়েটি ছিলো খুবই জাঁক-জমকপূর্ণ। একদম আদি চাকমা সংস্কৃতির কোনো বিয়েতে অংশগ্রহণ সেই প্রথম।

কয়েকটি গ্রামের নানা বয়সী নারী-পুরুষ এসেছে সেই বিয়ের নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে। বলতে দ্বিধা নেই, ঢাকা থেকে নিম ...
     ... পড়ুন Biplob Rahmanএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

তাপস দাশ

আউটসাইডার

আর একটা রবিবার চলে গেল l রবি গড়িয়ে পুজো শেষ, আপিস খুলে গেল সব্বার l সব কিছু ঠিকঠাক চলছে l এভরিথিং ইজ ফাইন l
এ রোববারের আগের রবিতে, সেদিন একটা কাজ ছিল – সাউন্ড রেকর্ডিংএর l অনেক আগে থেকে কেটে গিয়েছিলাম l ভাস্কর মানে পাপু, হদ্দমুদ্দ বলে কয়েও নড়াতে পারেনি l আমার সেদিন বারাসাত যাওয়ার কথা ছিল l সকালে যখন রেডি হচ্ছি, তখন পাপুর ফোন l আমি ধরে বললুম – কী রে? বলল, তুমি পৌঁছে গেছ বারাসাত? আমি বললাম, না – এই বেরোচ্ছি l বলে, তোমায় যেতেই হবে? আমি আমার সেই অনড় গলাটা বের করে বললাম – হ্যা l কোনো সাড়া নেই l ...
     ... পড়ুন তাপস দাশএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

π

হোক্কলরব - ম্যাডক্স ও লাবণি নিয়ে যে দু চারকথা আমি জানি

ওরা ভয় পেয়েছে। তাই ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। ভয় পেলেও তো কামড় দেয়।মরশুম পুজোর। ওরা ভেবে নিয়েছিল, পুজোর স্রোতে হোককলরব ভেসে যাবে। পুজোর হুজুগ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে, হোককলরবের , হ্যাঁ, হুজুগ। হুজুগমাত্রই ভেবে নিতে শুরু করেছিল বোধহয়। আর সেই ভাবনাতেই চিড় পড়ে গেল অষ্টমীর সন্ধের হোককলরবের গর্জনে। গর্জনের আগে থেকেই। হবার সম্ভাবনার খবর পেয়েই। কাল বাইরের গেটে জমায়েত হয়ে পোস্টার আঁকাআকি হতেহতেই জনতা চেগে গেল, ম্যাডক্স স্কোয়ারের ভিতরে বসে আঁকা লেখা করা হোক, গানবাজনা করা হোক। লিখে ফেলা পোস্টারগুলো ...
     ... পড়ুন πএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sumeru Mukhopadhyay

একবারও ভাবিনি তোমায়



হাসি তোমার মুখের থেকে মুছে যায়নি। বিপ্রতীপ আলোয় সৌমিক-পিয়ালী গাইছে। তুমি হুইস্কি ঢেলে ঢেলে দিচ্ছ। তোমার বাড়িতে সেই রাত্রে অলিভ রিডলে হাউসের কথা হয়েছিল। একবছর পর সুন্দরবনে সেই মডেল বাড়ি হল। রাজা উজিরের প্রদর্শনী। অনেকবার করে বলেছিলে। কেন মনে নেই, আমি যাইনি সেখানে। যদিও ফুলমনি গিয়েছিল, সে তো নানান গল্প। এমনটা তো হয়েই থাকে। যেমন দীঘি দখল করে পরিযায়ী পাখির দল।

এমনকি ভেঙ্কটেশের গমগমে পার্টি থেকেও পালিয়ে চলে গিয়েছি খোঁজের অফিসে। তখন জল ছিল না। গাদা প্রোপোজাল। রেসিডেন্সি। সম্ভাবনা ছি ...
     ... পড়ুন Sumeru Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Abhijit

যা দেবী


আরো একটা দুর্গাপুজো শেষ। আগে যখন জন্মদিন পালন করা হত, তখন এক জন্মদিন থেকে আরেক জন্মদিনে বাড়ত বয়স। এখন একেকটা করে পুজো পার হয় আর মনে হয় ছোটবেলাটা আরো একটু দূরে চলে গেল। নতুন জামা এখনো হয়, কিন্তু তাকে আর তত নতুন মনে হয় না। কলকাতা থেকে এত দূরে বসে পুজোর খবর পাওয়া যায়, গন্ধ পাওয়া যায় না। ইচ্ছে করলেই পৌঁছে যাওয়া যায় না ম্যাডক্স থেকে লাবনি। কলরব থেকে দূরে বসে, ইন্টারনেটের মাঊসে হাত রেখেই পুজোর তাপ পোহাতে হয়। লাাঠির মুখে গানের সুর, তোমার থেকে অনেক দূর। তবুও সপ্তমীর ভোর আসে, কলা বৌ সকাল সকাল পুকুর ...
     ... পড়ুন Abhijitএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Saswata Banerjee

এই বিজয়ায় অগ্নিভাসান

রাগ হলে কী করি আমরা? আমরা –--  মানে সাধারণ মানুষজন, যাদের পুলিশ বন্দুক গুণ্ডা লাঠি জলকামান নেই, তারা?

খুব ছেলেবেলায়, রাগ হলে ভাত খেতাম না। না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে আলতো করে পিঠের জামাটুকু তুলে মা দেখতে আসত তার পাঁচ আঙুলের দাগ মেলালো কি না। শোষিত ও শোষকের ভেতর এই মধুর বিশ্বাসটুকু ছিল। আর ছিল বলেই কবে যেন ছোটো থেকে বড়ো হয়ে ওঠা। কিন্তু তারপর?

রাগ হলে ছাদে গিয়ে বসে থাকতাম। একের পর এক ঢিল ছুঁড়তাম সামনের বাগানে। অকারণেই।
এইসব রাগদুঃখ অনেকটাই ব্যক্তিগত ঘাত-প্রতিঘাতজাত। কিন্তু যখন দেখলাম স

...
     ... পড়ুন Saswata Banerjeeএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Salil Biswas

কুর্নিশ

আজ ছিল নবমী। এই ৩রা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যাবেলা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা সল্ট লেকের লাবনী-র সামনে তাদের দাবী নিয়ে অকুতোভয়ে দাঁড়িয়েছিল উৎসবমুখর মানুষের সামনে, সবাইকে জানাতে যে তাদের শান্তিপূর্ণ সংগীতময় আন্দোলন ‘হোককলরব’ তাদের ন্যায্য সম্মান রক্ষার ন্যায্য দাবী। সেই ভয়হীনতা সহ্য হল না শাসকের। তারা পাঠিয়ে দিল তাদের ভাড়াটে পুলিশ বাহিনী। বন্ধ করতে হবে সাহসিকতা। চেষ্টা চলল ভীতিপ্রদর্শণের। বিশাল বাহিনী ধরে নিয়ে গেল তেরো জন তরুণ-তরুণীকে। আবার দাঁড়ালো লাঠির মুখে গানের সুর। আরও অনেক বার দাঁড়াবে। আরও ...
     ... পড়ুন Salil Biswasএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সংখ্যাতত্ত্ব

অভিষেক মুখার্জি

 চেতন ভগৎ তাহলে ফিরেই এলেন! সমালোচকের মুখে নুড়ো জ্বেলে কোটি কোটি ভক্তের প্রত্যাশা মেটাতে নিজের নতুন উপন্যাস নিয়ে শ্রীভগৎ স্বয়ং ধরাধামে পুনরাবির্ভূত হয়েছেন। আমরা জানতাম, ভগৎসাহিত্যগণিতের নিয়ম মেনে শ্রীভগতের  নতুন বইয়ের নামে কোনও সংখ্যার উপস্থিতি অনিবার্য, কিন্তু এবারে শ্রীভগৎ আমাদের সবার ওপরে টেক্কা দিয়েছেন। তাঁর নতুন নামে সংখ্যা আছে ঠিকই, কিন্তু তা নেহাৎই ভগ্নাংশ: আধ।

ভাবতে বসলাম। একুশ শতকের শেক্‌স্‌পীয়রের নামে সংখ্যা থাকবে – এটা এতদিনে বুঝে গেছি। কিন্তু পরের বইয়ে কোন্‌ সংখ্যাটা থাকবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব? হাজার হোক্‌ আমি স্ট্যাটিস্টিক্স পড়েছি – একটা মান-ইজ্জত আছে – 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

এই সময়ের ছোটগল্প

বিপুল দাস

 লেখককে তো ইতিহাসসচেতন হতেই হয়। না হলে কীভাবে তিনি এই সভ্যতার, মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার কথা লিখবেন। মানুষ কত দীর্ঘপথ পাড়ি দিল। কত ধর্মযুদ্ধের নামে অন্যায় যুদ্ধ, এখনও ডাইনির মাংসপোড়া গন্ধে উল্লাস শোনা যায়, কত সাম্রাজ্যের উত্থানপতন হল। এসব কিছু মন্থন করে জীবনের রহস্যময়তার কথা, কোনও এক সার সত্যের সন্ধান করে যান লেখক। পুরাণের নতুন পাঠ, মঙ্গলপাঠের নবনির্মাণ, যে পাশ্চাত্য লেখনরীতিকে মডেল করে একসময় আধুনিকতার সংজ্ঞা ঠিক করা হয়েছিল, তাকে অতিক্রম করে দেশজ পাঁচালি, ব্রতকথা, পুরাণ, মঙ্গলকাব্যের বিনির্মানের মধ্য দিয়ে,আমাদের লোককথা, উপকথাকে নতুন আঙ্গিকে লিখছেন অনেকেই। অন্যরকম শৈলীতে যারা লিখছেন, তাদের ভেতর রবিশঙ্কর বল, রামকুমার মুখোপাধ্যায়, গৌতম সেনগুপ্ত উল্লেখযোগ্য।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

ঝিনুক চক্রবর্তী

 কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আচ্ছে দিন

অচল সিকি

 হে রাজন, এই ঘোর দুঃসময়ে, যখন পাশ্চাত্য শিক্ষা সংস্কৃতির প্রভাবে স্বদেশী ধ্যানধারণার জলাঞ্জলী ঘটবে, পাশ্চাত্য কুশিক্ষার প্রভাবে কিছু মানুষ সমকামী, লিঙ্গান্তরকামী প্রভৃতি বিকৃতরুচির অমানুষদের সমাজের মূলস্রোতে আনবার কুচেষ্টায় রত হবে, তখন, তখন সূচনা হবে এই আচ্ছে দিন উপযুগের। 

হে মহারাজ, এই যুগের উত্থান ঘটবে গুর্জর প্রদেশে এক অতিপ্রতিভাশালী এবং শক্তিশালী নেতার হাত ধরে। এই নেতা শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করলেও পরে সন্ন্যাস সংকল্প করবেন, কিন্তু হালে পানি না পাওয়ায় অতঃপর তিনি হিন্দু রাজনীতিতে যোগদান করবেন। জম্বুদ্বীপ সাধারণ অর্থে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ভুবনে পরিচিত হলেও এই হিন্দু রাজনীতির নেতারা জম্বুদ্বীপকে হিন্দুপ্রধান দেশ বলে মনে করবেন, হিন্দু ব্যতীত অন্য ধর্মের মানুষদের এঁরা তৃণাদপি তুচ্ছ জ্ঞান করবেন। ম্লেচ্ছজাতির গণকমান অনুযায়ী বিংশ শতকের শেষভাগে এই নেতার মনে হিন্দুভাব প্রকট হয়ে ওঠে এবং নিজ প্রদেশকে যবনমুক্ত করবার জন্য কিছু নিরপরাধ হিন্দুর শোচনীয় মৃত্যুর দায় তিনি যবনজাতির উপর চাপিয়ে দেবেন এবং হাজারে হাজারে যবনপুত্রকন্যাকে তাঁর অনুগামীরা বিবিধ উপায়ে আহত, নিহত, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণ করে দীর্ঘকালের জন্য একেবারে চুপ করিয়ে দিতে সক্ষম হবেন। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাংলাদেশস্থ ফিলিস্থিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকার

অদিতি ফাল্গুনী

 শাহের মোহাম্মদ গত প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্যালেস্টাইনের আলামা গাজি শহরে ১৯৪৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরই কূটনীতিকের পেশায় যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশের আগেও চীন, লাওস, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ২২ জুলাই গুলশানস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

বর্ন ফ্রি

যখন এই লেখা লিখছি তখন গাজাতে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খবরের কাগজের পাতা থেকে শুকনো রক্তের গন্ধ এসে লাগছে নাকে, টিভির স্ক্রিন থেকে রক্ত চুঁইয়ে নামছে মাটিতে। আর তার মাঝে বসে আমরা গরম সিঙ্গাড়ায় কামড় দিতে দিতে বোঝার চেষ্টা করছি, দোষটা কার বেশি, ইজরায়েলের না হামাসের। আর যেই বাচ্চাটা ঝলসে গেল, এক্কেবারে মরে গেল, তার কতটা দোষ ছিল? আহা, সে তো কোল্যাটারাল ড্যামেজ। আতঙ্কবাদের বিরূদ্ধে লড়তে গেলে কয়েকশ বাচ্চা তো মারা যাবেই। কেন, ইরাকে যায় নি? আফগানিস্থানে যায় নি? যেমন মাওবাদীদের শায়েস্তা করতে গেলে বিনায়ক সেনকে জেলে পুরতেই হবে, সোনি সুরির যৌনাঙ্গে ধারালো পাথর পুরে দিতেই হবে ওদের সবক শেখানোর জন্য, উন্নয়নের জন্য  উচ্ছেদ হতে হবে বনবাসীদের, শহরে আলো দেওয়ার জন্য ডুবিয়ে দিতে হবে গ্রাম কে গ্রাম, ঠিক তেমনি বিশ্বজুড়ে শান্তিকল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ করে দিতে হবে পরবর্তী প্যালেস্তাইনি প্রজন্ম, হত্যা করতে হবে উত্তরকালের গর্ভস্থ পরীক্ষিতকে।
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মোদীবিরোধী রাজনীতি -- একটি প্রাথমিক খসড়া

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

...রাজনীতিতে দীর্ঘকালীন জয়-পরাজয় শুধু একটি ভোটে নির্ধারিত হয়না। হয় দীর্ঘকালীন অ্যাজেন্ডা স্থাপনের মধ্যে দিয়ে। যাকে বলা হয় মেরুকরণ। নির্বাচনে বিভিন্ন দলের হাজার হাজার অ্যাজেন্ডা থাকে। কিন্তু জনসমাজে সবকটিই গুরুত্ব পায়না। অল্প কয়েকটিই পায়। অর্থাৎ, জনতার চর্চার, তর্কের মূল বিষয় থাকে সীমিত সংখ্যক কিছু অ্যাজেন্ডা। যাকে ঘিরে মেরুকরণ তৈরি হয়। রাজনীতির দীর্ঘকালীন লক্ষ্যে তিনিই জয়লাভ করেন, যিনি নিজের অ্যাজেন্ডাকে জনতার অ্যাজেন্ডা হিসেবে তৈরি করতে পারেন (উল্টো ভাবে বলা যায়, জনতার অ্যাজেন্ডা তাঁর অ্যাজেন্ডা হয়ে ওঠে -- এর মধ্যে ডিম আগে না মুর্গি আগে, সে আলোচনায় এখানে ঢুকছিনা)। সেই অ্যাজেন্ডাকে ঘিরেই জনসমাজ এবং বাকি দলগুলি আবর্তিত হয়। পক্ষ ও বিপক্ষ নির্মিত হয়। স্বল্পমেয়াদে এটি সবসময় অ্যাজেন্ডা-রচয়িতার ভোটে জয় নির্ধারিত করে তা নয়, কখনও সখনও তিনি হেরেও যেতে পারেন, যদি মেরুকরণে উল্টো দিকের পাল্লার ওজন বেশি হয় (যদিও সাধারণভাবে সেরকম হয়না)। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জাতি ও অন্যান্য দলগুলিকে নিজের অ্যাজেন্ডার চারপাশে আবর্তিত করতে পরা সাফল্যের একটি বড়ো সোপান...

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

একটি বিভ্রান্তিকর ভাষণের নেপথ্যে

ইন্দ্রনীল চৌধুরি

... কি আশ্চর্য্য, বিমান বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যর দায় স্বীকারের কথা উঠলেই সব তছনছ হয়ে যায়, কিন্তু বাম সমর্থকদের 'প্রতিনিধি' সেজে পার্টির সাধারণ সম্পাদককে কাঠগড়ায় দার করানোটা আবার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ! নেপথ্য ভাষ্যকারকে সবিনয় অনুরোধ যে এই সুবিদাবাদী, সংকীর্ণ দলবাজির রাজনীতি এবং দ্বিচারিতা বন্ধ করুন। এতে বামপন্থার কোনো লাভই হবে না। সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক পার্টির আজ এই বিপর্যয়ের জন্য অনেকাংশেই দায়ী। তাঁর তথাকথিত 'থার্ড-ফ্রন্ট'-এর নামে মুলায়াম সিংহ-জয়ললিতার লেজুরবৃত্তিও মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁকেও যেমন এই বিপর্যয়ের দায় নিতে হবে, তেমনি এই রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, পার্টির রাজ্য সম্পাদক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও এই বিপর্যয়ের দায় মাথা পেতে স্বীকার করা উচিত। কারণ পশ্চিমবঙ্গে গত ছয় সাত বছর ধরে বামপন্থী রাজনীতির যে কদর্য অবক্ষয় আমরা দেখেছি - গায়ের জোরে জমি অধিগ্রহণ, নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলি চালানো, রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি, রিজবানুরের অপমৃত্যু, মহিলাদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য এবং সর্বপরি আক্রান্ত বামপন্থী কর্মীদের পাশে না দাঁড়াতে পারা - তার জন্য রাজ্যের বাইরের কাউকে দায়ী করা অনুচিত।...

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বস্টনে বং-গেঃ পর্ব ছয়

বর্ন ফ্রী

 এই গণেশকে সঙ্গে নিয়েই একদিন আমি পৌঁছে গেলাম স্বর্গলোকে, এবার ঠিক সময়ে। মেহফিল তখন সবে জমে উঠেছে। স্বর্গলোক দ্বিতল বিশিষ্ট। উর্ধভাগে গন্ধর্ব-কিন্নরদের নাচ, ভূ-গর্ভস্থ কক্ষে সর্বসাধারণের জন্য নৃত্যাঙ্গন। দেখলাম সেই অনিন্দ্যসুন্দর স্বল্পবসন দিব্যপুরুষদের নাচ দেখার জন্য শুধু আমরা সমকামি পুরুষরাই নই, বহু নারীরাও ভিড় জমিয়েছেন। স্টেজের ওপর নাচের সঙ্গে সঙ্গে বহু ডলারের টিপ্‌সও হাওয়ায় উড়ে চলেছে। পরে অবশ্য দেখলাম, যা কিছু নোট উড়ে চলছে তার বেশির ভাগটাই এক ডলারের নোট। 

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ আরো উদ্দাম হতে লাগলো। আমাদেরও তখন অল্প অল্প নেশা হওয়া শুরু হয়েছে। স্টেজ থেকে নেমে এসে একজন দিব্যপুরুষ আমাদের সঙ্গে এসে বসলেন। সাধারনতঃ এই সময়, আধো আলোছায়াতে, একটুকু ছোঁওয়াছুঁয়ির ফাল্গুনি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু আমার কপাল খারাপ। গণেশ আই আই টি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করে এসে এম আই টিতে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র। বামপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। অতএব ও গে বার ডান্সারদের সমাজতাত্তিক ইতিবৃত্ত জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিউটি (দিব্যপুরুষের এই নামই আমি দিয়েছিলাম) খানিকবাদে বিরক্ত হয়ে অন্য টেবিলে উঠে চলে গেল। গণেশ অবশ্য তার আগে ওর হাতে বেশ একটা ভালো টিপস দিয়ে দিল। 

 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রামচরিতমানস

সিদ্ধার্থ সেন

 রামচন্দ্র জানতেন, এবং বুঝতেন, জম্বুদ্বীপে পাকাপাকি সাম্রাজ্য বিস্তার করতে গেলে, পপুলার সাপোর্ট তাঁর দরকার। শুধুমাত্র গায়ের জোরে এই আসমুদ্র-হিমাচল দাবিয়ে রাখা বেশিদিন সম্ভব নয়। আজ লঙ্কা জয়ের দরকার হয়ে পড়েছে কারণ এই অযোধ্যাই হবে তাঁদের আর্য-সাম্রাজ্যের পরীক্ষাগার। কিন্তু দশরথ বা গৌতম মুনির মতন ওটাকেই মূল লক্ষ্য বলে রামচন্দ্র ধরে নেননি। কারণ কেউ জানুক বা না জানুক, এটা ঘটনা যে আর্যত্ব দিয়ে রামচন্দ্রের কিছু এসে যায় না। ওটা ততদিন-ই দরকার, যতদিন ক্ষমতার পক্ষে কাজ করবে। রামচন্দ্র বোঝেন ব্যবসা। ক্ষমতার ব্যবসা। যে বা যা তাঁকে ক্ষমতা এনে দেবে, তিনি তাকেই ব্যবহার করবেন। যেমন, এই মুহূর্তে, অযোধ্যার ক্ষমতায় নিজের গদি সুনিশ্চিত করতে হলে, লঙ্কা অভিযান দরকারি, আর তাই ব্যবহার্য। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রবীন্দ্রনাথ দিচ্ছে ডাক- নরেন্দ্র মোদী নিপাত যাক

সোমনাথ রায়

কিন্তু, রবীন্দ্রনাথ তো অহিংস, তিনি হঠাৎ কেন এরকম ভাবে মোদিকে আক্রমণ করবেন। এর দায় লেখকের। ডাক পাঠকের মত সেও শুনেছে। শুধোলে ঠাট্টা করে বলে, ওনার দেড়শর ওপর বয়স, এখন কি আর মুখের ভাষা ঠিক থাকে। কিন্তু সে বস্তুত বিশ্বাস করে, এ না বলে গুরুদেবের উপায় ছিল না। তিনি হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, চলমান বিশ্বযুদ্ধ দেখতে দেখতে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছেন। মুসোলিনির রাজসিক মায়াকে ঔদার্য ভেবে পরে মাথার চুল ছিঁড়েছেন। হিংসা বড় পীড়া দ্যায় তাকে। তবু সেসবই শেষ কথা নয়। দাদু উত্তরাধুনিক, সোভিয়েত পতনের পরে ক্রিশ্চান আলোকপ্রাপ্তি ছেড়ে উত্তর উপনিবেশবাদের মধ্যে ইতিহাসের আশ্রয় দেখতে পাচ্ছেন। বিশ্বনাগরিক বলে আরাফত, শ্যাভেজ, জাপাতিস্তাদেরও ঘুরে ঘুরে দেখেছেন তিনি। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর থেকে শিল্পবিপ্লবের আগ্রাসী রূপটা ক্রমশঃ প্রতীত হচ্ছে তাঁর মানসে। অরণ্য, কৃষি ধ্বংস করে পরিকল্পনাহীন ভাবে বেড়ে চলেছে কিছু উঁচু মানুষের দাবি। দরিদ্র আরও দরিদ্র হচ্ছে, এত দরিদ্র হচ্ছে যে দারিদ্রের সংজ্ঞা পালটে দিতে হচ্ছে। পৃথিবী উষ্ণতর হচ্ছে। মানুষকে বের করে আনা হচ্ছে জল-মাটি-অরণ্য-পাখি-র সংশ্লেষ থেকে। আরও একলা হচ্ছে, এলিয়েনেটেড হচ্ছে সে। আর রবীন্দ্রনাথ দেখছেন, আমাদের ঐতিহ্যে, সংস্কারে, উৎসবে মিশে আছে এর বিরোধিতার বীজ। জাপাতাদের সংগঠক জেনারেল মার্কোস বলছেন, একমাত্র ট্রাইবাল কমিউইনিটি স্ট্রাকচারেই তিনি দেখছেন আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতার শক্তি। রবীন্দ্রনাথও দেখছেন, এই হিন্দুত্বকে যা সবাইকে অমৃতের পুত্র বলে সম্বোধন করে। যা কুল-মান-এর তোয়াক্কা না করে মনের মানুষের সন্ধানে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়। যে হিন্দুত্ব দেখায়, ছোট ছোট মানুষের কাজ, তাদের অ্যাবস্ট্রাক্ট লেবার-এর সম্মেলন শতশত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-এর পরেও থেকে যায়। দুহাজার বছরের ইতিহাস পুনর্পাঠের সূত্র দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বলছেন, ইতিহাস, সমস্ত যুগে সমস্ত দেশে এক হবে এই কুসংস্কার ত্যাগ না করলেই নয়। তিনি জানেন রাজার রাজা হয়ে মানুষের বেড়ে ওঠার জন্য এই পঠনের দরকার কতটা। বিতর্কের গভীরে ঢুকে খুঁজে আনতে হবে সত্য কী, ঝড়ে বাইরের নিয়ম নড়ে যাওয়ার পর ভবিষ্যতের জন্য অটুট হয়ে কোনটা পরে থাকে।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

পাইয়ে দেবার ঘরানা

সিদ্ধার্থ বরদারাজন

"ছাড়পত্র" শব্দটা শুনতে নিরীহ মতন, আসলে এর প্রকৃত অর্থ হছে মোদীর ইচ্ছামত ধনের প্রসার যে কোনওদিকে - সমান্তরালভাবে, মাঠে ঘাটে, উল্লম্বভাবে, মাটির ওপরে বা নিচে, এবং পরোক্ষভাবে, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দাবি মেনে নেবার মাধ্যমে, ইনসিওরেন্স এবং খুচরো বিপণন ক্ষেত্রে। আর যদি পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়মকানুন, মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষিজমি বা কোনও গোষ্ঠীর অস্তিত্ব এই প্রসারণের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তা হলে তাদের ছিঁড়েখুঁড়ে উন্নয়ন নিজের রাস্তা করে নেবে, সরকারের প্রত্যক্ষ মদত এবং সহযোগিতায়। কঠোর সিদ্ধান্ত নেবার এই ক্ষমতাই মোদীকে এত জনপ্রিয় একটি আইকন করে তুলেছে ভারতীয়দের কাছে - এবং আন্তর্জাতিকভাবেও, বিশেষত বড় বড় বণিকগোষ্ঠীর কাছে। কেন এবং কীভাবে দেশের সেরা বিজনেসম্যানেরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়ে মোদীর সমর্থক হয়ে গেলেন, তা খুঁজতে গেলে ভারতীয় রাজনীতির মূলে বয়ে চলা জীবনের ছন্দের দেখা মেলে। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও দেখার বিষয় যে এই একদেশদর্শিতা এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি করেছে, তাৎক্ষণিক পাইয়ে দেবার খেলা ক্রমশ তার স্বাভাবিক সীমানা ছাড়িয়ে ফেলেছে। নিও-লিবারাল পলিসি এবং লাইসেন্স রাজ অবসানের ফলে কম্পানিগুলো যে সুবিধে ভোগ করতে শুরু করেছিল, এবং সরকারের যে লাভ হবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল কোম্পানিগুলোর থেকে, তা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। মাদ্রাজ স্কুল অফ ইকোনমিক্‌সের এন এস সিদ্ধার্থনের মতে, বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশে মুনাফা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর মাধ্যমে ঘটছে না, ঘটছে সরকারের মদতে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের প্রকাশিত রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে তিনি দেখিয়েছেন, যদিও কয়লা আর টুজি স্পেকট্রামের অ্যালোকেশনের দুর্নীতিতে কোম্পানিগুলোর প্রচুর লাভ হয়েছে, আসলে কিন্তু লাভ হয়েছে কোম্পানিগুলোর "প্রেফারেন্সিয়াল অ্যালটমেন্টে"র ফলে, যে ধরণের অ্যালটমেন্ট না হলে হয় তো কোম্পানিগুলো সাদাসিধাভাবেই ব্যবসা করতে থাকত - বড় কোনও লাভের মুখ তারা দেখত না। এই প্রাকৃতিক সম্পদ কিন্তু শুধুই কয়লা বা টুজি স্পেকট্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, এমন কি জল আর জমিও এর মধ্যে আছে। আর এই সবের মধ্যে উঠে আসছে মোদী-বিবৃত নতুন কর্পোরেট ভারতের পোস্টার বয় গৌতম আদানীর মুখ, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর উত্থানের সাথে সাথে যিনি অবিলম্বেই দেশের সর্বাধিক আলোচিত বিজনেসম্যান হিসেবে পরিগণিত হতে চলেছেন। ...

     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা